Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.1/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১২-২০১৬

হেলে পড়া বহুতল ভবনে বাঁশ ঠেকা দিয়ে গার্মেন্ট

হেলে পড়া বহুতল ভবনে বাঁশ ঠেকা দিয়ে গার্মেন্ট
এভাবে হেলে পড়েছে ভবনটি

ঢাকা, ১২ এপ্রিল- রাজধানীর বিজয় সরণি ফুটওভার ব্রিজ সংলগ্ন ‘সুপার মার্কেট’ নামের একটি ৬তলা ভবনের একাংশ ভয়ঙ্করভাবে হেলে পড়েছে। কিন্তু তাতে ভ্রুক্ষেপ করছে না কর্তৃপক্ষ। বাঁশ দিয়ে ঠেকা দিয়ে চলছে গার্মেন্ট কারখানার কাজ। আতঙ্কগ্রস্ত চারশ গার্মেন্ট কর্মীকে ষষ্ঠ তলায় বলপূর্বক কাজ করানো হচ্ছে। পেটের দায়ের জীবন হাতে নিয়ে কাজ করছেন তারা। আপত্তি জানালে বেতন না দেয়ার হুমকি দিচ্ছে মালিক।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সরেজমিনে কন্টিনেন্টাল নামে ওই গার্মেন্ট কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, তাড়াহুড়ো করে ঝুঁকিপূর্ণ অংশের মালামাল পুরুষ শ্রমিকদের দিয়ে সরানো হচ্ছে। আর নারী শ্রমিকদের দিয়ে করানো হচ্ছে নিয়মিত কাজ।

ভবন হেলে পড়েছে কি না- গার্মেন্টের ম্যানেজার আশরাফ হোসেনের কাছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘সকালে আমাদের ইঞ্জিনিয়ার এসেছিলেন। উনি সবকিছু ঘুরে দেখে ভবনের একটি অংশ ঝূকিপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। ওনার নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ভবনের ওই অংশের মালামাল সরিয়ে নিয়ে অন্য অংশে রাখছি।’

একাংশ ভেঙে পড়লে অন্য অংশ কি ঠিক থাকবে? এমন প্রশ্নে থতমত খেয়ে যান আশরাফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘তা না। আপাতত সরিয়ে নিচ্ছি। পরে রাজউকের বিশেষজ্ঞদলের আসার কথা রয়েছে। দেখি তারা কি বলে।’ অবশ্য রাজউকের বিশেষ দল ভবনটি পরিদর্শনের যাওয়ার কথা থাকলেও আর যায়নি।

শ্রমিকদের মাল সরানোর ফাঁকে কৌশলে অন্য কয়েক জন শ্রমিকের সহায়তা নিয়ে ভবনের ছাদে গিয়ে দেখা যায়, পাশের ভবনের উপর প্রায় এক হাত পরিমাণ হেলে পড়েছে। হেলে পড়া অংশে বাঁশ দিয়ে ঠেকা দেয়া হয়েছে। পরে ওই শ্রমিকদের পরামর্শে ভবনের নিচে গিয়ে হেলে পড়ার দৃশ্যটি আরো পরিষ্কারভাবে বুঝা গেল।

ওই গার্মেন্টের কর্মী রানী আক্তার (ছদ্মনাম) বললেন, ‘এইডা অ্যাজকা না, তিন চার মাস আগেই হেইলা পড়ছে। আমরা বারবার বলি, কিন্তু আমাগো কথা হেরা কানেই নেয় না। উল্টো ঝাড়ি দিয়ে বলে, তোমরা আইছো কাম করনের লাইগা, এই সব দেখার লাইগা না।’

রানী আক্তারের পাশে আরো এক নারী শ্রমিক ছিলেন, তিনিই মূলত ওই ভবন খুঁজে পেতে সাহায্য করেন। তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টে ঢুকলেই বুকের ভেতর কাঁপতা থাকে। মনে হয়, এই বুঝি ভাইঙা পড়বো। কিন্তু কি করমু কন, কাম না করলে ম্যানাজার কইসে বেতনও দিব না। এই মাসের বেতনডা পাইলেই চইলা যামু।’

এমন অবস্থা শুধু এই দু’জনের নয়, ওই গার্মেন্টে কর্মরত চারশ’ শ্রমিকের। তাদের সবার চোখেই আতঙ্কের ছায়া দেখা গেল। আর ভবনটি উপরের দুটি তলায় হওয়ায় হেলে পড়াটা দৈনিকই দেখতে হয় শ্রমিকদের।

এ বিষয়ে তেজগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজারুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা দুপুরেই গার্মেন্ট বন্ধ করে দেয়ার জন্য বলেছি। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্সও মোতায়েন করেছি। গার্মেন্টের ম্যানেজার বলেছিল, খুব দ্রুতই তারা শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে গার্মেন্টটি আপাতত বন্ধ করে দিবে।’

পুলিশের সঙ্গে কথার বলার পর ওই ভবনের ম্যানেজার রফিকের সাথে দেখা করার চেষ্টা করলেও তার কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। মার্কেটের এক দোকানদার বলেন, ‘মার্কেটের মালিক নাজিম সাব, থাকেন গুলশানে। তিনি এখানে খুব একটা আসেনও না।’

ভবনটির প্রবীণতম সিকিউরিটি গার্ডের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে সুপার মার্কেট নামের এই ভবনটি উদ্বোধন করা হয়।

এফ/২৩:২০/১২ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে