Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (35 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-০৯-২০১৬

প্রকৌশলী বরখাস্ত, তদন্তে কমিটি  

আরিফুল ইসলাম


প্রকৌশলী বরখাস্ত, তদন্তে কমিটি

 

চুয়াডাঙ্গা, ০৯ এপ্রিল- চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সরকারি বহুতল ভবনে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করার ঘটনায় দায়িত্বে থাকা থাকা দুই প্রকৌশলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

খামারবাড়ি উদ্ভিদ সঙ্গ নিরোধ উইংয়ের পরিচালক সৌমেন সাহাকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন কনসালটেন্ট ফাইটো স্যানিটরি ক্যাপাসিটি শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ মো. আইয়ুব হোসেন ও চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নির্মল কুমার দে। 

শুক্রবার সকালে কৃষি অধিদপ্তরসহ কনসালটেন্ট ফার্মের সাত সদস্য নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা ভবনের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কনসালটেন্ট ফার্মের দুই প্রকৌশলীসহ নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কনসালটেন্ট ফাইটো স্যানিটরি ক্যাপাসিটি শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ মো. আইয়ুব হোসেন। এ সময় তিনি নতুন ভবন নির্মাণে অনিয়মের ঘটনায় ক্ষোভ জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় যারা অভিযুক্ত তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে কনসালটেন্ট ফার্মের প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী সুব্রত বিশ্বাসকে মৌখিকভাবে বরখাস্ত করেন।

এদিকে, কৃষি অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দল নির্মাণাধীন ভবনে থাকা অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগর ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শনে আসেন। এ সময় সংসদ সদস্য আলি আজগর টগর ভবনে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যেখানে যেখানে বাঁশের ব্যবহার থাকবে তা ভেঙে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে ভবন ভেঙে নতুন করে ভবন নির্মাণ করা হবে।

তবে, খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ভবনের ছাদ ঢালাইসহ অন্য পিলারগুলো নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। কিন্তু ভবনের সামনের শো পিলারগুলো রড কম ব্যবহার করে বাঁশ দিয়ে করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, যেসব শো-পিলারের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে সেগুলোও ভেঙে ফেলা হবে।

এ প্রসঙ্গে শুক্রবার সন্ধ্যায় কৃষি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হামিদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্ হাতে পাওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো অনিয়ম দুর্নীতি থাকলে তাদের সঙ্গে চুক্তিও বাতিল করা হবে।

প্রসঙ্গত. চুয়াডাঙ্গার সীমান্ত শহর দর্শনায় নির্মাণাধীন কৃষি অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সঙ্গ নিরোধ ভবনে রডের পরিবর্তে বাঁশের চটা আর খোয়ার বদলে সুরকি দিয়ে চলছে কাজ। এমন অভিযোগ জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভবন পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দেন।

দর্শনা পৌরসভার পাশে তিন হাজার ৭৫০ বর্গফুট আয়তনের আধুনিকমানের ল্যাবরেটরি ও অফিস ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয় গত বছরের ১ ডিসেম্বর। বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফাইটো স্যানিটরি ক্যাপাসিটি শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় দুই কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এ ভবনটি। এ ভবনটির নির্মাণকাজে নিয়োজিত আছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (ইসিএল)। ইতিমধ্যে ভবনটির প্রায় ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে।

এফ/০৭:১২/০৯ এপ্রিল

চুয়াডাঙ্গা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে