Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (16 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-০৮-২০১৬

১১ দিনেও খোঁজ মেলেনি মিজানুরের

১১ দিনেও খোঁজ মেলেনি মিজানুরের
মিজানুর রহমান সোহাগ

কুমিল্লা, ০৮ এপ্রিল- সোহাগী জাহান তনুর ছোট ভাইয়ের বন্ধু মিজানুর রহমানের (সোহাগ) এখনো খোঁজ মেলেনি। ১১ দিন আগে গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে একদল লোক মিজানুরকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান।

পরিবারের সদস্যদের ধারণা, তনু হত্যার পর তাঁর ছোট ভাই আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার কারণেই মিজানুরকে সরকারি কোনো বাহিনীর সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছেন। এ জন্য তাঁরা পুলিশ, র্যা ব ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে ধরনা দিয়েছেন, কিন্তু ছেলের খোঁজ পাননি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোনো বাহিনী মিজানুরকে ধরে নেওয়ার কথা স্বীকার করেনি, আবার তাঁকে উদ্ধারও করতে পারেনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নারায়ণসার গ্রামে মিজানুরের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, ছেলের চিন্তায় কৃষক বাবা নুরুল ইসলাম শয্যাশায়ী। তাঁকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর পাশে বসে কাঁদছেন মা সাহিদা আক্তার। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের অনেকেই ওই বাড়িতে ভিড় করেছেন। কেউ মিজানুরের মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন, আবার কেউ আফসোস করছেন।

শয্যাশায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘২৭ মার্চ রাত একটায় ওরা বাড়িতে ঢুকে। বলে, “আমরা আপনাদের ঘরটা চেক করব। আমরা আইনের লোক, কোনো অসুবিধা হবে না।” আধা ঘণ্টা অবস্থান করার পর আমার ছেলেকে তুলে নেয়। তারা একটি মোটরসাইকেল, একটি জিপ ও একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস নিয়ে আসে। পরদিন সকাল ১০টায় ওকে দিয়ে যাবে বলে জানায়। এরপর প্রতিদিনই সকাল ১০টা হয়, কিন্তু ছেলে তো ফিরে আসে না।’

নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বহু কষ্টে ছেলেকে এইচএসসি পাস করিয়েছি। বিবিএ পড়ার ইচ্ছে ছিল ছেলেটার, এখন সবই শেষ। আমার ছেলে কোনো অন্যায় করে থাকলে বিচার হবে। কিন্তু আইনের লোক এত দিন নিয়ে গায়েব করে রাখবে কেন?’

মিজানুরের বড় বোন খালেদা আক্তার বলেন, ‘তনুর ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন (রুবেল) আর মিজানুর কালাকচুয়া কাজিম উদ্দিন খন্দকার উচ্চবিদ্যালয়ে একসঙ্গে পড়ত। আনোয়ার নাজিরাবাজার এলে তারা একসঙ্গে গিয়ে আড্ডা দিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘২৭ মার্চ বিকেলে আমি ও আমার ভাই টিভি দেখছিলাম। ওই সময়ে টিভিতে তনুর ভাই সাক্ষাৎকার দিচ্ছিল। সোহাগ (মিজানুর) আমাকে বলল, “আপা দেখো, আমার বন্ধু বক্তব্য দিচ্ছে।” তখন আমি বললাম, কীভাবে তনু মারা গেল, একটা ফোন দিয়ে দেখ। তখনই সোহাগ তিনবার ফোন করেছিল তনুর ভাইয়ের নম্বরে। কিন্তু তনুর ভাই ফোন ধরেনি। এ ছাড়া তনু হত্যার পর কুমিল্লা সেনানিবাস-সংলগ্ন নাজিরাবাজার এলাকায় যে মানববন্ধন হয়, তাতে মিজানুর অংশ নিয়েছিল।’

খালেদা আক্তার বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত, তনুর ভাইকে ওই দিন ফোন করা আর মানববন্ধনে অংশ নেওয়ায় কারণেই আমার ভাইকে ধরে নিয়ে গেছে। ধরে নেওয়ার সময় আমি উনাদের বলি, “আপনারা যে আইনের লোক কার্ড দেখান।” তাঁরা বলেন, “তোকেও ধরে নেব”।’

এ সময় মেয়ের কথার সায় দিয়ে মা সাহিদা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, কোনো ঝামেলায় ছিল না। এরপরও তাকে কেন তুলে নিল?’ তিনি বলেন, ‘থানায় জিডি করেছি, কোনো ফল পাইনি।’

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, বুড়িচং থানায় গত ৩০ মার্চ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। মিজানুরকে কে বা কারা তুলে নিয়ে গেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশের কেউ মিজানুরকে তুলে আনতে যায়নি তনু হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির কর্মকর্তারাও বলছেন, তাঁরাও নিখোঁজ মিজানুর রহমানের বিষয়ে কিছু জানেন না।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু খুন হন গত ২০ মার্চ। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় তাঁর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মচারী মো. ইয়ার হোসেন কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। গত ১৮ দিনেও এ মামলার কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অপরাধী গ্রেপ্তার না হলে ২৫ এপ্রিল হরতাল
নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সরকারকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য। এর মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা না হলে ২৫ এপ্রিল সারা দেশে আধা বেলা হরতাল আহ্বান করেছে সংগঠন দুটি।
তনু হত্যার বিচারের দাবিতে গতকাল দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বাধায় পড়ে হাইকোর্ট মাজার রোডের শিক্ষাচত্বরে এক সমাবেশ করে এ দুই সংগঠন। সমাবেশ থেকে ওই হরতাল ঘোষণা করেন জোট দুটির সমন্বয়ক আশরাফুল আলম। এতে সমর্থন দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন।

হরতাল ঘোষণার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) চত্বর থেকে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে জাতীয় তিন নেতার মাজার ও দোয়েল চত্বর এলাকায় পুলিশের বাধায় পড়েন তাঁরা। বাধা পেরিয়ে শিক্ষাচত্বর এলাকায় গেলে আবার তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে সমাবেশ করেন তাঁরা। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে তাঁদের ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন উল্লেখ করে আশরাফুল আলম বলেন, তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার বাইরে: তনুর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সকালে সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করেন সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা।

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম দেওভোগ আমবাগান এলাকায় সকালে রেইনবো ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও সংগঠন নির্ভীকের উদ্যোগে হয় প্রতিবাদ সভা।

মানিকগঞ্জ শহরের শহীদ রফিক সড়কে দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে শহীদ রফিক সামাজিক কল্যাণ পরিষদ নামের একটি সংগঠন। ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়।

এস/১৭:৩০/০৮ এপ্রিল

কুমিল্লা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে