Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (36 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-০৩-২০১৬

১৯ বছর পর নতুন ঠিকানা

১৯ বছর পর নতুন ঠিকানা

ফরিদপুর, ০৩ এপ্রিল- এক বছরের মেয়েটিকে রাজশাহী নগরের রাস্তায় কুড়িয়ে পান এক ব্যক্তি। পরে ওই শিশুর জায়গা হয় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া শেখ রাসেল দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে। পরিচয় ও ঠিকানাবিহীন শিশুটি এখন ১৯ বছরের তরুণী। গত শুক্রবার প্রশাসনের সহযোগিতায় বিয়ে হয়েছে তাঁর।

ওই তরুণীর নাম আফরিদা খাতুন। আর দশটি বিয়ের মতো সব আনুষ্ঠানিকতা সেরে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছে তাঁর। চলে গেছেন নতুন ঠিকানা—স্বামীর বাড়ি। তাঁকে বিয়ে দিয়ে মা-বাবার দায়িত্ব পালন করেছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের নাফিউল আসাদের (২২) সঙ্গে বিয়ে হয় আফরিদার। আসাদ পেশায় মুদি দোকানি। অনুষ্ঠানে প্রায় পাঁচ শ লোককে খাওয়ানো হয়। খাদ্যতালিকায় ছিল কাচ্চি, মুরগির রোস্ট, ডিম, দই, মিষ্টি ও কোমল পানীয়।

বিয়েতে আফরিদার উকিল বাবা হন পুনর্বাসন কেন্দ্রের হাউস প্যারেন্ট কামারুজ্জামান ঠাকুর। অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে ছিলেন জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোমিনুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শফিউল্লাহ, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সমীর মল্লিক, পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক ফারহানা নাসরিন প্রমুখ।

বিয়েতে কিছু কমতি রাখেনি প্রশাসন। দম্পতিকে টিভি, ফ্রিজ, ডিনার সেট, সেলাই মেশিন, মুদি দোকানের মালামালসহ অন্যান্য গৃহস্থালি পণ্য দেওয়া হয়। লাল-নীল-বেগুনি রঙের কাগজ কেটে রশিতে টানিয়ে পুনর্বাসন কেন্দ্র সাজিয়ে বিয়ের আনন্দে মেতে ওঠে পুনর্বাসন কেন্দ্রের এতিম তিন শ শিশু। বৃহস্পতিবার হয় গায়েহলুদ। শুক্রবার দিনভর নেচে-গেয়ে চলে বিয়ের আনন্দ। বিকেলে নতুন দম্পতিকে স্থানীয় রীতিতে দুধ-ভাত খাইয়ে বিদায় জানানো হয়।

আফরিদার স্বামী নাফিউল আসাদ বলেন, ‘আফরিদা জীবনে কিছুই পায়নি। তার নিজের ঠিকানা ছিল না। আমি তাকে সুন্দর আগামী উপহার দিতে চাই। দোয়া করবেন, যেন ওকে সুখী করতে পারি।’
পুনর্বাসন কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক ফারহানা নাসরিন বলেন, ‘১৮ বছর হয়ে গেলে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী এখানে থাকার সুযোগ থাকে না। এ জন্য আফরিদাকে পাত্রস্থ করার মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিলাম। আশা করি ও সুখী হবে।’

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সমীর মল্লিক বলেন, ‘আর দশটা মেয়ের যেভাবে বিয়ে হয়, আমরাও আফরিদার বিয়ে সেভাবেই দিয়েছি। ও যে বাবা-মাহারা, সে কথা বুঝতেই দিইনি।’

এস/১৫:৫৫/০৩ এপ্রিল

ফরিদপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে