Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.7/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-০৬-২০১৬

বৈশাখ বরণের প্রস্তুতি

মোস্তফা মতিহার


বৈশাখ বরণের প্রস্তুতি

ঢাকা, ০৬ এপ্রিল- চৈত্রের এখন মধ্য বয়স। বৈশাখ প্রায় সমাগত। ঐক্য ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধের অঙ্গীকারে আর কদিন পরেই বাঙালির দরজায় কড়া নাড়বে পয়লা বৈশাখ। অসাম্প্রদায়িকতার সেতুবন্ধে ওইদিন সমগ্র বাঙালি উদ্দীপনা, উচ্ছ্বাস, আবেগ আর উল্লাসে উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে উঠবে বৈশাখ বরণে। ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ রবীন্দ্রনাথের চিরায়ত বাঙালি চেতনার এই গানের সঙ্গে চির নতুনের ডাকে পয়লা বৈশাখের ভোরে জেগে উঠবে নগর-গ্রাম-মফস্বল। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির একমাত্র এই অসাম্প্রদায়িক উৎসবে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের সব শ্রেণি-পেশার মানুষেরা বাংলা নববর্ষবরণে জেগে উঠবে প্রাণের আনন্দে আর আবেগের উচ্ছলতায়। রমনায় গান ও চারুকলায় আনন্দ মিছিলের পাশাপাশি রাজপথে নাগরিকদের জটলা পয়লা বৈশাখকে করে তুলবে আনন্দ ও সুষমমণ্ডিত। পান্তার সঙ্গে ইলিশের স্বাদে বাঙালির পয়লা বৈশাখের আনন্দের ঢেউ আছড়ে পড়বে গ্রাম থেকে নগরে, শহর থেকে বন্দরে। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে এদিন বৈশাখ ও বাঙালিয়নার উন্মাদনায় মেতে উঠবে সমগ্র বাঙালি। বাঙালির একমাত্র অসাম্প্রদায়িক উৎসবকে ঘিরে বরাবরের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ হাতে নিয়েছে নানা ধরনের কার্যক্রম। বাঙালির পয়লা বৈশাখের সবচেয়ে বড় মঙ্গলশোভাযাত্রাটি বের করে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

চিরনতুনের কেতন উড়িয়ে পয়লা বৈশাখ তথা বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে বাঙালি এবং বিশ্বাসীর দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেওয়ার ব্রত নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বর্তমানে দম ফেলারও ফুরসত নেই। মূলত, চারুকলার এই আয়োজনটিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়ে থাকে রাজধানীর বৈশাখ বরণের কার্যক্রম। সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে মায়ের হাতে সন্তানের মৃত্যু কিংবা সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের অযত্ন-অবহেলার প্রেক্ষাপটে নির্ধারিত হয়েছে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল বিষয়। রবিঠাকুরের গানের পঙিক্ত ‘অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে’ পয়লা বৈশাখ ১৪২৩-এর স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখনো পয়লা বৈশাখ ১৪২৩-এর মঙ্গল শোভাযাত্রার সবকিছু চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই দেখছি, মা ও সন্তানের সম্পর্কটা ফিকে হয়ে পড়ছে। এর পাশাপাশি সারা দেশে ক্রমাগত ঘটছে শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা। আমাদের চারপাশের এসব বিষয়কে সামনে রেখেই এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি পর্ব চলছে। মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল উদ্দেশ্যটি উল্লেখ করে নিসার হোসেন বলেন, সংস্কৃতির ভিতর দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক অবস্থানের কথাই প্রকাশ করে এই শোভাযাত্রা। অসাম্প্রদায়িকতা চর্চার পথ ধরেই বেড়ে ওঠা শোভাযাত্রাটি এখন গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে সবার কাছে।

বাঁশের চটা বেঁধে তৈরি বাঘ, হাঁস, বিড়াল, শখের হাড়ি, শিশু হরিণ, পেঁচা, কাগুজে বাঘ ইত্যাদি অনুষঙ্গগুলো বরাবরের মতো থাকবে বলেও তিনি জানান। আর এই মঙ্গল শোভাযাত্রাকে সফল করতে চারুকলার ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ও ব্যস্ত সময় পার করছেন। চারুকলা প্রাঙ্গণে এখন কেউ জলরঙে ছবি আঁকছেন, কেউ সরায় ফুটিয়ে তুলছেন বাহারি দৃশ্য, আবার কেউ মুখোশ তৈরির কাজে ব্যস্ত।

বিক্রি করার জন্য শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে পাখির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা, সরার দাম ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা, জল রঙে আঁকা বিভিন্ন চিত্রকর্মের দাম ধরা হয়েছে ২০০০ টাকা থেকে ১০০০০ টাকা এবং বিভিন্ন মুখোশের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ টাকা থেকে ৮০০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া হাত পাখা, বিভিন্ন শো-পিসও বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। যার দাম ১০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। গত ১৬ মার্চ বৈশাখ বরণের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি পর্বের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী রফিকুননবী ও মনিরুল ইসলাম।

ঐতিহ্য ও শেকড়ের টানের এমন আয়োজনকে সফল করার জন্য অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও চারুকলা অনুষদ কোনো স্পন্সর কোম্পানির দ্বারস্থ হয়নি বলে এই প্রতিবেদককে জানান চারুকলার বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। নিজস্বতা ও স্বকীয়তাকে বজায় রেখে বাংলা সংস্কৃতির শৈল্পিক উপস্থাপনায় নিজেদের তৈরি শিল্পকর্ম ও চিত্রকর্ম বিক্রি করেই তারা তহবিল গঠন করছেন। অন্যদিকে সহপাঠীদের তৈরি এসব শিল্পকর্ম ও চিত্রকর্ম বিক্রি করে মঙ্গল শোভাযাত্রায় ফান্ড তৈরিতে এসবের বিক্রিতে ব্যস্ত আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শৈল্পিক ও সৃজণশীল এই অনুষদের অন্য শিক্ষার্থীরা। বাংলা সংস্কৃতিপ্রিয় বাঙালিদের কাছ থেকে বরাবরের মতো এবারও ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান এই আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্তরা। নিজেদের পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষকদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতা এই আয়োজনের সফলতার অংশীদার হয়ে থাকবে বলে মনে করেন চারুকলার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা। প্রাণে প্রাণে সুর মিলিয়ে জাতি-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে বাঙালিপনায় পয়লা বৈশাখে বাঙালি একাকার হয়ে যাবে বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় এমন প্রত্যয় থেকেই চারুকলার শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে যাচ্ছেন। পয়লা বৈশাখ ১৪২৩-কে স্বাগত এবং পুরনো বছর ১৪২২-কে বিদায় জানানোর লক্ষ্যে ১৩ এপ্রিল বিকালে চারুকলায় অনুষ্ঠিত হবে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালে চারুকলা অনুষদের আয়োজনে প্রথমবারের মতো বের করা হয় মঙ্গলশোভাযাত্রা। আর তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর বের করা হচ্ছে বাংলা নববর্ষ বরণের এই মঙ্গলশোভাযাত্রা।বর্ষবরণের সময় নিয়ন্ত্রণ ও মুখোশ নিষিদ্ধে উদীচীর প্রতিবাদ : ভুভুজেলা নিষিদ্ধকে স্বাগত

পয়লা বৈশাখ বাংলা ও বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সময় নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। একই সঙ্গে মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ ব্যবহার নিষেধ করা নিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তেরও নিন্দা জানিয়েছে উদীচী। তবে, উদীচীসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সচেতন মানুষের দাবি অনুযায়ী, বিকট আওয়াজের বিদেশি সংস্কৃতির পরিচায়ক ভুভুজেলা বাঁশি নিষিদ্ধ করায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে উদীচী। গত সোমবার সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি কামাল লোহানী ও সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদার।

এফ/০৯:১৫/০৬ এপ্রিল

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে