Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (16 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-০৩-২০১৬

ফেরি–সংকটে ঘাটে পচছে তরমুজ

ফেরি–সংকটে ঘাটে পচছে তরমুজ

ভোলা, ০৩ এপ্রিল- ফেরি-সংকটে নদী পারাপার হতে না পেরে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ঘাটে আটকে আছে তরমুজবোঝাই শতাধিক গাড়ি। গরমের কারণে এসব ট্রাকে থাকা কয়েক কোটি টাকার তরমুজ ফেটে পচতে শুরু করেছে।

চরফ্যাশন উপজেলার আবদুল্যাপুর এলাকার তরমুজচাষি আজিজুল ইসলাম বলেন, ফেরি-সংকট থাকায় চাষিরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে না পারায় খেত থেকে পাইকারেরা কম দামে তরমুজ কিনছেন। এখন আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সময়মতো তরমুজ না বিক্রি করতে পারলে কৃষকের লাভের বদলে ক্ষতি বেশি হবে।

গত বৃহস্পতিবার ইলিশায় গিয়ে দেখা যায়, ফেরিঘাটে ১৬০টি ট্রাক ঘাটে আটকা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় দেড় শ ট্রাকই তরমুজে বোঝাই। গরমে ট্রাকের তরমুজ ফেটে পচে যাচ্ছে। তরমুজের রস গাড়ি বেয়ে নিচে পড়ছে। পচন ঠেকাতে অনেকে কাভার্ড ভ্যানের দরজা খুলে রেখেছেন।

লালমোহন উপজেলার শাদাপুল এলাকার চাষি মো. জুয়েল বলেন, দাম ভালো পাওয়ার আশায় খেতের তরমুজ নিয়ে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের উদ্দেশে রওনা দিয়ে ইলিশা ফেরিঘাটে এসে চার দিন ধরে আটকে আছেন।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, এবার ভোলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি ফলন হয়েছে ৫০ মেট্রিক টনের ওপরে, যা বাম্পার ফলনের কাছাকাছি। ভোলার তরমুজ সারা দেশে জনপ্রিয়। এখান থেকে ফেরি, লঞ্চ ও ট্রলারে করে বিপুল পরিমাণ তরমুজ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। তবে প্রতিবছরই ফেরি-সংকটের কারণে যথাসময়ে তরমুজ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।

কুমিল্লা সদর থেকে আসা ফল ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, তিনি চরফ্যাশনের হাজিরহাট থেকে ১০ লাখ টাকার তরমুজ খেত কিনেছেন। একবার তরমুজ পরিবহনে ৩০-৪০ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়া লাগে। সময়মতো ট্রাক মোকামে না পৌঁছালে দাম পাওয়া যাবে না। তিনি গত রোববার থেকে ঘাটে ট্রাক নিয়ে আটকে পড়েছেন।

ভৈরবের ফল ব্যবসায়ী জামালউদ্দিন, ঢাকার শেখ ফরিদ আহমেদ, জামালপুরের ফজলুর রহমান, চরফ্যাশনের মো. রিপন, কুমিল্লার মো. মফিজ, চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গিবাজারের মো. ফিরোজ ও সাতকানিয়ার মো. শাহজাহান জানান, বিক্রির দর অনুযায়ী ঘাটে আটকে পড়া প্রতিটি ট্রাকে ছয়-সাত লাখ টাকার তরমুজ আছে। সেই হিসাবে এখানে প্রায় ১৫০টি ট্রাকে প্রায় ৯-১০ কোটি টাকার তরমুজ আছে।

আবুল হোসেন নামের একজন এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ট্রাকচালক জানান, ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে ফেরির দরকার কমপক্ষে চারটি। সেখানে কখনো একটি কখনো দুটি করে ফেরি চলে। সংকট থাকলে চাঁদাবাজি করতে সুবিধা হয়। ফেরির এই সংকটের কারণে ভোলার ইলিশা ও লক্ষ্মীপুর ঘাটে কয়েক শ যানবাহন দিনের পর দিন আটকে থাকে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) যথাযথভাবে নজর না দেওয়ায় এই নৌপথ অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির ইলিশা ঘাটের ব্যবস্থাপক আবু আলম হাওলাদার বলেন, এখানে কমপক্ষে চারটি ফেরির দরকার। এ ছাড়া ডুবোচরের কারণে ভাটার সময় ফেরিচলাচলে সমস্যা হয়। এসব সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর পরে একটি কস্তুরি ফেরি দেওয়া হয়। সেটিও এখন বিকল হয়ে পড়ে আছে।

এস/১৬:/০৩ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে