Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-০৭-২০১৬

‘দেশের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে’

‘দেশের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে’

ঢাকা, ০৭ এপ্রিল- অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘দেশের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আশা করছি, এটি এর নিচে আর নামবে না। প্রবৃদ্ধি এই ৭ শতাংশে উন্নীত করতে ছয়-সাত বছর ধরে আমাদের অবিরাম চেষ্টা করতে হয়েছে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় এই কাঙ্ক্ষিত অর্জন সম্ভব হয়েছে।’

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রিসভার সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এই প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশে উন্নীত করার পেছনে কোন খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি-এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘নিঃসন্দেহে বিদ্যুৎ। আমরা বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পেরেছি। 

আর বিদ্যুৎ হলো উন্নয়নের একটি বড় উপাদান। বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। তবে কৃষিসহ অন্যান্য খাতের অবদানও উল্লেখযোগ্য।’এ বৈঠকে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের এনইসি বৈঠক শেষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাসিক মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি জানান, মার্চে খাদ্যপণ্যের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮৯, যা ফ্রেব্রুয়ারীতে ছিল ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

আর মার্চ মাসে খাদ্য বর্হিভূতপণ্যের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ডাল মাছ-মাংস মসলা চিনি এবং তামাক জাতীয় (সিগারেট) দ্রবাদি মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কিছুটা বেড়েছে।

তিনি বলেন, আমরা মূল্যস্ফীতি ৬ এর কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করছি। সে হিসেবে বছরের শুরুর থেকে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যের মধ্যে আছে।

বিবিএস তথ্য অনুযায়ী, মার্চে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশে।

গ্রামে মার্চে খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৩ দশমিক ০৪ শতাংশে। এছাড়া এ মাসে খাদ্য বর্হিভুত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমেছে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮২ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ৷

মার্চে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ২৭ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ২২ শতাংশে। আর খাদ্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬১ ভাগে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৪৮ ভাগ।

এছাড়া খাদ্যবর্হিভুত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১২ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ১৪ শতাংশ।

একই বৈঠকে মুস্তফা কামাল জানান, চলতি অর্থবছরে মূল এডিপির আকার ১ লাখ ৯৯৭ হাজার কোটি টাকা ছিল। সেখান থেকে ৯৩ হাজার ৮৯৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা করা হয়েছে। 

এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৪ হাজার ৭৩৪ কোটি ৬৮ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২৯ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। যদিও অর্থ বিভাগ থেকে সংশোধিত এডিপির আকার দেয়া হয়েছিল ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

সংশোধিত এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে পরিবহন খাত। পরিবহন খাতে সংশোধিত এডিপির ২২ শতাংশ বা ১৯ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে বিদ্যুত খাত। 

মাতারবাড়ী কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র, ঘোড়াশালের দুটি ইউনিটের রিপাওয়ারিং, পল্লী বিদ্যুতের ১৫ লাখ গ্রাহককে সংযোগ প্রদানসহ বড় কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নে এ খাতে ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগ। 

তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে শিক্ষা ও ধর্ম খাত। শিক্ষার প্রসার ও গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষে এ খাতে নয় হাজার ৮৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রস্তবিত খসড়া অনুযায়ী, ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। 

গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা ও অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। 

স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা এবং কৃষি খাতে ৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে