Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-০৮-২০১৬

অ্যাসিড-সন্ত্রাসের শিকার চারজন

অ্যাসিড-সন্ত্রাসের শিকার চারজন
ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎ​সাধীন অ্যাসিডদগ্ধ মাহফুজা আক্তার ও তাঁর মেয়ে সানজিদা সুলতানাl

ঢাকা, ০৮ এপ্রিল- রাজধানীর রূপনগরের একটি বাসায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে একই পরিবারের চারজন অ্যাসিড-সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। দগ্ধ ওই চারজনের মধ্যে একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

দগ্ধ চারজন হলেন মাহফুজা আক্তার ওরফে সুবর্ণা (২৮), তাঁর নয় বছরের মেয়ে সানজিদা সুলতানা, স্বামী সুরুজ আলম খান ও সুরুজের দ্বিতীয় স্ত্রী নিলুফার বেগম (৩৫)। মাহফুজা সুরুজের তৃতীয় স্ত্রী। চিকিৎসকেরা বলেছেন, অ্যাসিডে মাহফুজার দুটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।

পুলিশ বলেছে, ভোরে দুই দুর্বৃত্ত আত্মীয় পরিচয়ে বাসায় ঢুকে মাহফুজা ও সানজিদাকে অ্যাসিড মারে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সুরুজকে আটক করা হয়েছে। তবে সুরুজের দাবি, তৃতীয় স্ত্রী ও মেয়েকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনি ও নিলুফার সামান্য দগ্ধ হন।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মো. কাইয়ুমুজ্জামান খান বলেন, অ্যাসিড ছোড়ার সঙ্গে সুরুজ জড়িত থাকতে পারেন। কারণ, তিনি দুর্বৃত্তদের আটক করার চেষ্টা কিংবা চিৎকার করেননি। ধারণা করা হচ্ছে, সাংসারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে ভাড়া করা লোক দিয়ে সুরুজ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

পুলিশ ও দগ্ধদের পারিবারিক সূত্র বলেছে, ভোর পাঁচটার পর রূপনগর ১৩ নম্বর সড়কের টিনশেড কলোনির বাসার সামনে সুরুজ দাঁত ব্রাশ করছিলেন। এ সময় দুজন লোক একটি মিষ্টির প্যাকেটসহ এসে তাঁর কাছে জানতে চায়, সুরুজ আলমের বাসা কোনটি? সুরুজ নিজের নাম জানালে ওই দুজন নিজেদের তাঁর তৃতীয় স্ত্রীর আত্মীয় বলে পরিচয় দেয়। সুরুজ তাঁদের বাসায় নিয়ে গেলে মাহফুজা জানান, ওই দুজনকে তিনি চেনেন না। এ সময় দুর্বৃত্তরা বোতল থেকে মাহফুজার শরীরে অ্যাসিড ছুড়ে মারে। অ্যাসিডে মাহফুজা ও তাঁর মেয়ে সানজিদা দগ্ধ হয়। মাহফুজাকে বাঁচাতে গেলে নিলুফার দগ্ধ হন। অটোরিকশায় করে পালানোর সময় ওই দুজনের একজন মুখোশ পরে ছিল। পরে দগ্ধদের ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে রূপনগর থানার পুলিশ সুরুজকে আটক করে। মাহফুজা ছাড়া অন্যদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল বলেন, মাহফুজার মুখসহ শরীরের ৭ শতাংশ পুড়ে গেছে। সানজিদার হাতের কিছুটা অংশ পুড়েছে। তাদের জীবনাশঙ্কা নেই। চিকিৎসকেরা বলেন, মাহফুজার বাঁ চোখ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেখতে পাবেন কি না, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে। 

বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন মাহফুজা অনবরত কাঁদছিলেন। তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই স্বামীর সঙ্গে আমার ঝামেলা ছিল। এখন কী হবে? আমার মেয়েটার কী হবে?’ বার্ন ইউনিটে মাহফুজা ও তাঁর মেয়ের দেখাশোনা করছিলেন নিলুফার। নিলুফারের হাতেরও কিছু অংশ পুড়ে গেছে। কীভাবে পুড়েছে, সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।

মাহফুজা কোন ঝামেলার কথা বলছেন—জানতে চাইলে নিলুফার বলেন, ‘ওদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার, আমি ঠিক বলতে পারব না। কে কেন অ্যাসিড ছুড়ল, তাও বলতে পারছি না।’

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও র্যা বের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

রূপনগরের টিনশেড কলোনিতে সুরুজের বাসার দোতলায় মাহফুজার কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, অ্যাসিডে তোশক ও বিছানার চাদরের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। মেঝেতে কালো দাগ। পুলিশ বাসাটি থেকে আলামতসহ মিষ্টির প্যাকেটটি জব্দ করেছে।

রূপনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহীন ফকির বলেন, সুরুজ মিল্ক ভিটায় কাজ করেন এবং দাঁতের মাজন তৈরি করে বিক্রি করেন। তাঁর তিন স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। তাঁরা সবাই চাকরি করেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝগড়াঝাঁটির জের ধরে মাহফুজাকে মারধর করতেন সুরুজ। এই বিরোধ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর্যায়েও চলে গিয়েছিল।

এস/১৮:২০/০৮ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে