Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.8/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-০৫-২০১৬

ঘরের মায়ময় আলোকসজ্জা

ঘরের মায়ময় আলোকসজ্জা

সকাল থেকেই কাজের পেছনে ছোটাছুটি। গৃহিনী, চাকরিজীবী যেই হোক না কেন ব্যস্ততা থেকে রেহাই পান না কেউ। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর দিনশেষে ঘরে ফিরেই সতেজ হতে চায় মন। বসার ঘরে বসে টিভি দেখা, ব্যালকনিতে হালকা স্নিগ্ধ আলোয় গা এলিয়ে বসা কিংবা শোবার ঘরে বই পড়া। আপনি যেটাই বেছে নিন না কেন, ঘরের আলোকসজ্জার ওপর মানসিক প্রশান্তি নির্ভর করে শতভাগ। রাতে প্রাকৃতিক আলো না থাকায় কৃত্রিম আলোই একমাত্র ভরসা। কিন্তু আপনার সতেজতা ফিরিয়ে আনতে দরকার সেই কৃত্রিম আলোর সঠিক ব্যবহার।

ঘরের কোন জায়গা কী হিসেবে ব্যবহার করছেন তার ওপর আলোকসজ্জা অনেকাংশে নির্ভর করে। নিজের পছন্দ এবং রুচির ক্ষেত্রেও আলোকসজ্জা নির্ভর করে। বাড়ির প্রবেশপথ থেকে শুরু করে বসার ঘর, খাবার ঘর, শোয়ার ঘর, পড়ার ঘর, ব্যালকনি সবখানেই কৃত্রিম আলো তৈরি করে ভিন্নমাত্রা। এনে দেয় মায়াময় অনুভূতি!

বাড়ির প্রবেশপথ হলো অতিথিদের অভ্যর্থনার স্থান। প্রবেশপথের আলাকসজ্জা রুচিশীল হলে ঢোকার পথেই আপনার সম্পর্কে ভিন্ন ধারণার জন্ম নেবে অতিথির মনে। বাড়ির প্রবেশপথে কম উজ্জ্বলতার এবং হালকা রঙের আলোকবাতির ব্যবহার আজকাল বেশ দেখা যায়। তবে এমন হালকা আলো ব্যবহার করা উচিত নয়, যাতে অতিথির চলাচলে অসুবিধা হয়। অনেকে প্রবেশ পথের দুই পাশের দেওয়ালে বিভিন্ন পেইন্টিংসও ঝুলিয়ে রাখেন। এক্ষেত্রে পেইন্টিংসগুলোতে বাড়তি স্পট লাইট দিয়ে হাইলাইট করতে পারেন। এতে পেইন্টিংসগুলো সবার দৃষ্টিগ্রাহ্য হবে। সিঁড়িতে আলোর সুইচবোর্ড এমন স্থানে হওয়া উচিৎ যাতে নিচে এবং উপরে উভয় দিক হতেই ব্যবহার করা যায়।

বসার ঘরে লোকসমাগম একটু বেশি হয়। মনে রাখবেন, ঘরের দেয়ালের রঙ আলোকসজ্জার ক্ষেত্রে একটি মোক্ষম ভূমিকা পালন করে। বসার ঘরে উজ্জ্বল আলোকসজ্জাই সবার বেশি পছন্দ। বসার ঘরে দেওয়ালে হলুদ রঙ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে বন্ধুভাবাপন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হবে। দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিল রেখে কিংবা বিপরীত রঙের এবং বাহারি নকশার আলোকবাতির ব্যবহার পুরো জায়গাকে করে তুলতে পারে আরও সুন্দর। শুধু তা-ই নয়, বসার ঘরের আসবাবের জমিন ও রঙের সঙ্গে মিল রেখেও ব্যবহার করতে পারেন বাতি। ঘরের এক কোণে ল্যাম্পশেড, কর্নার ক্যাবিনেট কিংবা শোকেসগুলোতেও ব্যবহার করতে পারেন কম উজ্জ্বলতার ছোট আকারের আলোকবাতি। এ ছাড়া ফলস সিলিং ব্যবহার করে তার মাধ্যমে হালকা ও স্নিগ্ধ আলোর ব্যবস্থা করতে পারেন আপনি। এতে বসার ঘরের সৌন্দর্য বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

খাবার ঘরের আলোটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। খাবার ঘরে আলোকসজ্জার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে খাবার টেবিলের ওপর যাতে আলো পড়ে। সাধারণত খাবার টেবিলের ওপর সিলিং থেকে ঝুলন্তবাতি ব্যবহার করা হয়, যাতে খাবার সময় টেবিলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকে। আলোর উজ্জ্বলতা যাতে খাবার সময় বিরক্তির সৃষ্টি না করে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। তবে কম উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করলে অসুবিধা হতে পারে। অনেকে খাবার টেবিলের পাশে শোকেসে সিরামিকের তৈজসপত্র সাজিয়ে রাখেন। এক্ষেত্রে শোকেসের তৈজসপত্র যাতে সহজে ফুটে উঠে সেদিকে খেয়াল রেখে আলোর ব্যবস্থা করতে হবে।

শোবার ঘরটি আপনার একান্তই নিজস্ব। এখানে আলোক বিন্যাসটাও তাই সম্পূর্ণ আপনার রুচি এবং স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত শোবার ঘরের জন্য হালকা রঙের, তুলনামূলক কম উজ্জ্বলতার ও দৃষ্টিসহনীয় আলো ব্যবহৃত হয়ে থাকে। শোবার ঘরের দেওয়ালের রঙ নীল বা সবুজ ব্যবহার করা যেতে পরে। এতে ঘরটি শান্ত ও স্নিগ্ধ মনে হবে। যাদের শোয়ার ঘরে ড্রেসিং টেবিল আছে, তারা এমনভাবে আলোকসজ্জা করতে পারেন যাতে আয়নার সামনে দাঁড়ালে পর্যাপ্ত আলো পাওয়া যায়। এছাড়া ঘরে রকমারি নকশার টেবিল ল্যাম্প ব্যবহার করেও একঘেয়ে ভাবটা কাটানো যায়। ওয়াল কেবিনেটেও স্পট লাইটের মাধ্যমে ঘরের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা যায়।

পড়ার ঘরের জন্য এমনভাবে কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করা উচিত, যাতে একই সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য এবং দৃষ্টি সহনীয় হয়। বিশেষ করে পড়ার টেবিলে যাতে সঠিকভাবে আলো আসে, সে দিকটি লক্ষ্য রাখতে হবে। আপনি ইচ্ছা করলে বই রাখার তাকগুলোতেও আলোর ব্যবস্থা করতে পারেন। পড়ার ঘরের দেয়ালের রঙ হওয়া উচিত হালকা ধূসর, সাদা বা হালকা গোলাপি। এতে ঘর উজ্জল দেখাবে।

বাড়িতে শিশুদের ঘরটিতে উজ্জ্বল আলোর ব্যবস্থার ওপর বেশি নজর দিতে হবে। ঘরের দেয়ালে বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করতে পারেন। বিভিন্ন রকম কার্টুনের ছবি দিয়ে সাজিয়ে দিতে পারেন শিশুর ঘর।

এফ/১৬:২৮/০৫ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে