Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.4/5 (8 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-০৩-২০১৬

২ ট্রিলিয়ন ডলারের মেগা ফান্ড গঠন করছে সৌদি আরব

২ ট্রিলিয়ন ডলারের মেগা ফান্ড গঠন করছে সৌদি আরব

রিয়াদ, ০৩ এপ্রিল- সৌদি আরবের প্রধানতম সম্পদ তেল; যার ওপর দেশটির অর্থনীতির সিংহভাগ নির্ভরশীল। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ধারাবাহিক দরপতনের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের রক্ষা করতে এখন বিকল্প উপায়ের কথা ভাবছে দেশটি। তারই অংশ হিসেবে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বৃহত্তম সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সৌদি আরব। খবর ব্লুমবার্গ, এএফপি ও অ্যারাবিয়ান বিজনেস। 

৫ ঘণ্টা আলোচনা শেষে সৌদি আরবের ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এ পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বিষয়ে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২ ট্রিলিয়ন ডলারের এ তহবিলটি সৌদি আরবকে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সহায়তা করবে। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর ৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করা হবে। সে সঙ্গে জায়ান্ট এ তেল কোম্পানিটিকে একটি শিল্পভিত্তিক কনগ্লোমারেট হিসেবে রূপান্তরিত করা হবে। আগামী বছরই আরামকোর শেয়ার আইপিও হিসেবে ছাড়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সৌদি প্রিন্স আরো জানান, আরামকোর আইপিও বিক্রি ও এর শেয়ার পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডে (পিআইএফ) রূপান্তরিত করার মাধ্যমে তেল নয়; এ ফান্ডই হবে সৌদি সরকারের আয়ের অন্যতম উত্স। কারণ এ তহবিলের সুবাদে বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আসবে। ফলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে আমাদের দেশ বা অর্থনীতি তেলের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।

তেল অনুসন্ধানের পর প্রায় আট দশক পার হয়ে গেছে। এতদিন তেলের ওপর নির্ভর করেই দেশটির অর্থনীতি পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সৌদি বাদশা সালমানের ৩০ বছর বয়সী ছেলে তেল রফতানির দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম এ দেশটির অর্থনীতির গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টায় রয়েছেন। যার অংশ হিসেবেই আরামকোর শেয়ার বিক্রি আগামী বছর বা তারও আগে সম্পন্ন হতে পারে। আশা করা হচ্ছে, এর পরই ফান্ডটি অভ্যন্তরীণ ও দেশের বাইরে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তহবিলটির আকার এতই বড় হবে যা অ্যাপল, গুগলের মূল কোম্পানি আলফাবেট ইনকরপোরেশন, মাইক্রোসফট করপোরেশন ও বার্কশায়ার হ্যাথওয়ের মতো প্রতিষ্ঠান কিনে নিতে পারবে।

তহবিলটির মহাসচিব ইয়াসির আলরোমায়ান এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ২০২০ সালের মধ্যে বিদেশী বিনিয়োগের সীমা ৫০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পিআইএফ। বর্তমানে যা মাত্র ৫ শতাংশ। গত বছর ব্যয় সংকোচন ও জিডিপির অনুপাতে বাজেট ঘাটতি কমাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের পরই এ উদ্যোগ হাতে নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গত ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ সৌদি কর্তৃপক্ষ জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি তেলের দাম কমে যাওয়ার পর বাজেটে অতিরিক্ত ব্যয়ে লাগাম টানার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।

এদিকে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চাইলেও এর উত্পাদনে এখনই রাশ টানতে সম্মত নয় সৌদি আরব। তবে ইরানসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় তেল উত্পাদনকারী দেশগুলো উত্পাদনের পরিমাণ কমাতে সম্মত হলে সৌদি আরবও এ বিষয়টি ভেবে দেখবে বলে জানিয়েছেন প্রিন্স সালমান। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তেলের দাম বৃদ্ধির লক্ষ্যে তেলের উত্পাদন কমানো নিয়ে আগামী ১৭ এপ্রিল ওপেক ও এর বহির্ভূত দেশগুলো নিয়ে যে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে তাতে তারা অংশ নেবে না। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর থেকে নিজেদের তেলশিল্পকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান।

এফ/১৬:০৫/০৩ এপ্রিল

মধ্যপ্রাচ্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে