Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-০৩-২০১৬

পানির জন্য চার কিলোমিটার পাড়ি!

সাধন বিকাশ চাকমা


পানির জন্য চার কিলোমিটার পাড়ি!
পাহাড়ি ঝরনা থেকে পানি নিয়ে বাড়ির পথে ফিরছেন এক পাহাড়ি নারী।

রাঙামাটি, ০৩ এপ্রিল- বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের মিড পয়েন্ট গ্রাম। এই গ্রামের গৃহবধূ অঞ্জলিতা চাকমার প্রতিদিনের ‘রুটিন’ এখন পাল্টে গেছে। আগে সকালে যেতে হতো খেতের কাজে, এখন ছুটতে হয় কলসি নিয়ে। আশপাশের ঝিরি-ঝরনার পানির প্রবাহ নেই বললেই চলে। পানির জন্য ঝিরি ধরে উজানের দিকে যেতে হয় প্রায় চার কিলোমিটার। তাতেও বিপত্তি। মাঝেমধ্যে পরিষ্কার পানি মিলছে না।

শুধু অঞ্জলিতা নন, একই গ্রামের গৃহবধূ কালাবি চাকমা, মায়াবিবি চাকমা ও লক্ষ্মীবালা চাকমার একই ‘রুটিন’। তাঁরা সবাই দলবেঁধে প্রতিদিন পানির জন্য ভোর ছয়টায় বের হয়ে ফেরেন সকাল ১০টার পর। সম্প্র মিড পয়েন্ট গ্রামে গেলে এই দুর্ভোগের কথা জানান তাঁরা।

প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই খাওয়ার পানির সংকটে পড়ে বাঘাইছড়ির উপজেলার সাজেক, সারোয়াতলী, বাঘাইছড়ি, খেদারমা, রুপকারী, মারিশ্যা ও রুপকারী ইউনিয়নে দুর্গম এলাকার গ্রামের বাসিন্দারা। মার্চের শেষ থেকে জুন মাস পর্যন্ত চলে এই সংকট।

বাঘাইছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন কমিটির সভাপতি আবুল ফজল বলেন, এসব গ্রামের লোকজন যুগ যুগ ধরে ঝরনা, ছড়া ও ঝিরির পানি ব্যবহার করে জীবন যাপন করে আসছে। কিন্তু অব্যাহত বন উজাড়, বৃক্ষ নিধন ও বৃষ্টি কম হওয়ার ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে শুষ্ক মৌসুমে এখানকার ঝিরি, ঝরনা ও ছড়া শুকিয়ে যায়। ফলে গ্রামগুলোতে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। এবারও ব্যতিক্রম নয়, গরমের শুরুতেই পানি–সংকটে বিপাকে পড়ছে গ্রামবাসী। অনেকেই পানির জন্য দুই থেকে চার কিলোমিটার পর্যন্ত পাড়ি দিচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাঘাইছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পাঁচ শতাধিক গ্রাম (৮ থেকে ১৫টি বাড়ি নিয়ে একটি গ্রাম) রয়েছে। এসব গ্রামে অর্ধলক্ষাধিক লোকের বসবাস। গ্রামগুলো সমতল এলাকা থেকে এক থেকে দুই হাজার ফুট ওপরে। সেখানে নলকূপ বসানোর কোনো ব্যবস্থা নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রুপকারী ইউনিয়নের বটতলা, সাজেক ইউনিয়নের অরুণপাড়া, নিউলংকর, মিড পয়েন্ট ও আট নম্বর পাড়ার সব ঝিরি-ঝরনা ও ছড়া শুকিয়ে গেছে। এসব গ্রামের চার কিলোমিটারের মধ্যে কোনো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। নারীরা আশপাশের গ্রামে গিয়ে পাথরের কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করছেন।

সাজেক ইউনিয়নে নিউলংকর গ্রামের বিজয় রতন চাকমা, রুপকারী ইউনিয়নে বটতলার মায়াদেবী চাকমা, সারোয়াতলী ইউনিয়নে গবছড়ির সান্ত্বনা চাকমা বলেন, ‘আমাদের গ্রামের আশপাশে শুধু পাহাড়। ঝিরি-ঝরনার পানিই একমাত্র ভরসা। এখন সেগুলো শুকিয়ে গেছে। আশপাশের গ্রামের কুয়া থেকে যেসব পানি পাচ্ছি, তা ঘোলাটে। এসব পানি ব্যবহার করে প্রায় সময় পেটের পীড়ায় ভুগতে হয়।’

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুয়েন খিসা বলেন, শুষ্ক মৌসুমে এখানকার মানুষ পেটের পীড়া ও ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয় বেশি। এর মূল কারণ দূষিত পানি পান ও ব্যবহার। গত বছর এই সময়ে সাজেকে ডায়রিয়ায় পাঁচজন মারা গেছে।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, ‘প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট দেখা দেয়। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতি বছর কিছু এলাকায় পাথরের কুয়া ও সচল ছড়া থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বিশাল ইউনিয়নের সবখানে পানি সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হয় না।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. আবদুল রাজ্জাক বলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলা বেশির ভাগ মানুষ পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করেন। কিছু এলাকায় রিংওয়েল ও নলকূপ বসানো গেলেও অধিকাংশ অঞ্চলে তা সম্ভব নয়। তা ছাড়া পানির স্তর বহু নিচে নেমে গেছে। বন সংরক্ষণ করে ঝিরি-ঝরনা সচল করা ছাড়া পাহাড়ি এলাকায় পানির ব্যবস্থা করা যাবে না।

এফ/১৬:১৪/০৩ এপ্রিল

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে