Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১২-২০১৬

পানামা পেপার্স প্রকাশ ‘জনস্বার্থে’

পানামা পেপার্স প্রকাশ ‘জনস্বার্থে’

বার্লিন, ১২ এপ্রিল- কীভাবে বেরিয়ে এল তা না জানার দাবি করলেও জার্মান সংবাদপত্র ‘জুডডয়েচে সাইটুং’র সম্পাদক বলেছেন, ‘জনস্বার্থেই’ তারা মোস্যাক ফনসেকার নথিগুলো ফাঁস করেছেন।

পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় এবং একজন সরকারপ্রধানের পতন ও অনেকের চাপে থাকার মধ্যে সংবাদপত্রটির সহ-প্রধান সম্পাদক ভুলফগ্যাং ক্রাখ একথা বলেছেন।

‘জুডডয়েচে সাইটুং’ এর সাংবাদিকরা মোস্যাক ফনসেকার মাধ্যমে অফশোর লেনদেন সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি পাওয়ার পর তা ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্শিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নারিস্টকে দেয়।

তাদের মাধ্যমে তা প্রকাশ হলে বেরিয়ে আসে, বিশ্বের ধনী আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা কোন কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে কীভাবে গোপন সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

গত ৪০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি রাজনীতিবিদসহ তাদের ক্ষমতাশালী মক্কেলদের কীভাবে অর্থ পাচারে সহযোগিতা করেছে, নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর এবং কর ফাঁকি দেওয়ার পথ দেখিয়েছে, সেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এসব নথিতে। এতে করে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন ওইসব ব্যক্তিরা।

এসব নথি ফাঁসের পর জনদাবির মুখে ইতোমধ্যে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ড গুনলাগসন পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।এছাড়া দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের চিলি চ্যাপ্টারের প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।

ভুলফগ্যাং ক্রাখের বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জন ডো’ নামে নিজেদের পরিচয় দেওয়া একটি সূত্র প্রায় এক বছর আগে মোস্যাক ফনসেকার অভ্যন্তরীণ এ তথ্য প্রকাশের প্রস্তাব দিয়ে পত্রিকাটির সঙ্গে যোগাযোগ করে। ‘জুডডয়েচে’ এসব নথিপত্র প্রকাশের আগে এর সবগুলো সত্য কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন অনুধাবন করে অন্যান্য গণমাধ্যম সংস্থাগুলোর কনসোর্শিয়ামের সঙ্গে কাজ শুরু করে।

ক্রাখ জার্মানির মিউনিখ থেকে টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেন, ‍“আমরা জানি না কীভাবে এই সূত্রটি তথ্য নিয়ে এসেছিল। মোস্যাক ফনসেকা দাবি করছে, তারা হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন, আমি জানি না, এটা সত্যি কিনা। আমি এটা নিশ্চিত করতে পারব না।”

মোস্যাক ফনসেকা ‘গোপনীয়তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক একটি প্রচারণা’র শিকার হয়েছে দাবি করে তাদের কার্যক্রমে কোনো ধরনের অসততার কথা অস্বীকার করেছেন আইনি সেবাদাতা এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান।

এসব নথির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জনস্বার্থের দিকটি থেকে তথ্যেগুলোর উৎসকে ‘কম গুরুত্বপূর্ণ’ বলে করেন ‘জুডডয়েচে সাইটুং’র কো-এডিটর ইন চিফ ভুলফগ্যাং ক্রাখ।

তিনি বলেন, ‍“আমরা জানি না ওই উৎস আইন মেনে নাকি বেআইনিভাবে এসব নথি হাতে পেয়েছে। আমরা বলতে পারব না। “আমাদের হাতে আসা তথ্য বিশ্বাসযোগ্য কি না এটাই ছিল প্রথম প্রশ্ন, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। আর দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল, এটা প্রাসঙ্গিক যা আমরা তা প্রকাশ করতে পারি?”

ক্র্যাখ বলেন, জুডডয়েচে হাজার হাজার নথির তথ্য যাচাই করে দেখেছে। এতে পানামা পেপারস ‘সঠিক নাও হতে পারে’-এমন সন্দেহ বাতিল হয়ে যায়। “যদি প্রশ্ন হয়, এসব নথি কি আসলেই ঠিক? হ্যাঁ, এগুলো আসলেই ঠিক।”

তবে কিছু তথ্যে জনস্বার্থের বিষয়টি না থাকলেও বেশিরভাগেরই রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‍“এসবের কিছু কিছু ক্ষেত্রেই আমরা প্রতিবেদন করেছি।”

যদি উৎসটি এসব তথ্য মোস্যাক ফনসেকা থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে এনে থাকে তাহলে এ বিষয়ে তার কী প্রতিক্রিয়া হবে- রয়টার্সের এ প্রশ্নে ক্রাখ একে ‘বায়বীয় প্রশ্ন’ মন্তব্য করে যুক্তরাষ্ট্রের কন্ট্রাকটর এডওয়ার্ড স্নোডেনের তথ্য ফাঁসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

এফ/০৯:১২/১২ এপ্রিল

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে