Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১১-২০১৬

দক্ষ জনবলের অভাবে ব্যাহত নদীখনন!

দক্ষ জনবলের অভাবে ব্যাহত নদীখনন!

ঢাকা, ১১ এপ্রিল- দক্ষ জনবলের অভাবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) হাজার কোটির টাকায় কেনা ১৪টি খননযন্ত্র পুরোদমে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। এসব খননযন্ত্র চালাতে প্রতিষ্ঠানকে জনবল ভাড়ায় নিতে হচ্ছে। 

এতেও রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ। অন্যদিকে, এ কারণে নদীখনন কাজ চালানো যাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত মাত্রায়। 

প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদীখননে ২০১১ সালে ৩টি, ২০১৪ সালে ৮টি এবং ২০১৫ সালে ৩টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযান ৯১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা হয়। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর জলপথের নাব্যতা ঠিক রাখতে দেশের ৫৩টি নদীখননে অগ্রাধিকার প্রকল্প নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওই নির্দেশনার পর এসব খননযন্ত্র এবং সহায়ক জলযান কেনা হয়। প্রকল্প কাঠামো অনুয়ায়ী, খননযন্ত্র কেনার ৬ মাস আগে খননযন্ত্র চালনা, মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণে কারিগরি কর্মকর্তাসহ জনবল নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু খননযন্ত্র কেনার দুই বছরেও জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দক্ষ জনবল নিয়োগ বিলম্বিত হওয়ায় নদীখনন এবং নতুন কেনা খননযন্ত্রে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে শুরু করে। 

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, একটি খননযন্ত্র পরিচালনার জন্য ১ জন চালক, ১ জন মাস্টার, ৩ জন লিভারম্যান, ৩ জন চালক, ৩ জন গ্রিজার, ৪ জন লস্কর, ১ জন তোপাষ, ২ জন ভাণ্ডারসহ ন্যূনতম ১৮ জন জনবল প্রয়োজন। এ হিসাবে ১৪টি খননযন্ত্রের জন্য ২৫২ জন জনবল প্রয়োজন।

একটি টাগবোট পরিচালনার জন্য ১ জন মাস্টার, ১ জন ড্রাইভার, ২ জন কোয়াটার মাস্টার, ১ জন অফিসার কুক, ৩ জন গ্রিজার, ২ জন লস্কর, ১ জন তোপাষ, ১ জন ভাণ্ডারিসহ ১২ জন জনবল প্রয়োজন। সংস্থার ৩টি টাগবোটের জন্য প্রয়োজন ৩৬ জন জনবল। 

১টি অফিসার হাউজবোট পরিচালনার জন্য ১ জন অফিসার কুক, ১ জন গ্রিজার, ১ জন লস্কর, ১ জন তোপাষসহ জনবল প্রয়োজন ৪ জন। সে হিসাবে ৪টি অফিসার হাউজবোট পরিচালনার জন্য প্রয়োজন ১৬ জন জনবল। 

বিআইডব্লিউটিএ’র ১৪টি খননযন্ত্র ও সহায়ক জলযান পরিচালনার জন্য ৩৬১টি পদ সৃষ্টি করা হয়। ২০১৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উল্লিখিত পদে লোক নিয়োগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবিত জনবল নিয়োগের অনুমোদিত প্রবিধানমালায় অসামঞ্জস্য, অস্পষ্টতা রয়েছে। সেগুলো দূরকরণে প্রবিধানমালা সংশোধন প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একাধিকবার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও নানা তথ্যউপাত্ত চেয়ে ফেরত দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। 

মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলে বিআইডব্লিউটিএ’র খননযন্ত্র দিয়ে খননের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ২০১৪ সালের সংগৃহীত খননযন্ত্র (নাম-১৪১৮-০৬) ৩৯০ কর্মদিবসের মধ্যে (খনন কাজের সময়) ২২০ দিন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ ছিল। দিনে একটি খননযন্ত্র ৮ লাখ ঘন মিটার মাটি অপসারণের কথা থাকলেও করতে সক্ষম হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৯৩ হাজার ৪০ ঘনমিটার। একই বছরে কেনা খননযন্ত্র (নাম ১৪১৮-০২) ১৮০ দিনের মধ্যে ১৫০ দিনই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে খনন-কাজ বন্ধ রাখতে হয়।

২০১৪ সালে কেনা ১৪১৮-০৫ খননযন্ত্রটি ৫৭০ দিনের ২১৪ দিনই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ ছিল। ২০১১ সালে কেনা খননযন্ত্র কর্ণফুলী ৩৮০ দিনের মধ্যে ১৯১টি দিনই যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ থাকে। এখনও ওই খননযন্ত্র বন্ধ রয়েছে। তবে ড্রেজিং বিভাগ দাবি করেছে, খননযন্ত্রটি সচল হয়েছে।

২০১৪ সালে কেনা ১৪১৮-০১ খননযন্ত্রটি ৩৭০ দিনের মধ্যে ১৯০ দিন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ ছিল। ২০ ইঞ্চি খননযন্ত্রের পারফরমেন্স ১৮, পুরনো ১৮ ইঞ্চির খননযন্ত্রের অর্ধেক, যা এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মো. আইয়ুব আলী বলেন, কাজ করতে গেলে যান্ত্রিক ত্রুটি হতেই পারে। তবে সেগুলি সচল করা হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মের্সাস ভোস্তা এলএমজি-কর্ণফুলী জয়েন্ট ভেঞ্চার কনসোর্টিয়াম কোম্পানিই ঠিক করে দিয়েছে। 

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আতাহার আলী সরদার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা হতে পারে। 

তবে এতটা না বলে জানান এ প্রকৌশলী।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে