Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-১০-২০১৬

হিরোশিমা সফরে কেরি, যাবেন ওবামাও 

হিরোশিমা সফরে কেরি, যাবেন ওবামাও 

টোকিও, ১০ এপ্রিল- পৃথিবীর ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায়গুলোর একটি জাপানের হিরোশিমা ট্রাজেডি। আধুনিক সভ্যতার ইতিহাসে মার্কিন অসভ্যতার নজির বললেও ভুল হবে না এটিকে। প্রায় ৭১ বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ১৯৪৫ সালে পৃথিবীর প্রথম পরমাণু বোমাটি এখানে ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইতিহাসের ভয়বহতম হত্যাযজ্ঞ ছিল এটি। মারা গিয়েছিল এক লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ। 

৭১ বছরের এই ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কোনো কূটনৈতিক হিসেবে রোববার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি হিরোশিমা পৌঁছেছেন। জাপানে জি সেভেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে অংশ নিয়ে হিরোশিমা যান তিনি। বিশ্বে পরমাণু অস্ত্র কমিয়ে আনার লক্ষ্যে জাপান প্রতীক হিসেবে হিরোশিমাকে এই সম্মেলনে ব্যবহার করতে চাইছে। সোমবার হিরোশিমায় নিহতদের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন কেরি। 

তবে বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীতে শান্তি, নিরাপত্তা আর মানবাধিকারের কথা বললেও আজ পর্যন্ত স্থানটি পরিদর্শনে যাননি ক্ষমতাসীন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাদের ধারণা, স্থানটি পরিদর্শন তাদের অপরাধ স্বীকারের মধ্যে পড়ে যাবে। মার্কিনিরাও হিরোশিমার ঘটনাটিকে ‘প্রয়োজনীয় অপরাধ’ বলে মনে করে।   


জি-সেভেন সম্মেলন

তবে এবার সে ইতিহাস পাল্টে দেয়ার কথা ভাবছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। হিরোশিমা পরিদর্শনের কথা চিন্তা করছেন তিনি। ক্ষমতায় আসার পরই পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন ওবামা। যদিও এখন পর্যন্ত ওবামার হিরোশিমা পরিদর্শনের ব্যাপারে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কিছু জানানো হয়নি। তবে চলতি বছরের মে মাসে তিনি হিরোশিমা পরিদর্শন করতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। 

হোয়াইট হাউজের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান, মে মাসে ‘গ্রুপ অব সেভেন সামিটে’ (জি-সেভেন) যোগ দিতে জাপান যাবেন ওবামা। ওই সময়েই হিরোশিমা সফর করতে পারেন তিনি। পরমাণু মুক্ত বিশ্ব গড়ার ব্যাপারে সেখানে একটি বক্তৃতাও দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।    

২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জন রুস বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট কাজটি করবেন। তিনি এমন এক ব্যক্তি, যিনি ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ব্যাপারে সব পিছুটানকে উপেক্ষা করেছেন।’

এর আগে ওবামার কিউবা সফরের সময় জাপানীদের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট যাতে একবার হিরোশিমাও ঘুরে আসেন। জাপানের ৭৮ বছরের বৃদ্ধা কেইকো ওগুরা মনে করেন, এবার অন্তত ওবামা এবং জি-সেভেন নেতাদের হিরোশিমায় আসা উচিত। 

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সকালে যখন যুক্তরাষ্ট্রের ফেলা পরমাণু বোমা লিটল বয় হিরোশিমা শহরকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল তখন ওগুরা আট বছরের মিষ্টি মেয়ে। সে দিন সকালে কোন কারণে মেয়েকে সে দিন স্কুলে যেতে দেননি বাবা। যে স্থানটিতে ফেলা হয়েছিল লিটল বয় সেই গ্রাউন্ড জিরো থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে ওগুরার বাড়ি যেন কোনো মন্ত্রবলে বেঁচে গিয়েছিল।


‘লিটল বয়’ এভাবেই ধ্বংস স্তূপে পরিণত করেছিল হিরোশিমাকে 

উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালের ৬ই আগস্ট সকালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী জাপানের হিরোশিমা শহরের ওপর লিটল বয় নামের বোমটি ফেলে। এর তিন দিন পর নাগাসাকি শহরের ওপর ‘ফ্যাট ম্যান’ নামের আরেকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। অনুমান করা হয়, ১৯৪৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বোমা বিস্ফোরণের ফলে হিরোশিমাতে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার লোক মারা যায়। নাগাসাকিতে মারা যায় প্রায় ৭৪ হাজার লোক। পরবর্তীতে এই দুই শহরে বোমার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় আরো দুই লাখ ১৪ হাজার লোক।

এফ/২২:৫৯/১০এপ্রিল

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে