Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.1/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১২-২০১৬

ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্সরে ও প্যাথলজির পরীক্ষা করেন ঝাড়ুদার! (ভিডিও সংযুক্ত)

সীমান্ত খোকন


ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্সরে ও প্যাথলজির পরীক্ষা করেন ঝাড়ুদার! (ভিডিও সংযুক্ত)

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ১২ এপ্রিল- ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঝাড়ুদারকে দিয়ে এক্সরে ও প্যাথলজির পরীক্ষা করানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে করে ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।

শহরের সদর হাসপাতালের সামনে মর্ডান এক্সরে ও প্যাথলজি ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটছে। শুধৃু তাই নই, এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে নেশায় আসক্তদের কাছ থেকে কম দামে রক্ত সংগ্রহ করে রোগীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করারও অভিযোগ রয়েছে।

তা ছাড়া সদর হাসপাতালের অধিকাংশ দালাল মোটা কমিশনের বিনিময়ে এখানেই বেশি রোগী নিয়ে আসেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, ডাক্তারের পরামর্শ মতে ডিপ্লোমাধারী ব্যাক্তিই কেবল রোগী চিকিৎসার ক্ষেত্রে সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করার কথা। কিন্তু এখানে হচ্ছে এর ব্যাতিক্রম। খোজ নিয়ে জানা যায়, মর্ডান এক্সরে ও প্যাথলজি ক্লিনিকে আজিজুল হক নামে মাত্র একজন ডিপ্লোমাধারী ব্যাক্তি নিয়োজিত আছে। ইতোপূর্বে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে মেডিক্যাল টেকনোলজিষ্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মূলত কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। কিন্তু আজিজুল হক প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হওয়ায় তাকে দিয়ে কোন পরীক্ষার কাজ করানো হয় না। সমস্ত পরীক্ষার কাজ করেন ঝাড়ুদার ও সার্টিফিকেটবিহীন লোকেরা। তারা পরীক্ষার কাজ শেষে রিপোর্টের মধ্যে শুধু ওই ডিপ্লোমাধারী ব্যাক্তিকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঝাড়ুদার কনিকা দাস, গৌরি দাস ও নার্গিস আক্তারসহ আরও অনেকে ক্লিনিকে ঝাড়ু দেন, আবার কোন রোগী আসলে তখন ঝাড়ু রেখে তারা রোগীকে নিয়ে পরীক্ষাগারে ঢুকছেন। পরে তারাই আবার পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করছেন। পরে ঝাড়ুদাররা ওই ডিপ্লোমাধারী ব্যাক্তির কাছে গিয়ে তাকে দিয়ে রিপোর্টে স্বাক্ষর করিয়ে নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষাটি কতটা সঠিক হল এ বিষয়টি দেখার কেউ নেই। এভাবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই চলছে শহরের সবচেয়ে পুরাতন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ‘মর্ডান এক্সরে ও প্যাথলজি ক্লিনিক’র সকল কার্যক্রম।

কসবা উপজেলার বায়েক গ্রামের শাহানা বেগম জানান, তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। সেখানে ডাক্তার দেখান তিনি। ডাক্তার তার প্রেসক্রিপশনে কিছু পরীক্ষা লিখে দিয়েছেন। পরে এক দলাল পরীক্ষা করানোর জন্য শাহানাকে মর্ডান এক্সরে ও প্যাথলজি ক্লিনিকে নিয়ে আসেন। সেখানে এক মহিলা তাকে ইসিজি পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেন। পরে ওই ডাক্তার রিপোর্টের ফলাফল দেখে সন্দেহ করেন। তখন ডাক্তারের পরামর্শে রোগী শাহানা বেগম অন্য দুই জায়গায় একই পরীক্ষা করান। তখন ডাক্তার শাহানা বেগমকে বলেন, মর্ডানের পরীক্ষাটি ভুল ছিল।

এ বিষয়ে মর্ডান এক্সরে ও প্যাথলজি ক্লিনিকের মালিক জসিম উদ্দিন ঝাড়ুদারকে দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর বিষয়টি স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, লোকবল সঙ্কট থাকায় আমরা মাঝে মধ্যে ঝাড়ৃদারকে দিয়ে কাজ করাচ্ছি। তিনি বলেন, ঝাড়ুদার যদি পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করতে পারে তাতে সমস্যা কি? তবে এই বিষয়টি বেআইনি বলেও তিনি স্বীকার করেন।

‘ঝাড়ুদারকে দিয়ে সবসময় কাজ করাচ্ছেন এর প্রমাণ আছে’ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

নেশায় আসক্তদের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহের ব্যাপারে জসিম বলেন, আমরা সবার কাছ থেকেই রক্ত সংগ্রহ করি। এর মধ্যে কেউ নেশাগ্রস্ত কিনা সেটা আমাদের চেনার উপায় বা খোজ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কিছুটা বেশি দামে রক্ত বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন তিনি। জানা গেছে তার রক্তের গ্রাহক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সর্বত্র। এ ক্ষেত্রেও তার নিজস্ব দালাল চক্র রয়েছে।

এ বিষয়ে রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ হাসিনা বেগম জানান, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঝাড়ুদার বা বিনা সার্টিফিকেটধারী কোন ব্যাক্তিকে দিয়ে প্যাথলজিক্যাল টেস্ট ও আনুষাঙ্গিক যে কোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো সম্পূর্ণ অবৈধ। কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ রকম কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আর/১৭:০৪/১২ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে