Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-০৯-২০১৬

‘ঈশ্বর নেই’ মন্তব্য করায় রাশিয়াতে যুবকের কারাদণ্ড

‘ঈশ্বর নেই’ মন্তব্য করায় রাশিয়াতে যুবকের কারাদণ্ড

মস্কো, ০৯ এপ্রিল- ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় সামজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর থেকেই নিষিদ্ধ করা হয় ধর্ম চর্চা। সব ধরনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এর প্রভাব এখনো কাটাতে পারেনি দেশটি। দেশটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনগণ এখনো ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না। সেই রাশিয়াতেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করায় এক যুবককে দেয়া হয়েছে এক বছরের কারাদণ্ড।

অনলাইনের একটি আলোচনায় ‘ঈশ্বর নেই’ এমন মন্তব্য করায় কারাদণ্ড ভোগ করতে হচ্ছে তাকে। ভিক্টর ক্রাসনভ (৩৮) নামের ওই রুশ যুবক বাইবেলে বর্ণিত ঘটনাবলীকে ‘রূপকথা’ বলে আখ্যায়িত করে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার একটি আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করে রুশ কর্তৃপক্ষ। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক প্রহসন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ক্রাসনভ। এছাড়া মামলাটির সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও। ঘটনাটিকে ক্রেমলিন এবং অর্থডক্স চার্চের মধ্যে তোষামোদিপূর্ণ সম্পর্ক বলে মন্তব্য করেছে তারা।  

ক্রাসনভ জানান, অনলাইনে ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করায় তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ আনা হয়েছে শুনতে পেয়ে তিনি হতবাক হয়ে যান। অবশ্য মামলার বিচারক জানিয়েছেন, নাস্তিক্যবাদ রুশ কর্তৃপক্ষের কাছে অ-জনপ্রিয় মতবাদ। নাস্তিকদের মানসিক চিকিৎসা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

তবে ক্রাসনভের ভাষ্য, তিনি পৃথিবীর অনেক জায়গা ঘুরে দেখেছেন। কোথাও তিনি ঈশ্বরকে দেখতে পাননি। তিনি বলেন, ‘এখন আমাকে ধর্মবিশ্বাসীদের অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার জন্য কারাদণ্ড ভোগ করতে হচ্ছে। এটা একটা অযৌক্তিক প্রহসন। আমার বিরুদ্ধে মামলার কথা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে যাই।’

রাশিয়ার অর্থডক্স চার্চ এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে সম্পর্ক দিন দিন দৃশ্যমান হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্রাসনভের আইনজীবী আন্দ্রে সাবিনিন। তিনি বলেন, তাদের এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে দেশটির আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলবে।

ওয়াশিংটন টাইমসকে সাবিনিন আরো বলেন, ‘এই মামলাটি একটি উদাহরণ। ভবিষ্যতে প্রকাশ্যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করা নিষিদ্ধও হতে পারে।’

এর আগে ‘ভি কন্টাক্ট’ নামের একটি রুশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই রুশ অর্থডক্স খ্রিস্টানের সাথে আলোচনায় ঈশ্বরকে অস্বীকার করে মন্তব্য করে ক্রাসনভ। এর পরই তা পুলিশকে জানায় ওই দুই অর্থডক্স। চলতি বছরের মার্চে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে ৪৬০ মাইল দক্ষিণে স্টাভরোপোলে ক্রাসনভের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে রুশ পুলিশ।

বিচার শুরু হওয়ার আগে ক্রাসনভকে এক মাসের জন্য একটি মানসিক রোগ চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। বিচারক ক্রাসনভকে বলেন, ‘মানসিকভাবে ঠিক থাকলে অর্থডক্স খ্রিস্টান এবং রুশ অর্থডক্স চার্চের বিরুদ্ধে কেউ মন্তব্য করতে পারে না।’

এর আগে রুশ চার্চের প্রধান প্রেসিডেন্টে পুতিনকে ‘ঈশ্বরের অলৌকিক উপহার’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। অনেকের ধারণা, এর মধ্য দিয়ে সোভিয়েত আমলের ধর্মবিরোধী অপপ্রচার থেকে সরে আসছে রাশিয়া।


উল্লেখ্য, সোভিয়েত শাসনামলে রাশিয়াতে ধর্মচার্চাকে নিরুৎসাহিত করা হতো এবং ধর্মানুসারিদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। মসজিদ, ধর্মীয় উপাসনালয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো তখন হয় ভেঙে ফেলা হয়, নয় অফিস বা গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরবর্তীতে নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর অবশ্য সে অবস্থা অনেকটা আর টিকে থাকেনি।

আর/১৮:০৬/০৯ এপ্রিল

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে