Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-০৩-২০১৬

শিক্ষক–সংকটে পাঠদান করায় শিক্ষার্থীরা

শিক্ষক–সংকটে পাঠদান করায় শিক্ষার্থীরা

রংপুর, ০৩ এপ্রিল- শিক্ষক তিনজন। শিক্ষার্থী ২৬১ জন। শ্রেণি ছয়টি। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বিকেল সোয়া চারটা পর্যন্ত চলে পাঠদান। একই সঙ্গে ক্লাস শুরু হয় ছয় শ্রেণির। এ কারণে দৌড়ে দৌড়ে শিক্ষকদের এক শ্রেণি থেকে আরেক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হয়। ওই বিদ্যালয়ের ওপরের শ্রেণির শিক্ষার্থী ক্লাস নেয় নিচের শ্রেণির। এ চিত্র রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া মহদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ওই বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষক দুই শ্রেণিতে ক্লাস নিচ্ছেন। শিশু শ্রেণি, তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাসে শিক্ষক নেই। চতুর্থ শ্রেণিতে দেখা যায়, এক শিক্ষার্থী ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছে। জানা গেল, তার নাম সফি হোসেন। সে ওই শ্রেণিরই শিক্ষার্থী। সফি এই প্রতিবেদককে বলে, ‘স্যাররা আমাদের সব ক্লাস নেওয়ার সময় পায় না। তখন আমরাই একজন ক্লাস নিই।’

দ্বিতীয় শ্রেণিতে ক্লাস নিচ্ছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ঝর্ণা দাস রানী। তিনি বলেন, ‘শিশুদের ক্লাস নিতে গিয়ে নাভিশ্বাস ওঠে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৬৪ জন আর পাশে শিশু শ্রেণিতে আছে ৩২ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষক-সংকটে দৌড়ে দৌড়ে একসঙ্গে আমাকে দু-তিনটি ক্লাস নিতে হয়। বিদ্যালয়ে ক্লাস চলে এক শিফটে। শিক্ষকের পদ রয়েছে প্রধান শিক্ষকসহ আটটি। এর মধ্যে সহকারী শিক্ষকের একটি পদ এক বছর ধরে শূন্য। বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে সাতজন শিক্ষক আছেন। কিন্তু আজ আমরা ক্লাসে আছি দুজন শিক্ষক। সহকারী শিক্ষক শ্যামল কুমার রায়কে নিয়ে একসঙ্গে ছয় শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছি।’ 

ওই বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাতজন শিক্ষকের মধ্যে সহকারী শিক্ষিকা শারমিন আক্তার তিন বছর আগে প্রেষণে গেছেন। সহকারী শিক্ষিকা রোকেয়া বেগম গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। সহকারী শিক্ষক ওয়ালীউল্লাহ গত ১ জানুয়ারি থেকে দেড় বছরের জন্য রংপুরে প্রশিক্ষণ করছেন। গত ১৮ মার্চ প্রধান শিক্ষক সুবোধ কুমার চক্রবর্তী ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে ভারতে গেছেন। সহকারী শিক্ষক রুপালী বেগম এক দিনের ছুটি নিয়েছেন। 

ঝর্ণা দাস বলেন, শিশুদের এক ক্লাসে রেখে আরেক ক্লাসে যাওয়া যায় না। তারা হই-হুল্লোড় ও চিৎকার শুরু করে দেয়। অনেক সময় মারামারিও করে। 

সহকারী শিক্ষক শ্যামল কুমার রায় বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী এক শিফটের স্কুলে সাতজন শিক্ষক থাকার কথা। বর্তমানে আছি তিনজন। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে সোয়া চারটা পর্যন্ত ক্লাস নিতে হয়। কিন্তু আমরাও তো মানুষ, আমাদেরও জীবন আছে। প্রতিদিন এভাবে কি ক্লাস নেওয়া সম্ভব?’ 

ওই দুই শিক্ষক বলেন, তাঁরা কেউই আশপাশের এলাকার বাসিন্দা নন। সহকারী শিক্ষক শ্যামল কুমার রায় ১৮ কিলোমিটার, সহকারী শিক্ষিকা রুপালী বেগম ও ঝর্ণা দাস রানী ২৫ কিলোমিটার দূরে থেকে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করেন। বিদ্যালয়ে যোগাযোগের ব্যবস্থাও করুণ। তবু শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবার সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলে বিদ্যালয়টি কালুপাড়া ইউনিয়নের মধ্যে সেরা হয়েছে। 

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ে অন্য কোনো সমস্যা নেই। আছে শিক্ষক-সংকট। এটি নিরসন হলে বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান আরও বৃদ্ধি পাবে। 

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। সম্প্রতি ওই বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। দু-তিনজন শিক্ষক দিয়ে কখনো এক শিফটে ক্লাস চলতে পারে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সেখানে শিক্ষক-সংকটের বিষয়টি সমাধান করব।’ 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহম্মেদ ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক-সংকটের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিগগিরই সেখানে শিক্ষক দেওয়া হবে।

এস/১৭:১৫/০৩ এপ্রিল

রংপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে