Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-০৬-২০১৬

সবজি ব্যবসায়ীর পরিচয়ে থাকতেন জেএমবির সদস্য তরিকুল 

সবজি ব্যবসায়ীর পরিচয়ে থাকতেন জেএমবির সদস্য তরিকুল 

বগুড়া, ০৬ এপ্রিল- বগুড়ার শেরপুরে জামাআতুল মুজাহিদিন (জেএমবির) আস্তানায় রোববার গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত তরিকুল ইসলাম (৩০) ছদ্মবেশ ধারণ করে থাকা জেএমবির ইসাবা গ্রুপের সদস্য বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন হামলার টার্গেট নির্ধারণ ও অপারেশনের কাজ পরিচালনা করতেন তিনি। একই সঙ্গে বোমা তৈরি ও টার্গেটে হামলা চালানোয় বিশেষ প্রশিক্ষণ ছিল তার। আর তার সঙ্গে নিহত অপর যুবক ছিল দলটির বোমা বিশেষজ্ঞদের একজন। 

গোয়েন্দা পুলিশ এ তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি জানিয়েছে, দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণে জেএমবির আস্তানার বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। তা না হলে জব্দ করা বোমাগুলো দেশের মধ্যে বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করা হতো।

এ বিষয়ে শেরপুরের জুয়ানপুর কুঠিবাড়ি এলাকার জেএমবির আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা বাড়ির মালিকের মেয়ে সুমাইয়া আকতার পলি জানান, বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় অটোরিকশাচালক মিজান নামে একজন এসেছিলেন। তারই সঙ্গে ছিল তরিকুল। তিনি নিজেকে মিজানের ভগ্নিপতি ও সবজি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।   

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর বাড়ি তল্লাশির সময় তরিকুলের ব্যাগে থাকা তার বড় ভাই কুদরত উল্লাহর পাসপোর্টের সূত্র ধরে তার পরিচয় জানা যায়। নিহত তরিকুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের জামুয়া গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মওলানা আবু বকর সিদ্দিকের ছোট ছেলে। 

২০০৫ সালে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার সময় তরিকুল কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। জঙ্গি সংগঠনে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে তাকে বহিষ্কার করে। এরপর থেকে তরিকুল সিরাজগঞ্জে নিজ গ্রামে এসে জেএমবির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন। 

তবে গত কোরবানির ঈদের পর থেকে তাকে আর নিজ গ্রামে দেখা যায়নি। জঙ্গি সদস্য তরিকুল সম্পর্কে আরো তথ্য জানতে তার পরিবারের চার সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে বলেও জানান বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল।

এর আগে তরিকুলের ব্যাগ থেকে জব্দ করা কাগজপত্রের সূত্র ধরে তার বাবা, ভাই ও বোনসহ ছয়জনকে আটক করে সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশ। এরা হলেন- তরিকুলের বাবা মওলানা আবু বকর সিদ্দিক (৮০), বড় ভাই বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক উল্লাপাড়া শাখার সিনিয়র অফিসার সানাউল্লাহ (৪৫), ভাই জামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিয়াকত হোসেন (৩৬), বরকত উল্লাহ (৩০), ভাবি মেহবুবা আকতার (৩২) ও বোন সাকেরা খাতুন (২৫)। 

এদের মধ্যে চার পুরুষ সদস্যকে বগুড়ায় নিয়ে আসা হয়।

এদিকে, বগুড়া পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তরিকুলের বড় ভাই কুদরত উল্লাহের বিরুদ্ধেও জেমএবি সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। আট বছর আগে তিনি জেএমবি সদস্যদের অন্তর্দ্বন্দ্বের জের ধরে রহস্যজনকভাবে নিহত হন। 

সিরাজগঞ্জে আটক হওয়ার পর তরিকুলের আরেক ভাই ইসলামী ব্যাংক উল্লাপাড়া শাখার সিনিয়র অফিসার সানাউল্লাহ জানান, ছয় ভাইয়ের মধ্যে তরিকুল ইসলাম সবার ছোট। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার সময় সিরাজগঞ্জ আদালত চত্বরে বোমা হামলাকারী হিসেবে পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল সে। তিন বছর হাজতবাসের পর ২০০৯ সালে ওই মামলার রায়ে সে বেকসুর খালাস পায়। এরপর তিনি পড়াশুনা শুরু করেন। তবে গত কোরবানির ঈদের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তরিকুলের আর কোনো যোগাযোগ ছিল না।

তরিকুল নিখোঁজ হওয়ার পর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। মেঝো ভাই আহসান হাবিব ঢাকায় সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেন। আর পঞ্চম ভাই কুদরত উল্লাহ বগুড়ার নজুমা মাদ্রাসায় চাকরিরত অবস্থায় বছর সাতেক আগে গলায় ফাঁস নেওয়া অবস্থায় পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার আগে ও পরে জঙ্গি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও দলটির সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি জামুয়া গ্রামে তরিকুল ইসলামের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। তাদের সঙ্গে বিশেষ সখ্যতা ছিল তরিকুলের।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে নিহত তরিকুলের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অপর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা ছিল।

স্থানীয়রা জানান, গত ৬ মাস ধরে মিজান নামে এক ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক পরিচয়ে জুয়ানপুর গ্রামের মাহবুবর রহমানের বাড়িটি ভাড়া নেন। বাড়ির মালিক মাহবুবর রহমান ঢাকার আশুলিয়ায় বসবাস করেন। তার মেয়ে সুমাইয়া আকতার জুয়ানপুর গ্রামে স্বামীর বাড়িতে বসবাস করেন। তিনরুমের একতলা ভবনটি দুই হাজার ২০০ টাকায় অটোরিকশাচালক মিজানকে ভাড়া দেন সুমাইয়া আকতার। 

শুক্রবার (১ এপ্রিল) সকালে মিজান তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁয় বেড়াতে যান। দুপুরের দিকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির একজন মিজানের ভগ্নিপতি পরিচয়ে ওই বাড়িতে আসেন। তারা মিজানের অনুপস্থিতিতে সেখানে অবস্থান করেন। এরপর রোববার রাত সোয়া আটটার দিকে সেখানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে দুইজন মারা যান। বিস্ফোরণের পর পুলিশ ওই বাড়ি ঘেরাও করে রাখে। 

এস/১৯:৪০/০৬ এপ্রিল

বগুড়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে