Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-০৪-২০১৬

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে রণক্ষেত্র, গুলিতে নিহত ৩

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে রণক্ষেত্র, গুলিতে নিহত ৩

চট্টগ্রাম, ০৪ এপ্রিল- চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে পুলিশ-গ্রামবাসী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশের গুলিতে ৩ গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে পুলিশ ও আনসারসহ অন্তত ৩০ জন। সোমবার বিকাল তিনটার দিকে হাজী পাড়া স্কুল মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গ্রামবাসীরা হলেন- উপজেলার পশ্চিম গন্ডামারা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের আশরফ আলীর ছেলে মর্তুজা আলী, আংকুর মিয়া ও পাঠান পাড়ার জাকির হোসেন। তারা এস আলমের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জমি দিতে অনাগ্রহী গ্রামবাসী। আহতদের মধ্যে তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান জানান, গত শনিবার সকালে এস আলমের কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় ৪টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও দুটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ ১০ গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার করে। এর প্রতিবাদে আজ সোমবার বিকাল ৩টায় হাজী পাড়া স্কুল মাঠে সমাবেশের ডাক দেয় প্রতিরোধ কমিটি।

অপর দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল আলম এস আলম গ্রুপের পক্ষে একই স্থানে সমাবেশের ডাক দেয়। ফলে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। কিন্তু ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিকাল ৩টায় প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে লোকজন স্কুল মাঠে সমবেত হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ফলে সংঘর্ষ বাধে। এতে পুলিশের পক্ষে সংঘর্ষে যোগ দেয় শামসুল আলম। ত্রি-মুখি এ সংঘর্ষে অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়োজিত আনসার সদস্যরা গুলি ছুড়ে। এতে ৩ গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

সংঘর্ষে গ্রামবাসীর হামলায় ১১ পুলিশ, ৯ আনসার সদস্য ও ১০-১২জন গ্রামবাসী আহত হয়েছে বলে জানান ইউএনও শামসুজ্জামান। এদের মধ্যে তিন জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার জানান, গ্রামবাসী পুলিশকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়ে। এতে তিন গ্রামবাসী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন।

উল্লেখ্য, বাঁশখালি উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের গন্ডামারার বিস্তীর্ণ ফসলি জমির ও বঙ্গোপসাগরের পার দখল করে প্রায় ২০ হাজার কোটি ব্যয়ে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা হয়।

কিন্তু জমি দখল নিয়ে শুরু হয় জমির মালিকদের সঙ্গে বিরোধ। যা নিয়ে এ পর্যন্ত তিনদফা সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা হয়। যার সূত্র ধরে পুলিশ গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তারের নামে হয়রানি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে চরম উত্তেজনা দেখা দেয় এলাকাবাসীর মাঝে। যার ফলে আজকের এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এফ/২২:৫৬/০৪ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে