Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-০৪-২০১৬

রিজার্ভ চুরি: আরও ৮ লাখ ডলার ফেরত দিলেন কিম

রিজার্ভ চুরি: আরও ৮ লাখ ডলার ফেরত দিলেন কিম
চুরি যাওয়া রিজার্ভের মধ্যে দুই কোটি ১৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ কিম অংয়ের ইস্টার্ন হাওয়াইতে যায়।

ম্যানিলা, ০৪ এপ্রিল- বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভের অর্থ আরও প্রায় ৮ লাখ ৩১ হাজার ডলার ফিলিপিন্সের মুদ্রা পাচার কর্তৃপক্ষের (এএমএলসি) কাছে ফেরত দিয়েছেন ক্যাসিনোর জাঙ্কেট অপারেটর কিম অং। সোমবার সকালে আইনজীবীর মাধ্যমে কিম ওই অর্থ ফেরত দেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন এএমএলসির নির্বাহী পরিচালক জুলিয়া বাকে-আবাদ।

তবে ৩৮ দশমিক ২৮ মিলিয়ন পেসোর মধ্যে দুটি ৫০০ পেসোর নোট জাল ধরা পড়ায় ফেরত দেওয়া কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হয় বলে দ্য ইনকোয়ারারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জুলিয়া বলেন, সকাল ১১টা থেকে দুই ঘণ্টা ধরে ওই মুদ্রাগুলো গণনা করে দুটি জাল নোট পাওয়া যায়।

কিমের আইনজীবী ভিক্টর ফার্নান্দেজ বলেন, কিম অংয়ের আইনি পরামর্শক ইনোসেনসিও ফেরারকে নিজের পকেট থেকে ওই দুটি জাল নোট বদলে দিতে হয়েছে। “ইস্টার্ন হাওয়াই লেইজার কোম্পানি এবং/অথবা মাইডাস ক্যাসিনোতে শুহুয়া গাওয়ের ফেলে যাওয়া তহবিল থেকে এই ৩৮ দশমিক ২৮ মিলিয়ন পেসো দেওয়া হয়েছে।”


ফিলিপিন্স সিনেটের ব্লু রিবন কমিটির মঙ্গলবারের শুনানিতে চীনা বংশোদ্ভূত ক্যাসিনোর জাঙ্কেট অপারেটর কিম অং

ফিলিপিন্সে চুরি করে নিয়ে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে এর আগে ‌‘ধার উসুল’ হিসেবে পাওয়া ৪৬ লাখ ডলারের বেশি এএমএলসির কাছে ফেরত দেয় কিম অং। তার এই আইনজীবী বলেন, কিম অংয়ের কাছ থেকে গাওয়ের ধার করা ৪৫০ মিলিয়ন পেসোর (প্রায় এক কোটি  ডলার) বাকি অর্থ ফেরত দিতে আরও ১৫ থেকে ৩০ দিন লাগতে পারে।

ফেব্রুয়ারির শুরুতে ভুয়া নির্দেশনা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপিন্সের রিজল কর্মাশিয়াল ব্যাংক পাঠানো হয়। রিজল ব্যাংকের চারটি অ্যাকাউন্ট থেকে ওই অর্থ ক্যাসিনোর জুয়ার টেবিলে হাতবদল হয়ে ফিলিপিন্সের মুদ্রা ব্যবস্থায় মিশে যায় বলে স্থানীয় পত্রিকাগুলি খবর প্রকাশ করে।

রিজার্ভ চুরির ঘটনার পেছনে চীনা বংশোদ্ভূত ক্যাসিনোর জাঙ্কেট অপারেটর কিম অংকেই মূল ব্যক্তি বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। তবে এই ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বেইজিংয়ের শুহুয়া গাও এবং ম্যাকাওয়ের ডিং জিজে নামে দুই জাঙ্কেট এজেন্ট ফিলিপিন্সে নিয়ে যায় বলে সিনেট কমিটির শুনানিতে দাবি করেছেন কিম অং।

অংয়ের ভাষ্যমতে, গাও প্রায়ই ফিলিপিন্সে যাওয়া-আসা করেন এবং গত আট বছর ধরে জুয়ার মক্কেল (জাঙ্কেট এজেন্ট) এনে দেন। এই মহলে পরিচিতি রয়েছে তার। ম্যাকাওয়ের ব্যবসায়ী ডিংকেও তিনিই তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

গাও একবার সোলায়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোতে এক সপ্তাহের মধ্যে ৪৫০ মিলিয়ন ফিলিপিনো পেসো (প্রায় এক কোটি  ডলার) হেরে ওই অর্থ তার কাছ থেকে ধার করেছিলেন। বাংলাদেশের চুরি যাওয়া অর্থ থেকে ওই এক কোটি ডলার গাও তাকে পরিশোধ করেন বলে সিনেট শুনানিতে দাবি করেন অং।

এই এক কোটি ডলারের বাইরে দুটি ক্যাসিনোর জুয়ার অ্যাকাউন্টে থাকা আরও ৫৫ লাখ ডলার ফেরত দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এছাড়া আরও ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার এখনও হাতবদল হয়নি এবং তা মুদ্রা বিনিময়কারী প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের কাছে থাকতে পারে বলে অংয়ের দাবি। তবে তা অস্বীকার করেছেন ফিলরেমের কর্মকর্তারা।

এদিকে লোপাট ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে প্রায় অর্ধেক অর্থ এখনও ফিলিপিন্সে রয়েছে জানিয়ে তা বাংলাদেশকে ফেরত দেওয়া সম্ভব বলে মঙ্গলবারের শুনানির পর এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন দেশটির সিনেটর রালফ রেক্তো। সিনেটরের ওই বিবৃতির বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার ম্যানিলা বুলেটিন জানায়, প্রায় ৩৪ মিলিয়ন ডলার দুটি ক্যাসিনো ও মুদ্রা বিনিময় ব্রোকারেজ হাউজের কাছে রয়েছে।

এফ/১৬:১২/০৪ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে