Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-০৮-২০১৬

নৌ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা নিজেই ভাঙলেন নৌমন্ত্রী

শরিফুজ্জামান


নৌ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা নিজেই ভাঙলেন নৌমন্ত্রী

ঢাকা, ০৮ এপ্রিল- সুন্দরবনের শ্যালা নদী দিয়ে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণার দুই দিনের মধ্যেই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ২২টি জাহাজ পার করে দিয়েছে। এসব জাহাজ পার হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চেয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। 

বন বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, চিঠিপত্রে ২২টি জাহাজ পার হওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা ছিল ২৫টি। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে শ্যালা নদী দিয়ে এসব জাহাজ চলাচলের সুযোগ করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বন কর্মকর্তারা। 

গত ১৯ মার্চ বিকেলে শ্যালা নদীতে ২৩৫ টন পিট কয়লাবাহী কার্গো জাহাজডুবির পর ২১ মার্চ বিআইডব্লিউটিএ ওই নদী দিয়ে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে। এর পরিবর্তে নৌযানগুলোকে মংলা-ঘষিয়াখালী রুট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপর শ্যালা নদী দিয়ে বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজ পার হতে দেওয়ায় দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ চিঠি দিয়ে প্রধান বন সংরক্ষককে জানিয়েছে, জাহাজগুলোকে শ্যালা নদী দিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার অনুমতি দিতে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, বিশেষ কারণে এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারপরও শ্যালা নদী দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। অপর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ওই রুট চালুর সম্ভাবনা নেই।

স্থানীয় বন কর্মকর্তারা জানান, নৌযান চলাচল বন্ধ করার পর পশুর নদে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নৌযানের জট সৃষ্টি করা হয়। এরপর নৌযান মালিকেরা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান। মন্ত্রী বিআইডব্লিউটিএকে অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জাহাজ পার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তা সম্পন্ন করে প্রধান বন সংরক্ষককে অবহিত করেছে। এখানে অনুমতি নেওয়ার কিছু নেই। প্রধান বন সংরক্ষক অবহিত হয়ে তা মন্ত্রণালয়কে অবগত করেছেন। এর বাইরে তেমন কিছু বলার নেই।
বিআইডব্লিউটিএর সচিবের সই করা চিঠিতে ৩১ মার্চ বলা হয়, জাহাজ চলাচল বন্ধের আগে বোঝাই হওয়া ২২টি জাহাজের ড্রাফট সীমা ১২ ফুটের বেশি হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত নাব্যতা না থাকায় নৌযানগুলো মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল অতিক্রম করতে পারছে না। ফলে ওগুলো পশুর নদে অবস্থান করছে। এগুলোকে শ্যালা নদী দিয়ে পার করার অনুমতি চাওয়া হয় প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, ওই চিঠি প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে যাওয়ার আগেই জাহাজগুলো ওই নদী পার হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনূছ আলীও বলেন, তাঁর কাছে চিঠি আসার আগেই জাহাজগুলো পার হয়েছে। 

জানতে চাইলে পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, নিষেধাজ্ঞা জারির এক বা দুদিনের মধ্যে তাঁকে রাতের বেলা মুঠোফোনে জানানো হয় যে ২২টি জাহাজ পার হবে। ওই রাত শেষে খুব ভোরে জাহাজগুলো পার হয়। তিনি বলেন, যাঁরা জাহাজ চলাচল বন্ধ করেছেন, তাঁরাই জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। বন বিভাগ শুধু অবহিত হয়েছে। 

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন বলেন, ‘বিদেশিদের দেখানোর জন্য হয়তো তড়িঘড়ি করে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও জাহাজ চলাচলের খবর শুনে অবাক হইনি। যেকোনো দিন শুনব, নিষেধাজ্ঞাই প্রত্যাহার হয়ে গেছে।’

এস/১৮:২৫/০৮ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে