Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-০৫-২০১৬

কানাডায় ইতিহাস বদলকারী ভাইকিং সাইট আবিষ্কৃত

আরাফাত পারভেজ


কানাডায় ইতিহাস বদলকারী ভাইকিং সাইট আবিষ্কৃত

স্ক্যান্ডেনেভিয়ার (বর্তমানের নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক) দুঃসাহসী ভাইকিং জাতিদের কথা কে না শুনেছে? অষ্টম শতক থেকে এগারোশো শতকের শেষপর্যন্ত তারা রাজত্ব করেছে ইউরোপ এবং রাশিয়ায় অনেক অঞ্চলে। এজন্য ঐ সময়টাকে বলা হয় ভাইকিং এজ। কিন্তু কানাডা কিংবা উত্তর আমেরিকায় তো তাদের যাওয়ার কথা নয়। অথচ কানাডার একটি দ্বীপে খোঁজ পাওয়া গেছে এক হাজার বছরের পুরনো একটি ভাইকিং সাইট। ব্যাপারটি নিশ্চিত হলে, ইতিহাস নতুন করে লিখতে হবে। কারণ ইতিহাস বলে ক্রিস্টোফার কলোম্বাস হচ্ছেন সর্ব প্রথম ইউরোপীয় যিনি উত্তর আমেরিকায় পা দিয়েছেন।  

উত্তর আমেরিকার মূল ভূখণ্ড থেকে কয়েকশো মাইল দক্ষিণে কানাডার নিউফাউণ্ডল্যান্ড দ্বীপে মাটি খুঁড়ে আবিষ্কার করা হয়েছে লৌহকর্মে ব্যবহৃত একটা পাথর। এই পাথর বলছে, আগে যেমনটা ভাবা হয়েছিল ভাইকিংরা তারও অনেক আগে পৌঁছেছে এই অঞ্চলে। 


এই মুহূর্তে দ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত পয়েন্ট রোজি নামের একটি সরু স্থানে নতুন আবিষ্কৃত এই ভাইকিং সাইটে খোঁড়াখুঁড়ি অব্যাহত রেখেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি দল । ল’আনস অক্স ম্যাডোস নামের এই প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটটিই উত্তর আমেরিকায় ভাইকিংদের একমাত্র সাইট। সাইটটি প্রথম আবিষ্কার করা হয় ১৯৬০ সালে।

ল’আনস অক্স ম্যাডোসে ভাইকিংদের আবাস খুব বেশিদিন ছিল না। প্রত্নতাত্ত্বিকরা গত ৫০ বছর ধরে তারা ঐ জায়গায় খোঁজাখুঁজি করছেন ভাইকিংদের অভিযানের আরও কিছু চিহ্নের জন্য। মার্কিন প্রত্নতাত্ত্বিক সারাহ পারচাক এই অনুসন্ধান কাজে ব্যবহার করেছেন স্যাটেলাইট দিয়ে তোলা ছবি। তিনি এর আগেও প্রাচীন মিশরীয় শহর, মন্দির এবং দুর্গ খুঁজে বের করতে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিলেন।  


কানাডার নিউফাউণ্ডল্যান্ডের ল’আনস অক্স ম্যাডোসে ভাইকিংদের একমাত্র আবাস

গত বছরের জুন মাসে স্যাটেলাইটের তোলা কিছু ছবিতে কানাডার দূরবর্তী একটি জায়গায় মানুষের কর্মকাণ্ডের নিশানা আবিষ্কার। প্রাচীন ভাইকিংরা আধুনিক সময়ের কোন স্থানে থাকতে পারেন সে ব্যাপারে মিল খোঁজেন তিনি। এই পদ্ধতি তিনি মিশরের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেছিলেন।

এ সাম্ভাব্য জায়গা খুঁজে পাওয়ার পরে প্রত্নতাত্ত্বিকরা একটি অগ্নি শিলা খুঁজে পান। এই পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল লোহার কাজ করার জন্য। নরওয়েবাসীদের অভিবাসন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডগলাস বলেন্ডার ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনকে বলেন, এই কাহিনীগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে খুব অল্প সময়ের জন্য একটি আবাসন গড়ে তোলার ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়েছিল এইখানে। 


তিনি বলেন, ‘ল’আনস অক্স ম্যাডোস এই কাহিনীর সাথে ঠিকমতই মিলে যাচ্ছে, কিন্তু এটা মাত্র একটি সাইট।’ পয়েন্ট রোজি এই গল্পে হয়তো আরও সহায়তা করবে, কিংবা পুরোপুরি পাল্টে দিতে পারে যদি দিন তারিখ না মেলে। হয়তো বেরিয়ে পড়বে নরওয়েবাসী আমাদের ধারণার আরও অনেক আগেই এসেছিল এখানে।’   

যদিও প্রত্নতাত্ত্বিকদের হাতে এখনো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই যাতে তারা বলতে পারবেন যে, ভাইকিংরা একদা আবাস গড়েছিল নিউফাউন্ডল্যান্ডে। কিন্তু যদি তারা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে ইতিহাস বদলে যাবে। প্রমাণিত হবে, ক্রিস্টোফার কলোম্বাসেরও পাঁচ শতাব্দী আগে ভাইকিংরা এসেছিল আমেরিকায়। 


এফ/০৯:৩৯/০৫ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে