Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-১২-২০১৬

ড্রেজার না দিয়েই ৩০০ কোটি টাকা নিয়ে গেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান

রতন বালো


ড্রেজার না দিয়েই ৩০০ কোটি টাকা নিয়ে গেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান

ঢাকা, ১২ এপ্রিল- কার্যাদেশের ৫০ মাসেও ড্রেজার বুঝিয়ে দেয়নি সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান। আনুষ্ঠানিক চুক্তি অনুয়ায়ী, কার্যাদেশ পাওয়ার ৭ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ড্রেজার এবং আনুসাঙ্গিক যন্ত্রাংশ সরবরাহের কথা। এসময়ে কার্যাদেশ দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে দরপত্রে উল্লেখিত টাকার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ তুলে নিয়ে গেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।  

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ড্রেজার সরবরাহের কার্যাদেশ দেখিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আনন্দ শিপইয়ার্ড জনতা, মার্কেন্টাইল ও ওয়ান ব্যাংক থেকে ৪০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা পরিশোধ করেনি। 
 
অভ্যন্তরীণ নৌ-পথের নাব্যতা ঠিক রাখতে ২০১২ থেকে নদী খননের জন্য ড্রেজার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় ৬টি ড্রেজার, ওয়ার্কবোট, হাউজ বোট, টাগবোট সংগ্রহের জন্য জেবি এলিকট আনন্দ শিপইয়ার্ডের সঙ্গে পৃথক দরপত্রের আওতায় ৪টি চুক্তি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

প্রথম চুক্তি হয় ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি যার কনট্রাক্ট নম্বর ০২/পিওডি-১/এলওটি-২। এ চুক্তিতে বলা হয়েছে,  ১৯১ কোটি ৬৬ লাখ ৪২ হাজার ৭৩৫ টাকা ৮৯ পয়সা মূল্যে ২টি ২৬ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার, ২টি ওয়ার্ক বোর্ড, ২টি হাউজ বোর্ডসহ নদী খননে আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ১৮ মাসের মধ্যে সরবরাহ করবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সেখানে ৫০ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো যন্ত্রপাতি বুঝিয়ে দেয়নি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জেবি এলিকট আনন্দ শিপইয়ার্ড।

দ্বিতীয় চুক্তি হয় ২০১২ সালের ২২ মে যার কনট্রাক্ট নম্বর-০৩/পিওডি-১/এলওটি-৩। এ চুক্তিতে ১৯১ কোটি ৬৬ লাখ ৪২ হাজার ৭৩৫ টাকা ৮৯ পয়সার ৩টি টাগবোর্ডসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ করবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। টাগবোর্ট ৭ মাসের মধ্যে আর আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ ১০ দিনের মধ্যে সরবরাহ করা কথা। সেখানে ৪৭ মাস বেশি অতিক্রম করেছে। 

তৃতীয় চুক্তি হয় ২০১৩ সালের ২৩ জানুয়ারি যার কনট্রাক্ট নম্বর ০৫/পিওডি-৩। এ চুক্তিতে ৫৫ কোটি ৩১ লাখ ৬২ হাজার ৬৫৬ টাকা ৪৮ পয়সার ২টি কাটার সাকশন ড্রেজারসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করার কথা। চুক্তি অনুযায়ী, ৭ মাসের মধ্যে সরবরাহ করবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সেখানে ৪০ মাস বেশি অতিক্রম করেছে। 

চতুর্থ চুক্তি হয় ২০১৩ সালের ১৬ এপ্রিল যার কনট্রাক্ট নম্বর-০৬/পিওডি-২/এলওটি-১। সর্বশেষ এ চুক্তিতে ১০৮ কোটি ৩৬ লাখ,৩৬ হাজার ৩৩৩ টাকা ৪ পয়সার ২টি ড্রেজার, ২টি ওয়ার্ক বোট, ২টি হাউজ বোটসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে ১৮ মাস সময় বেধে দেয়া হয়। কিন্তু সেখানে ৩৬ মাস অতিক্রম করেছে। এ পর্যন্ত কোন ড্রেজার, হাউজ বোট, টাগবোট সরবরাহ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। 

কর্মকর্তারা জানান, উল্লেখিত এসব যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করে চুক্তির পর থেকে এ পর্যন্ত দরপত্রের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ টাকা তুলে নিয়ে গেছে ঠিকারদার প্রতিষ্ঠান এলিকট আনন্দ শীপইয়ার্ড। সব মিলে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। বিপুল অংকের এ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে তুলে নিতে সহায়তা করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা। 

কাজের কার্যাদেশ দেখিয়ে জনতা, মার্কেন্টাইল এবং ওয়ান ব্যাংক থেকেও ৪০০ কোটি ঋণ নিয়েছে আনন্দ শিপইয়ার্ড। দীর্ঘ এ সময়ে ঋণের এ টাকাও পরিশোধ করেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, এ পর্যন্ত যে টাকা তুলে নেয়া হয়েছে তা ব্যাংকে গচ্ছিত থাকলে শতকরা ১৪ শতাংশ সুদ হিসাবে দুই বছরে সরকারের ফান্ডে প্রায় ১ কোটি টাকা জমা হতো।  

আনন্দ শিপইয়ার্ডের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ  রয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই ১৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। ওইসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের টাকাও ঠিকমতো পরিশোধ করছে না প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়মের এসব ভয়াবহ তথ্য উঠে আসার পর তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ ব্যাপারে জেবি এলিকট আনন্দ শিপ ইয়ার্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহেল বারির সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার নয়াপল্টন কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।তবে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান তার ( বারি) পিএস ফরিদ বক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য।

৬ এপ্রিল ফরিদ বক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্যারের কাছে আপনার কথা বলবো। পরে কথা বলবেন বলে জানান। কিন্তু চার দিন অতিবাহিত হলেও তিনি আর এ ব্যাপারে কিছুই জানাননি। আব্দুল্লাহেল বারির ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাও বন্ধ পাওয়া যায়। 

চার দিন পর (১০ এপ্রিল) আবার ফরিদ বক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্বাহী পরিচালক তারিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। যোগাযোগ করা হলে তারিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কাজ করে বিল জমা দিয়ে টাকা তুলেছি। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ২টি ড্রেজার আমরা সরবরাহ করেছি। যা এখন সিরাজগঞ্জে কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ কর্মকর্তা আরো জানান, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছি। দুদুকে মামলা হয়েছে এ কথাও তিনি স্বীকার করেন। একটি প্রতিষ্ঠান আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ করার জন্য নানাভাবে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী  (ড্রেজিং পরিদপ্তর) ও প্রকল্প পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি গত ২০ আগস্ট এখানে এসেছি। তবে খোঁজ খবর নিয়ে যতটুক জেনেছি, দেশের বাইরে থেকে ড্রেজারের পাইপসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি আনতে হয়, সে কারণে আগেই টাকা তুলতে পারে।’

তিনি শুনেছেন চারটি চুক্তির মধ্যে চতুর্থ চুক্তিপত্র বাতিল করা হয়েছে। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হয়তো কোন কাজ করতে পারেনি। এ চুক্তিতে ১০৮ কোটি ৩৬ লাখ,৩৬ হাজার ৩৩৩ টাকা ৪ পয়সার ২টি ড্রেজার, ২টি ওয়ার্ক বোট, ২টি হাউজ বোটসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে ১৮ মাস সময় বেধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে ৩৬ মাস বেশি সময় পার করেছে।’ সে কারণে হয়তো চুক্তিপত্র বাতিল হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।  

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর (ড্রেজিং পরিদপ্তর) এর কাছ থেকে জেনে জানাবেন বলেছেন। কিন্তু রোববার পর্যন্ত কোনো কিছুই জানাননি। এমনকি পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে