Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 5.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-০৪-২০১৬

সরানো হচ্ছে জিয়ার কবর

সরানো হচ্ছে জিয়ার কবর

ঢাকা, ০৪ এপ্রিল- রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার উত্তর পাশে চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে সরিয়ে এ কবর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সেক্টর কমান্ডারদের জন্য সংরক্ষিত এলাকায় নেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্থপতি লুই আই কান প্রণীত জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার মূল নকশায় কবরস্থানের জন্য কোনো জায়গা রাখা হয়নি বলে জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে জানানো হচ্ছে, সংসদ ভবন এলাকার মূল নকশা আনতে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র যাবে। সে প্রক্রিয়ায় আগামী জুনের মাঝামাঝি সময়ে হাতে আসবে নকশার অনুলিপি। সেটি হাতে এলেই কবরসহ সংসদ এলাকার নকশার বাইরের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত উদ্যোগ নেবে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, মূল নকশার অনুলিপি হাতে এলে সরিয়ে নেওয়া হবে সংসদ ভবনের দক্ষিণ চত্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত জাতীয় কবরস্থানের সাতটি কবরও। সেখান থেকে কিছু কবর যাবে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। আর বিতর্কিত ব্যক্তিদের কবর সরানো হবে নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে বা কোনো সরকারি কবরস্থানে।

সংসদ ভবনের দক্ষিণ চত্বরের কোণে যে সাতজনের কবর রয়েছে তারা হলেন- সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান ও আতাউর রহমান খান, সাবেক মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়া, মুসলিম লীগ নেতা খান এ সবুর, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ এবং পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার তমিজউদ্দীন খান। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই সাতজনকে এখানে কবর দেওয়া হয়।

লুই আই কানের নকশা অনুযায়ী পাকিস্তান আমলে ১৯৬১ সালে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৮২ সালে। এরমধ্যে ১৯৮১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হলে তাকে শেরেবাংলা নগরের ওই উদ্যানে দাফন করা হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমানের কবরকে কেন্দ্র করে চন্দ্রিমা উদ্যানের নাম পরিবর্তন করে ‘জিয়া উদ্যান’ রাখে। একইসঙ্গে সেখানে সমাধি সৌধ নির্মাণ করে। এছাড়া কবরের কাছে যাওয়ার জন্য ক্রিসেন্ট লেকের ওপর একটি বেইলি ব্রিজও বানায়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে উদ্যানটিকে ফিরিয়ে দেয় তার আগের নাম ‘চন্দ্রিমা উদ্যান’। পাশাপাশি ক্রিসেন্ট লেকের ওপর থেকে বেইলি ব্রিজটিও সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ২০০১ সালে আবারও বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেখানে কংক্রিটের ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের পাশাপাশি একটি কমপ্লেক্স গড়ে তোলে। কমপ্লেক্সের চারদিকে চারটি প্রবেশপথের রয়েছে ঝুলন্ত সেতু, সম্মেলন কেন্দ্র ও মসজিদসহ চারটি স্থাপনা।

আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসার পর ২০১৪ সালের ১৭ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এক সভায় জিয়াউর রহমানের কবর চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বছরেরই ৭ জুলাই একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ ভবনের ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি লুই আই কানের নকশা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যদি কবরগুলো সরানোর দরকার হয়, তবে তা করবে সরকার।

এরপর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি করে ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে স্থপতি লুই আই কানের নকশায় শেরেবাংলা নগর এলাকায় কবরস্থানের জন্য কোনো জায়গা রাখা হয়নি উল্লেখ করে জিয়াউর রহমানের কবরসহ জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত সব ক’টি কবর সরানোর পক্ষে মত দেওয়া হয়।

এরপর থেকেই সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে সংসদ ভবন এলাকা থেকে জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে তার জন্মস্থান বগুড়া জেলার বাগবাড়ীর গ্রামে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কথা হয়। তবে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে জিয়াউর রহমানের কবর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সেক্টর কমান্ডারদের জন্য সংরক্ষিত এলাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সংসদ এলাকার ভেতরে অবশিষ্ট সাতজনের কবরও সুবিধাজনক জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এক্ষেত্রে বিতর্ক এড়াতে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার আর্কাইভে সংরক্ষিত লুই আই কানের মূল নকশার অনুলিপি আনার জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং স্থাপত্য অধিদফতর যৌথ উদ্যোগে নকশা আনার প্রক্রিয়া শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে গত ২৯ মার্চ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার আর্কাইভে লুই আই কানের প্রায় ৮ হাজার নকশা আছে। এর মধ্যে ৮৫৩টি নকশা গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ৮৫৩টি নকশাই সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত হয়। এজন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র পাঠানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বৈঠকে।

সূত্রমতে, নকশা আনতে প্রতিনিধি দলে থাকবেন স্থাপত্য অধিদফতর থেকে দু’জন, গণপূর্ত অধিদফতর থেকে একজন, পিডব্লিউডি থেকে একজন এবং সংসদ সচিবালয় থেকে একজন।

সংসদে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জানানো হয়, লুই আই কানের নকশা প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত একজন স্থপতি এখনও বেঁচে আছেন। মে মাসে প্রতিনিধি দলটি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তার সঙ্গেও দেখা করবে। সার্বিক প্রক্রিয়া শেষে জুনের মাঝামাঝি সময়ে হাতে আসবে নকশার অনুলিপি। তারপরই কবরসহ নকশার বাইরের  স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত উদ্যোগ নেবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণাল

আর/১৭:২৯/০৪ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে