Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-০৯-২০১৬

রাজধানীজুড়ে উন্নয়ন উৎসব

শিমুল মাহমুদ


রাজধানীজুড়ে উন্নয়ন উৎসব
রাজধানীতে চলছে ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল, ইউলুপসহ নানা উন্নয়ন কাজ

ঢাকা, ০৯ এপ্রিল- যোগাযোগ পরিবহন ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন উৎসবে আগামী কয়েক বছরে নজিরবিহীন পরিবর্তন আসছে রাজধানী ঢাকায়। চলমান ও পরিকল্পনাধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন শেষে মেগাসিটি ঢাকা হবে অনেক স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যের নগরী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর সুফল পেতে শুরু করেছেন নগরবাসী। চলমান প্রকল্পগুলো সম্পন্ন     হলে বদলে যাবে চিরচেনা ঢাকার বেহাল চিত্র। স্থবির নগরজীবনে আসবে নতুন গতিশীলতা। চলমান প্রকল্প হিসেবে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পর গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত ৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে উঠবে। ফলে উত্তরবঙ্গের যানবাহনগুলো রাজধানীর মাটি স্পর্শ না করেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলে যেতে পারবে ঢাকার ওপর দিয়ে।

বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ পুরোদমে চলছে। প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের পাইলিংয়ের কাজ ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এর নির্মাণকাজ ২০১৯ সালে শেষ হবে। র‌্যাম্পসহ এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য হবে ৪৬ কিলোমিটার। অন্যদিকে বিমানবন্দর সড়ক থেকে আশুলিয়ার পাশ দিয়ে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে কুড়িল ফ্লাইওভারের নিচ পর্যন্ত চলছে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ প্রকল্প তিন ধাপে সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে এয়ারপোর্ট থেকে কুড়িল হয়ে বনানী রেলস্টেশন পর্যন্ত প্রথম ধাপের কাজ চলছে। দ্বিতীয় ধাপে কাজ চলবে বনানী থেকে মগবাজার এবং তৃতীয় ধাপে মগবাজার থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত। এর মধ্যে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মিত হবে রেললাইনের পাশ দিয়ে। দ্বিতীয় ও শেষ ধাপের কিছু অংশের নির্মাণকালে জনভোগান্তি কিংবা যানজটের কোনো আশঙ্কা থাকবে না বলে ইতিমধ্যে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এদিকে গত কয়েক বছরে রাজধানীতে বাস্তবায়ন করা প্রকল্পগুলোর সুফল পাচ্ছেন নগরবাসী। এর মধ্যে রয়েছে, যাত্রাবাড়ী মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার, বনানী ওভারপাস, হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প, কুড়িল-বিশ্বরোড ফ্লাইওভার, মিরপুর-বিমানবন্দর রোডে জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার। মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ এলাকার নিত্য ভোগান্তি থেকে রক্ষা করেছে নগরবাসীকে। বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলীয় লাখ লাখ যাত্রীর ঢাকায় প্রবেশ ও ঢাকা থেকে বেরুবার দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। কুড়িল-বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের কারণে সন্নিহিত এলাকার প্রতিদিনের ভোগান্তি এখন আর নেই। নগরবাসীর সবচেয়ে বেশি সুফল এসেছে মিরপুর-বিমানবন্দর রোডে জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের মধ্য দিয়ে। শুধু এই একটি ফ্লাইওভারের কারণে বদলে গেছে রাজধানীর মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুরের যাত্রীরা এখন সহজেই বারিধারা, নিকুঞ্জ, উত্তরা, গাজীপুরে যেতে পারছেন। এ ফ্লাইওভার ও মাটিকাটা নতুন সড়কের কারণে নতুন পাঁচ শতাধিক সার্ভিস বাস রাস্তায় নেমেছে। উত্তরা থেকে মাত্র ২০ মিনিটেই এখন চলে যাওয়া যাচ্ছে মিরপুর, আগারগাঁওয়ে, আগে যেখানে মহাখালী হয়ে দীর্ঘ যানজট ঠেলে যেতে হতো। এ ছাড়া রাজধানীর মধ্যাঞ্চলে নির্মাণাধীন মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভারের একাংশ সম্প্রতি খুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি দুটো অংশ খুলে দেওয়ার পর এ এলাকার যানজট চিত্র পাল্টে যাবে। প্রাইভেট কারের উল্লেখযোগ্য অংশ ফ্লাইওভারে উঠে নিচের গাড়ির চাপ লাঘব করবে।

বহুল আলোচিত মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রথম পর্যায় (এমআরটি লাইন-৬) উত্তরা-মতিঝিল অংশের নির্মাণকাজ চলতি মাসেই উদ্বোধন হবে। রামপুরায় হাতিরঝিল প্রকল্পের প্রথম ইউলুপটির নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই এটি উদ্বোধন হবে। বাড্ডায় দ্বিতীয় ইউলুপ নির্মাণ চলছে দ্রুতগতিতে। এ দুই ইউলুপের সাফল্য দেখে এই রুটে গাজীপুর পর্যন্ত আরও ২২টি ইউলুপ করবে উত্তর সিটি করপোরেশন। এ ছাড়া নতুন উদ্যোগ হিসেবে রাজধানীর যানজট নিরসনে দুটি পাতাল রেলপথ (সাবওয়ে) নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সেতু বিভাগ। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সায়েদাবাদ এবং আমিনবাজার থেকে টিকাটুলী পর্যন্ত দুটি সম্ভাব্য পথ ঠিক করে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। গত ৩ এপ্রিল বনানীর সেতু ভবনে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে এক সভায় এ প্রস্তাব তুলে ধরে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় সাবওয়ে করা যায় কিনা, সে বিষয়ে কাজ করতে নির্দেশনা দেন। প্রাথমিকভাবে সেতু বিভাগের পরিকল্পনার মধ্যে বিমানবন্দর থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত পথটির দৈর্ঘ্য ৩২ কিলোমিটার। আমিনবাজার থেকে টিকাটুলী পথের দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার। মোট ৪৮ কিলোমিটার পাতাল রেলপথ নির্মাণে প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা দেওয়া হয়। এদিকে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি নির্মিত হচ্ছে গাজীপুর থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত। এর একটি অংশ হবে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত, যার দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার। অন্য অংশটি বিমানবন্দর সড়ক থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত। এর দৈর্ঘ্য ২২ দশমিক ৪ কিলোমিটার।

রাজধানীর যানজট নিরসনে এই ৪২ দশমিক ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিআরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গাজীপুর থেকে কেরানীগঞ্জ যেতে লাগবে মাত্র দেড় ঘণ্টা। বিআরটি গাজীপুর-বিমানবন্দর অংশের নকশা তৈরি শেষ। ২০১৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এর মূল কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে প্রতি ঘণ্টায় ৩০ হাজার যাত্রী পারাপার হতে পারবে। সংরক্ষিত লেনের মাধ্যমে স্টেশন থেকে প্রতি তিন মিনিট পরপর ছেড়ে যাবে দ্রুতগতিসম্পন্ন অত্যাধুনিক বাস। গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর সড়কে পৌঁছাতে লাগবে মাত্র ৪০ মিনিট। সূত্র জানায়, দুই ভাগে বিভক্ত এ প্রকল্পটির দক্ষিণাংশ বাস্তবায়ন করবে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এটি বিমানবন্দর সড়ক থেকে কুড়িল ইন্টারসেকশনের নিচ দিয়ে ও বনানী রেল ওভারপাসের ওপর দিয়ে মহাখালী, সাতরাস্তা, মগবাজার, কাকরাইল, পল্টন, গুলিস্তান, নয়াবাজার ও বাবুবাজার দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু হয়ে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এতে যাত্রী ওঠানামার জন্য ১৬টি স্টেশন, দুটি বাস ডিপো এবং মহাখালী ও কাকরাইলে দুটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। বিআরটি দক্ষিণের প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা তৈরির কাজ শেষ। শিগগিরই ঋণচুক্তি হচ্ছে। প্রকল্পের উত্তরের অংশ গাজীপুর টার্মিনাল থেকে শাহজালাল বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত। এডিবির অর্থায়নে দুই হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, সেতু কর্তৃপক্ষ এবং এলজিইডি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে।

বাস স্টপেজে প্রবেশ-প্রস্থান ও পথচারী পারাপারে ৩০টি আন্ডারপাস তৈরি হবে। ১৮ মিটার দীর্ঘ ১০০টি আর্টিকুলেটেড বাস চলাচল করবে এ পথে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নকশা তৈরির কাজ চূড়ান্ত করেছে। চলছে মাটি পরীক্ষার কাজ। রাস্তার প্রতি দিকে একটি বিআরটি লেন, দুটি মিশ্র ট্রাফিক লেন, একটি অযান্ত্রিক (সার্ভিস) লেন ও ফুটপাথ নির্মিত হবে। আবদুল্লাহপুর থেকে টঙ্গীর চেরাগ আলী পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার দোতলা রোড, ছয়টি ফ্লাইওভার থাকবে। রাস্তার মেইন করিডরের সঙ্গে সংযোগের জন্য ১১৩টি অ্যাক্সেস রোড, ২৫টি বিআরটি স্টেশন, গাজীপুর ও বিমানবন্দর এলাকায় দুটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। ডিটিসিএর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহউদ্দিন বলেন, বিআরটি-৩-এর আগের রুট ছিল সদরঘাট থেকে বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে এটি গাজীপুর থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এর উত্তরাংশের কাজ। আরেকটি বাস্তবায়ন হলে বিআরটির মাধ্যমে গাজীপুর থেকে কেরানীগঞ্জে যেতে লাগবে মাত্র দেড় ঘণ্টা।

এফ/০৭:৫৫/০৯ এপ্রিল

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে