Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.0/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-০৭-২০১৬

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে ব্লগার নাজিমুদ্দিনের হত্যা

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে ব্লগার নাজিমুদ্দিনের হত্যা

ঢাকা, ০৭ এপ্রিল- বাংলাদেশে আরো একজন মুক্ত চিন্তার মানুষ খুন হয়েছেন। ২৮ বছরের তরুণ নাজিমুদ্দীন সামাদ বুধবার রাতে পুরান ঢাকার বাহদুর শাহ পার্কের কাছে অজ্ঞাতনামা হামলাকারীদের গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এই ব্লগারের মৃত্যুর খবরটি বিবিসি, রয়টার্স, আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোতে গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছে। তারা বাংলাদেশের এ জাতীয় হত্যার ঘটনায় হতাশা ব্যক্ত করেছে।

এ সম্পর্কে বিবিসি বলেছে,‘বাংলাদেশের ইসলামি চরমপন্থিরা গত বছরও ধর্মনিরপেক্ষ ও আলোচিত ব্লাগারদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। হত্যাও করা হয়েছে কয়েকজনকে। সে দেশের সরকার কাগজে কলমে ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বললেও এ ধরনের হামলা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

সংবাদ মাধ্যমটি আরো জানাচ্ছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী নিজের ফেসবুক পেজে বরাবরই ইসলামি চরপন্থিদের বিরুদ্ধে লোখালেখি করতেন। তার প্রোফাইলে লেখা ছিল,‘আমার কোনো ধর্ম নাই।’

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ব্লগার হত্যা হলেও এগুলোর পিছনে কারা রয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। গতবছরও চার নাস্তিক ব্লগার খুন হয়েছিলেন। এর আগে ২০১৩ সালে ৮৪ জন ‘নাস্তিক ব্লগারের’ একটি তালিকা প্রচার করেছিল একটি ইসলামিক গোষ্ঠী। নিহতদের সবার নামই ওই তালিকায় ছিল বলেও উল্লেখ করেছে বিবিসি। তারা এক জাপানি ও ইতালিয় নাগরিকের নিহত হওয়ার কথা তুলে ধরে বলেছেন, তথাকথিত ইসলামিক স্টেট ওইসব হামলার কথা স্বীকার করেছিল। তবে কোনো নিরপেক্ষ সূত্র দ্বারা তাদের সে দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

‘Liberal Bangladeshi blogger killed by machete-wielding attackers’ শিরোনামের প্রতিবেদনে রয়টার্স বলছে, গতবছর থেকে বাংলাদেশে একাধিক জঙ্গি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মসজিদ ও মন্দিরেও চলেছে বোমা হামলা। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গতবছর দুই বিদেশি, এক হিন্দু পুরোহিত ও এক পুলিশকে হত্যার দায় স্বীকার করেছিল ইসলামিক স্টেট। যদিও বাংলাদেশ সরকার দেশে ইসলামিক স্টেটের অস্তত্ব স্বীকার করে না। গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী নিজাম হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভে নেমেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত ছাত্র। তারা ওই এলাকার সড়কগুলো অবরোধ করে রেখেছে।

এ নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকার শিরোনাম ছিল ‘Secular Activist in Bangladesh Is Latest to Be Killed After Criticizing Islamists’। ওই প্রতিবেদনে  বলা হয়েছে,‘সম্প্রতি নিজের ফেসবুকে নাজিম বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ধর্ম থেকে ইসলামকে বাদ দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। তিনি ইসলামি গোষ্ঠীগুলোকে কঠোর হাতে দমন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছিলেন। সরকারের মধ্যেই চরমপন্থিতা বাড়ছে বলে নিজের এক পোস্টে অভিযোগ করেছিলেন নাজিম। সেখানে তিনি বলেছিলেন, যেন চরমপন্থি শিশুটিকে দুধ কলা খাইয়ে বড় করে তোলা হচ্ছে।

পত্রিকাটি আরো বলেছে, গত ১৮ মাস ধরে বাংলাদেশে ব্লাগার ও মুক্তচিন্তার ধারকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়েছে। এ অবস্থায় অনেক লেখক ও সাংবাদিক নিজেদের মতামত ব্যক্ত করতে ভয় পাচ্ছেন।  প্রাণের ভয়ে অনেকেই  আবার পশ্চিমা দেশগুলোতে আশ্রয় প্রার্থণা কেরছেন। এছাড়া এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে আল জাজিরা, হেরাল্ড ট্রিবিউন, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ আরো বেশ কিছু পত্রপত্রিকা।

এফ/১৮:৩২/০৭ এপ্রিল

মিডিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে