Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-০৬-২০১৬

‘আমার পিঠে অস্ত্র রেখে গুলি চালায় ওরা’

মো.মহিউদ্দিন


‘আমার পিঠে অস্ত্র রেখে গুলি চালায় ওরা’

চট্টগ্রাম, ০৬ এপ্রিল- ‘পেছন থেকে গুলি এসে বিদ্ধ করলো বাবার শরীর। মাটিতে ঢলে পড়লেন তিনি। এরপর আমার চাচা ও দুলাভাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বাবার শরীরে কান্নায় ভেঙে পড়ি। আমার পিঠে অস্ত্র রেখে নিরিহ মানুষের উপর গুলি করছে ওরা।’

কথাগুলো বলছিলেন, বাঁশখালীর গণ্ডামারায় এস আলম গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত মর্তুজা আলীর ছেলে মো.মানিক।

মঙ্গলবার চরপাড়ার বাড়ির সামনে কথা হয় তার সঙ্গে। এসময় বাড়ির ভেতরে চলছিল আহাজারি। সংঘর্ষে মানিকের মর্তুজা আলী, চাচা মো.আনোয়ার ও বোনের স্বামী জাকির হোসেন নিহত হয়।

মানিক বলেন, পরশুদিন রাতে গণ্ডামারা এলাকা থেকে পাঁচজন পুরুষকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। ঘরে ঢুকে নারীদের উপর নির্যাতন চালায়। এর প্রতিবাদে সোমবার মধ্যম গণ্ডামারা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র মাঠে সমাবেশ ডাকে এলাকাবাসী।

বিকেল ৩টায় বাবা, দুই চাচা ও বোনের স্বামীসহ মোট পাঁচজন সমাবেশে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন জানিয়ে মানিক বলেন, সমাবেশের কাছাকাছি গেলে দেখতে পাই হাজার খানেক লোক জড়ো হয়েছে। কিন্তু তার আগেই আশ্রয় কেন্দ্রেয় দ্বিতীয় তলায় প্রশাসনের লোকজন অবস্থান নিয়েছে।

‘তারা ওপরে, আমরা নিচে। সামনে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। ওপর থেকে গুলি করলে আমরা পেছন ফিরে আসি। ততক্ষণে নিচে নেমে আসে প্রশাসনের লোকজন। আমাদের পেছন থেকে গুলি করে।’

মানিক বলেন, আমরা সবাই পাশাপাশি ছিলাম। প্রথমে আমার বাবার গায়ে গুলি লাগে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বাবার মাথা হাতে তুলে নেই। এরপর আমার চাচা ঢলে পড়েন। সর্বশেষ আমার বোনের জামাই গুলিবিদ্ধ হয়। তিনজনের গুলিবিদ্ধ শরীর নিয়ে আমি নির্বাক।  

মেডিক্যালে নিতে দেয়নি:
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার জন্য একটি গাড়িতে তিনজনকে তোলা হলেও পুলিশ গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয় অভিযোগ করে আক্ষেপের সঙ্গে মানিক বলেন, বাবা-চাচাকে হাসপাতালে নিতে পারলে তারা হয়তো বাঁচতো। কিন্তু আমাদের তাও করতে দেয়নি।

‘প্রশাসনের সঙ্গে মোকাবেলা করার সাহস সাধারণ মানুষের নেই। তারপরও পুলিশ সাধারণ মানুষের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। এখন মানুষ আর পিছপা হবে না।’

মানিক তার বাবা ও চাচা হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, মানুষ ১৯৭১ সালেও এমন বর্বর হত্যাকাণ্ড দেখেনি। প্রশাসন আমাদের বললে আমরা চলে যেতাম। কিন্তু এভাবে হত্যাযজ্ঞ চালাবে কেন।

তবে পুলিশ বলছে, উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার নির্দেশ পেয়ে আত্মরক্ষার্থে ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষের গুলিতেই চারজন নিহত এবং ১১ পুলিশ সদস্য সহ ৩০জন আহত হয়েছে।  

সোমবার (০৪ এপ্রিল) স্থানীয় হাজীপাড়া স্কুল মাঠে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে-বিপক্ষে দুই গ্রুপের সমাবেশকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

এরপরও দুপক্ষের লোকজন সমাবেশস্থলে এলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এ সময় গ্রামবাসী, আনসার ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, তারা ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে কিছুই জানতেন না। সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট ৪ জন নিহত এবং ১১ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বতসভিটে ও কৃষি জমি ছাড়া আর কোন সম্বল নেই গণ্ডামারা এলাকাবাসীর। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ফসলি জমি ও ভিটেমাটি হারাচ্ছে।ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিরোধীতা করছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সহকারী সমন্বয়কারী বাহাদুর আলম হিরণ বলছেন, জমির প্রকৃত মালিকদের কাছে তাদের পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। ব্যবস্থা করা হয়েছে পুনর্বাসনের। তবে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এস আলম গ্রুপ টাকা দিলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান সমন্বয়কারী মো. নাছির উদ্দিন টাকা আত্মসাৎ করেছে। ফলে জমির মালিকরা প্রকৃত অর্থ পায়নি। এতে ক্ষোভ বেড়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নাছির উদ্দিনের মোবাইলে কল দেওয়া হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

আর/১৭:০৬/০৪ এপ্রিল

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে