Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-১১-২০১৬

দুর্নীতির আখড়া বিআরটিসি, দায়িত্বশীলদের অর্থের পাহাড়

দুর্নীতির আখড়া বিআরটিসি, দায়িত্বশীলদের অর্থের পাহাড়

ঢাকা, ১১ এপ্রিল- বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ২১টি ডিপো এখন দুর্নীতির একমাত্র কেন্দ্রস্থলে পরিনত হয়েছে। আর দুর্নীতির মূলহোতা হচ্ছেন ডিপোর ম্যানেজার, এমনটা জানিয়েছেন খোদ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শুধু তাই নয়, অর্থের অভাবে যে বিআরটিসির সেই ২১টি ডিপো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে তা জানতেনই না মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি দূর হলেই বিআরটিসির উন্নতি হবে।’

সোমবার দুপুরে বিআরটিসির কার্যালয়ে ডিপো ম্যানেজার ও সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী এ কথা বলেন। ডিপো ম্যানেজারদের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থের অভাবে ডিপোগুলোতে বাস মেরামত করা যাচ্ছে না, এ খবর আমরা জানতাম না। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলবে এটা তো প্রত্যাশিত নয়। এতো খাটাখাটি করছি কিন্তু রেজাল্ট পাচ্ছি না। জনগণ যদি রেজাল্ট না পায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানের শুদ্ধতা থাকে না।’

মন্ত্রী কমলাপুর ডিপো ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আনিত একটি আভিযোগ পাঠ করে শুনান। আর এ অভিযোগে বলা হয়েছে, বসে থাকা গাড়িকে চলাচল দেখিয়ে বিল করা, পুরাতন মবিল দেখিয়ে নতুন মবিলের বিল, নিম্নমানের টায়ার সংগ্রহ করে বেশি দামের বিল করে অর্থ আদায় করেন তিনি। ১৫ হাজার টায়ারের বিল করা হয়েছে ২১ হাজার করে। এসব বিল ঠিকঠাক রাখার জন্য স্টোরে তার আত্মীয়কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এসব দুর্নীতি করে অর্থের পাহাড় গড়ে তুলেছেন কমলাপুর ডিপোর ম্যানেজার।

মন্ত্রী এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন। শুধু কমলাপুর ডিপো ম্যানেজার নয়। ২১টি ডিপো ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতেও বলা হয়েছে। তিনি বলেনৈ, ‘তদন্ত প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হলে দুদুক দিয়ে তদন্ত করানো হবে। কারণ এ ধরনের দুর্নীতির সব দায়ভার আমার উপরেই বর্তায়। এটা আমি হতে দিতে পারি না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এসব ডিপো ম্যানাজারদের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে ২৫ কোটি টাকার ৫০টি ভলবো বাস অচল হয়ে গেছে। মেরামত করে চালানোর জন্য ট্রেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ঠিকাদারের সাড়া নেই। ফলে ৫০টি বাসই আজ বিআরটিসির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বিআরটিসি বাস অপরিষ্কার, অপরিচ্ছন্ন ও অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘অনেক গাড়িতে ফ্যান লাইন নেই। নারীদের উঠতে দেয়া হয় না। সকালের দিকে দু’একটি টিপ দিয়ে বিকেলে ইজারাদারদের হাতে তুলে দেয় ডিপো ম্যানেজাররা। সব সমস্যা ডিপোর মধ্যেই। এটা হতে দেয়া হবে না। কেউ বিআরটিসিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

মন্ত্রী কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় দু’টি বিআরটিসি বাস দেয়ার জন্যও চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন। সঙ্কট দূর করতে ৬০০টি বাস এবং ৫০০টি ট্রাক সংগ্রহ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘ডিপিপি তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন হলে ট্রেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এই ৬০০ বাসের মধ্যে ২০০ দোতলা আর ২০০ সিংগেল বাস রয়েছে। ২০০ সিংগেল বাসের মধ্যে ১০০ দূর পাল্লা ও ১০০ রাজধানী শহরে আগামী বছর থেকে চলাচল করবে বলে আশা করা যায়।’

আর/১৭:৩২/১১ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে