Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-১৩-২০১৬

হারিয়ে যাচ্ছে নববর্ষে কাগুজে শুভেচ্ছা

ফররুখ বাবু


হারিয়ে যাচ্ছে নববর্ষে কাগুজে শুভেচ্ছা

ঢাকা, ১৩ এপ্রিল- মোবাইলফোনের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা পাঠানোর কারণে বর্তমানে প্রায় হারিয়েই যাচ্ছে কাগুজে ছাপা শুভেচ্ছা কার্ড। শুধু মোবাইলই নয় বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমেও পাঠানো হচ্ছে এ শুভেচ্ছা বার্তা। রাত পোহালেই বাংলা নববর্ষ। অনেকেই এর মধ্যে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানোর কাজও সেরে ফেলছেন।

বাংলাদেশের মানুষের সার্বজনীন ও সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক একটি লোকজ উৎসব পহেলা বৈশাখ। বাঙালি ঐতিহ্যেরও প্রধান অনুষঙ্গ। নানা আয়োজনে এ দেশের মানুষ মেতে ওঠে এ বৈশাখকে কেন্দ্র করে। পহেলা বৈশাখে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য একে অপরকে বিনিময় করতো নানা ধরনের কার্ড বা শুভেচ্ছা বার্তা। যা বর্তমানে বিলিনের পথে।

কিছু সংখ্যক মানুষ ছাড়া কাগজের শুভেচ্ছা বার্তা বর্তমানে অনেকেই দেন না। কার্ড ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলানিউজকে জানায়, মোবাইলে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমেই সেরে নেন দাওয়াতের পর্বটি। এখন আর আগের মতো বৈশাখের কার্ড বিক্রি হয়না।  

দেশের প্রথম সারির মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান পল্টন মোরের আজাদ প্রোডাক্টসের আলী আজাদ জানান, সরকারি অফিস ও নামকরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া এখন আর কেউ কার্ড কিনেন না। সাত থেকে আট বছর আগেও প্রেমিক- প্রেমিকারা বৈশাখের শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য কার্ড কিনতে আসতেন।


কার্ড বিক্রেতার সঙ্গে আলোচনার এক পর্যায়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রিয়াজ আসেন বৈশাখী শুভেচ্ছার কার্ড কিনতে।  কার্ড কেনার বিষয়ে আলাপ করতেই তিনি বলেন, আত্মার সম্পর্ক থাকলেই কার্ড আদান- প্রদান হয়। মোবাইলে বা ফেসবুকে শুভেচ্ছা পাঠানো একটা দায়সারাভাব। কমার্শিয়াল চিন্তা থেকে মোবাইলে শুভেচ্ছা পাঠানো যায় না।

রাজধানীর মৌচাক, মালিবাগ ও বেইলীরোড এলাকায় বৈশাখের শুভেচ্ছা কার্ড কেমন বিক্রি হচ্ছে খোঁজ নিয়ে  জানা যায়, প্রায় চারটি দোকানে কোনো বৈশাখী কার্ড নেই। আর এসব দোকানের যেসব কার্ড রয়েছে তা ইংরেজি নববর্ষের।

বেইলী রোডের বিদ্যা বিতানে বৈশাখী শুভেচ্ছা কার্ডের খোঁজ নিতেই পল্টন মোড়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন বিক্রেতারা। দোকানের মালিক মো. মহাসিন বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে কয়েক বছর আগে নানা ধরনের শুভেচ্ছা কার্ড রাখতাম। এখন আর কেউ কার্ড কিনেন না, তাই রাখি না।


কেন কিনেন না  জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাই মোবাইলে নবর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। যে জন্য কেউ কার্ড কিনতে চান না। তিনি জানান, প্রায় সাত বছর আগেও বিভিন্ন বয়সের মানুষের ভিড় পরতো তার দোকানে। আর এখন কেউ কার্ড কিনতে আসেন না।

দোকানে কলম কিনতে আসা পঞ্চাশ বছর বয়সী কমল চৌধুরীর সঙ্গে বৈশাখী কার্ড বিনিময় প্রসঙ্গে কথা বলতেই তিনি বলেন, কাগজে ছাপানো চিঠি আদান- প্রদান হতো আমাদের সময়। ব্যবসায়ীরা কার্ডের মাধ্যমে সবাইকে নতুন বছরের আমন্ত্রণ জানাতেন। দোকানপাট ও প্রতিষ্ঠান সাজানো হত নানা ফুলে।

এদিকে পল্টন এলাকার প্রিন্টিং ব্যবসায়ীদের বিক্রি ভালো হচ্ছে। তারা জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ কিছু ব্যবসায়ীরা বৈশাখী শুভেচ্ছা কার্ডের অর্ডার দিয়েছেন। কিন্তু তরুণ-তরুণীরা এখন আর কার্ড কিনেন না।

এফ/০৯:১৯/১৩ এপ্রিল

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে