Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১৩-২০১৬

আরো ব্যাংক কর্মকর্তাদের নাম ফাঁস করলেন মায়া

আরো ব্যাংক কর্মকর্তাদের নাম ফাঁস করলেন মায়া

ম্যানিলা, ১৩ এপ্রিল- বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের আরসিবিসির আরো কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। মঙ্গলবার সিনেটের শুনানিতে ব্যাংকটির জুপিটার স্ট্রিট শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দাগুইতোর দেয়া বক্তব্যে আরো কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উঠে আসে। ফিলিপাইনের সংবাদ মাধ্যম দি ইনকোয়্যারারে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে চুরি হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার যায় ফিলিপাইনে। এ অর্থ চুরির ঘটনা তদন্তে গঠিত ফিলিপাইনের সিনেট ব্লু রিবন কমিটি গতকাল এ বিষয়ে পঞ্চম শুনানি গ্রহণ করে। এতে বরাবরের মতোই প্রধান অভিযুক্ত দাগুইতো উপস্থিত ছিলেন।

চুরি যাওয়া অর্থ দাগুইতো দ্রুতগতিতে ছাড় করেছেন, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, অর্থছাড়ে কোনো তাড়াহুড়ো করা হয়নি। বাংলাদেশের হিসাব থেকে চুরি যাওয়া ওই তহবিল ৫ ফেব্রুয়ারিই তার স্বত্বভোগীদের দিয়ে দেয়া হয়েছিল।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি তহবিল ফেরত চেয়ে (বাংলাদেশ ব্যাংকের) পাঠানো অনুরোধটি হাতে আসে। পরে দাগুইতো আঞ্চলিক বিক্রয় পরিচালক (আরএসডি) ব্রিজিত কাপেনা ও আরসিবিসির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইভিপি) রাউল তানকে বার্তাটি সম্পর্কে অবহিত করেন। কিন্তু সমস্যাটি জানা সত্ত্বেও তারা ডলার লেনদেন অব্যাহত রাখেন বলে দাবি করেন মায়া দাগুইতো।

দাগুইতো বলেন, ব্যাংকের সেটেলমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (বিলিবণ্টন বিভাগ) থেকে কোনো যোগাযোগ ছাড়াই এত বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স ছাড় করায় আমি সত্যিই খুব বিস্মিত হয়েছিলাম।

কারণ আগের ব্যাংকগুলোয় (দাগুইতো এর আগে ইস্টার্ন ব্যাংকে শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন) বড় কোনো তহবিল ছাড়ের ক্ষেত্রে সেটেলমেন্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে আমাকে অবহিত করা হতো।

সেক্ষেত্রে রেমিট্যান্সের অনুকূলে প্রামাণ্য নথিপত্র চাওয়া হতো। কিন্তু এক্ষেত্রে হঠাত্ করেই অ্যাকাউন্টের অর্থ ছাড় করা হয়। তারা আমাকে জানিয়েছিল যে, ওই অর্থছাড়ের নির্দেশদাতা তাদের চেয়েও ক্ষমতাবান।

দাগুইতো জানান, ওই অর্থ স্বত্বভোগীদের কাছে ছাড় করার পরও তিনি ব্যাংকের সিনিয়র কাস্টমার রিলেশন অফিসার (এসসিআরও) এঞ্জেলা তোরেসকে বিলিবণ্টন বিভাগে ই-মেইলের মাধ্যমে একটি অগ্রিম ‘এমটি ১০৩’ বিবরণী চাওয়ার নির্দেশ দেন।

ব্যাংক খাতে এমটি ১০৩ কোডসংবলিত বিবরণীতে লেনদেন-সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য থাকে। এসব তথ্যের মধ্যে মোট অর্থের পরিমাণ, প্রেরক, স্বত্বভোগী ও লেনদেনের কারণ উল্লেখযোগ্য। দাগুইতোর মতে, ওই ই-মেইল বিলিবণ্টন বিভাগে বেলা ২টার দিকে পাঠানো হয়। কিন্তু এর উত্তর আসে সন্ধ্যা ৬টায়।

ওই অর্থ স্থানান্তরের কয়েক ঘণ্টা পর দাগুইতোকে জাংকেট অপারেটর (প্রমোদ ভ্রমণ ও জুয়ায় অর্থ লগ্নিকারী) কিম অং ফোনে ডলারগুলো রূপান্তর করে ব্লুমবেরি হোটেলস ইনকরপোরেশন (সোলেয়ার রিসোর্ট) ও ইস্টার্ন হাওয়াই লেইজারে পাঠানোর নির্দেশনা দেন।

দাগুইতো বলেন, এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি বিকালে ব্যাংকের জেলাপ্রধান নেস্তর পিনেদার কাছ থেকে একটি ফোন আসে। ফোনে তিনি অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে জানতে চান। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কি রেমিট্যান্সের জন্য অপেক্ষা করছ? আমি দীর্ঘদিন ধরেই শাখায় বড় কিছুর জন্য অপেক্ষা করছি বলে উত্তর দিই।

কিন্তু আমি এটা বলিনি যে, আমি এটি নিজের জন্য চাইছি। আমি শুধু একটি অ্যাকাউন্ট চেয়েছিলাম। আর অং আমাকে ওইসব অ্যাকাউন্টের জন্য সুপারিশ করেন।’

দাগুইতো বলেন, তার পর তিনি আমাকে ওই অ্যাকাউন্টটি সাময়িক স্থগিত করার অনুরোধ করেন। আমি তার কাছ থেকে এ অনুরোধসংবলিত একটি ই-মেইল চাই। তবে তিনি আমাকে কোনো ই-মেইল দেননি। এর পর আমি পিনেদার অনুরোধ সম্পর্কে কাপেনাকে জানাই। কাপেনা তখন তহবিল দ্রুত ছাড়করণের কারণ জানতে চান।

৯ ফেব্রুয়ারি বিলিবণ্টন বিভাগ থেকে তহবিল ফেরত চেয়ে দাগুইতো একটি ই-মেইল পান। কিন্তু ততক্ষণে অ্যাকাউন্টধারীরা বেশকিছু লেনদেন করে ফেলেছে। এ ই-মেইল পাওয়ার পর দাগুইতো সঙ্গে সঙ্গে ব্রিজিত কাপেনা ও নেস্তর পেনিদাকে অবহিত করেন। সে সময় পেনিদার পাশে রাউল তান উপস্থিত ছিলেন।

দাগুইতো বলেন, পুরো বিষয়টি তানকে জানানোর পর তিনি বলেন, এটি আমাদের সমস্যা নয়। এটি বাংলাদেশের সমস্যা। আমি অর্থছাড়ে কোনো তাড়াহুড়ো করিনি। ব্যাংক থেকে কোনো নগদ অর্থ উত্তোলন করা হয়নি। তার দিক থেকে কর্তব্যে কোনো অবহেলা করা হয়নি বলেও এ সময় তিনি দাবি করেন।

চুরি যাওয়া অর্থের হদিস জানেন দাবি করে দাগুইতো বলেন, ওই অর্থ এখনো উইলিয়াম গো ও ফিলরেমের কাছে আছে। তারা এ বিষয়ে আরো বেশি কিছু করতে পারে বলে এখনো আমি বিশ্বাস করি। প্রসঙ্গত, চুরি যাওয়া ওই অর্থ মুদ্রা রূপান্তরকারী প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের মাধ্যমে বিভিন্ন হাতে পৌঁছে।

সূত্র : বনিকবার্তা।

এফ/১১৬:০২/১৩ এপ্রিল

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে