Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-০৬-২০১৬

ভিত্তি পেল দেশের প্রথম বার্ন ইনস্টিটিউট

ভিত্তি পেল দেশের প্রথম বার্ন ইনস্টিটিউট

ঢাকা, ০৬ এপ্রিল- সারা দেশের কয়েক লাখ পোড়া রোগীকে সেবা দিতে দেড় হাজার বিশেষজ্ঞ সার্জন তৈরির লক্ষ্য নিয়ে শুরু হলো ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের’ নির্মাণ কাজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার রাজধানীর চাঁনখারপুলে দেশের প্রথম এই বার্ন ইনস্টিটিউটের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

দেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “বহু লোক বিদেশে চলে যাচ্ছে চিকিৎসা নিতে। হ্যাঁ, যারা বড়লোক তারা বিদেশে যাবে তাতে আমার আপত্তি নাই। “কিন্তু সমমানের চিকিৎসা আমাদের দেশের ডাক্তাররা দিতে পারবে না এটা আমি বিশ্বাস করি না। কারণ আমার দেশের ডাক্তাররা যথেষ্ট মেধাবী। তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। উন্নত ব্যবস্থা করতে হবে।”

নতুন এই ইনস্টিটিউট চিকিৎসা, গবেষণা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং প্লাস্টিক সার্জারি সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে’ পরিণত হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। বিশ্বমানের এই ইনস্টিটিউটের সঙ্গে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য থাকবে ৫০০ শয্যার হাসপাতালে। চাঁনখারপুলে ১ দশমিক ৭৬ একর জমিতে এই ইনস্টিটিউট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩৪ কোটি টাকা।

২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পাওয়া এ প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা যাবে বলে আশা করছে সরকার।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের  সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন অনুষ্ঠানে জানান, দেশে প্রতিবছর গড়ে ৬ লাখ মানুষ বিভিন্নভাবে দগ্ধ হন। তাদের চিকিৎসার জন্য কমপক্ষে দেড় হাজার ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ সার্জন প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ৫২ জন সেই সেবা দিচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বর্তমানে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) এফসিপিএস ডিগ্রি দিলেও সেই উচ্চ শিক্ষার সুযোগ খুবই সীমিত। নতুন এই ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু হলে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১২ জন চিকিৎসক এ বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবেন।

# বার্ন ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল নির্মিত হবে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে।

# দুই তলা বেইজমেন্টসহ মোট ১২ তলা বহুতল ভবন হবে তিনটি ব্লকে।

# একটি ব্লকে বার্ন, একটিতে প্লাস্টিক ও অন্যটিতে একাডেমিক ভবন হবে।

১৯৮৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ছয়টি বেড নিয়ে বার্ন বিভাগ চালু করেন দেশের প্রথম প্লাস্টিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। অধ্যাপক সামন্ত লালের চেষ্টায় ২০০৩ সালে সেটি ৫০ বেডের পূর্ণাঙ্গ ইউনিট হিসেবে কাজ শুরু করে।

২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৭ জনের মৃত্যুর পর বার্ন ইউনিটের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ ইউনিটের বেড বেড়ে প্রথমে ১০০ ও পরে ৩০০ হয়।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে বিএনপির আন্দোলনের মধ্যে দেশগুড়ে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হাজার হাজার রোগী এই বার্ন ইউনিট থেকেই চিকিৎসা নেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমসহ অন্যদের বক্তব্যেও সেসব ঘটনার কথা উঠে আসে।

এসব বিষয় বিবেচনা করেই গত বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় প্লাস্টিক সার্জারি বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আন্তর্জাতিক মানের একটি বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট স্থাপনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর ধারাবাহিকতায় প্রকল্প তৈরির কাজ শুরু হয় এবং চানখাঁরপুল টিবি হাসপাতালকে মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত করে ওই জমিতে ৫০০ শয্যার এই ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়। 

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে এই ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের সংযোগের জন্য একটি উড়াল সেতু করার নির্দেশ দেন এবং সেনাবাহিনী নির্দিষ্ট সময়ের আগে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন। স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক বক্তব্য দেন।

এফ/১৭:০২/০৬ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে