Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-০৩-২০১৬

'সরকার ট্যানারি স্থানান্তর নিয়ে আর কোনো খেলা খেলতে দেবে না'

'সরকার ট্যানারি স্থানান্তর নিয়ে আর কোনো খেলা খেলতে দেবে না'

ঢাকা, ০৩ এপ্রিল- শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সকল ট্যানারি অবিলম্বে সাভারে সরিয়ে নেয়ার তাগাদা দিয়েছেন। তিনি ট্যানারি মালিকদের উদ্দেশে আবারো হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেন,‘সরকার ট্যানারি স্থানান্তর নিয়ে আর কোনো খেলা খেলতে দেবে না। গুটি কয়েক মানুষের জন্য কোটি কোটি মানুষের জীবন বিপন্ন হবে তা হতে দেয়া যাবে না।’ শিল্পমন্ত্রী আজ রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) পাঁচ দিনব্যাপী জাতীয় এসএমই মেলা-২০১৬ এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

আমির হোসেন আমু চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ‘বর্তমানে সাভারস্থ চামড়া শিল্প-নগরির কেন্দ্রিয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) ৪০ থেকে ৬০টি কারখানা চালু করার মত অবস্থানে রয়েছে। গত দেড় মাস আগেও বলেছি, মার্চের পর থেকে হাজারীবাগে কোনো কাঁচা চামড়া ঢুকবে না। এতে ব্যবসায়ীরা কর্ণপাত করেনি। যুগ যুগ ধরে যে সব ব্যবসায়ী মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে,তাদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। এখন পঁচে গেলেও হাজারিবাগে কোনো চামড়া ঢুকবে না। যে কোনো মূল্যে হাজারিবাগ থেকে ট্যানারিগুলো সাভারে সরিয়ে নিতে হবে।’

চামড়া শিল্প নগরিতে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছে না মর্মে ব্যবসায়ীদের অভিযোগের জবাবে আমির হোসেন আমু বলেন, ‘আমরা গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছি। কিন্তু কাদের সংযোগ দেয়া হবে? কেউ তো আবেদনই করেনি। যারা আবেদন করবেন, তাদের এখনই গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।’

ট্যানারি স্থানান্তর বিষয়ে গত দু’দিনে কয়েকটি পত্রিকার সংবাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এত দিন ট্যানারি স্থানান্তর না হওয়ায়, পত্রিকাগুলো সরকারকে দায়ি করে সংবাদ ছাপিয়েছে। এখন হাজারিবাগে কাঁচা চামড়া ঢুকতে না দেয়ায় চামড়া স্তুপের ছবি ছাপিয়ে এসব পত্রিকা ব্যবসায়ীদের জন্য মায়াকান্না করছে।

চামড়া ব্যবসায়ীরা যখন লাখ লাখ মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তখন কিছু মিডিয়ার চামড়া ব্যবসায়ীদের পক্ষে অবস্থান নেয়া বিভ্রান্তিকর ও দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন। শিল্পমন্ত্রী এর আগে বিআইসিসি’তে চতুর্থ জাতীয় এসএমই মেলা-২০১৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি এলাকাভিত্তিক কাঁচামালের সহজলভ্যতা বিবেচনা করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসতে উদ্যোক্তাদের প্রতি পরামর্শ দেন।

আমির হোসেন আমু এক্ষেত্রে জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ এর দিক নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা দেয়ারও অঙ্গিকার করেন। দেশের কোথায় কোন ধরনের এসএমই শিল্প স্থাপন লাভজনক হবে,সে বিষয়ে কার্যকর সমীক্ষা ও গবেষণা চালাতে তিনি এসএমই ফাউন্ডেশনের প্রতি নির্দেশনা দেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ. মান্নান বিশেষ অতিথি ছিলেন।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন কে এম হাবিব উল্লাহর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআই-এর সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ ও এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি। এ খাতের ওপর ভর করেই দেশের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, পণ্য বৈচিত্রকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্যবিমোচনসহ সার্বিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে এখাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্বীকার করেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন,দেশের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ শিল্প ও ব্যবসা এসএমই খাতের আওতাভূক্ত। এখাত দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের শতকরা ৭০ ভাগ, শিল্প কর্মসংস্থানের ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ এবং মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের শতকরা ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ যোগান দিয়ে থাকে বলে তিনি জানান।

এছাড়া এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশব্যাপী দক্ষ নারী সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে পণ্য বৈচিত্রকরণ, সহজে ঋণ প্রাপ্তি, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সেবা প্রদানে এসএমই ফাউন্ডেশন গুরুত্ব¡পূর্ণ অবদান রাখছে। এ পর্যন্ত এসএমই ফাউন্ডেশন ৪ হাজার ৯শ’ ১ জন নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষিত করেছে। পাশাপাশি নারী ও পুরুষ উদ্যোক্তা মিলিয়ে ৪শ’ ১৪ জনকে ৪৯ কোটি টাকা এসএমই ঋণ প্রদান করা হয়েচে। তারা এসএমইখাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর তাগিদ দেন।

উল্লেখ্য, পাঁচ দিনব্যাপী আয়োজিত এ মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ২শ’টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এতে কৃষিপণ্য, চামড়াজাত দ্রব্য, পাটজাতপণ্য, পোশাক, ডিজাইন ও ফ্যাশনওয়্যার, হস্ত ও কারুপণ্য, গৃহস্থালী পণ্য, প্লাস্টিক ও সিনথেটিকস্, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক্স, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটিসহ বিভিন্নখাতে উৎপাদিত দেশিয় এসএমই পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলা ঢুকতে কোনো প্রবেশ মূল্য লাগবে না বলে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে।

এফ/২২:৫৯/০৩ এপ্রিল

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে