Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.9/5 (36 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৪-০২-২০১৬

প্রকাশ্যে সিল না মারায় কিল-ঘুষিতে তাঁর মৃত্যু!

আবদুল আজিজ


প্রকাশ্যে সিল না মারায় কিল-ঘুষিতে তাঁর মৃত্যু!

জামালপুর, ০২ এপ্রিল- হৃদ্রোগে নয়, প্রকাশ্যে সিল না মারায় এক ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের কিল-ঘুষিতে রফিকুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইউপি নির্বাচনে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের উত্তর বালুর চর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে গেলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার, স্থানীয় বাসিন্দা ও রফিকুলের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এ তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দাবি করছে, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে রফিকুলের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত হতদরিদ্র কৃষক রফিকুল (৩৮) শ্যামপুর ইউনিয়নের উত্তর বালুর চর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ওই দিনই দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে।

উত্তর বালুর চর গ্রামে গিয়ে জানা যায়, শ্যামপুরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মোকছেদ আলী ও তাঁর চাচাতো ভাই ওয়াহেদ আলী ইউপি সদস্যপদে নির্বাচনে অংশ নেন। ভোটের দিন সকাল ১০টায় রফিকুল উত্তর বালুর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলার একটি বুথে ভোট দেওয়ার সময় ইউপি সদস্য প্রার্থী মোকছেদ আলীর সমর্থকেরা প্রকাশ্যে সিল দিতে রফিকুলকে জোর করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে বুথেই রফিকুলকে ব্যাপক কিল-ঘুষি মারা হয়। তাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রে মোকছেদ আলী ও ওয়াহেদ আলীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হন। পরে মেলান্দহ সদর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

ঘটনার পর হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে রফিকুলের মৃত্যু হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের জানানো হয়। এমনকি গতকালও মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিমুল হক দাবি করেন, হৃদ্রোগেই রফিকুলের মৃত্যু হয়েছে। তারপরও ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর লাশ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রফিকুলের স্ত্রী রাশেদা বেগম গতকাল কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার শুয়ামি (স্বামী) খেতে কাম করে আটজন মানুষের সংসার চালাত। এখন আমাগো কী হবে? শুয়ামির তো কোনো দোষ ছিল না। তাঁরে কেন খুন করা হলো? তাগো বিচার আল্লাহ্ করবে।’ তিনি স্বামী হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

রফিকুলের ভাতিজা মজিবর রহমান বলেন, ‘আমার কাকা ছিল দরিদ্র ও সহজ-সরল মানুষ। এমন নিরীহ মানুষকে খুন হতে হবে, আমরা কেউ ধারণাও করতে পারিনি। আমাদের পরিবার থেকে কেউ ভোটে দাঁড়ায়নি। অথচ আমার কাকাকে মরতে হলো। মেম্বার প্রার্থী মোকছেদ আলীকে প্রকাশ্যে ভোট না দেওয়ায় কিল-ঘুষি মারতে মারতে তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছে।’

এ ঘটনায় রাশেদা বেগম বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করবেন বলে মজিবর রহমান জানিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে ইউপি সদস্য প্রার্থী মোকছেদ আলীসহ পরিবারের সবাই পলাতক। তবে তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মোরশেদা বেগমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি দাবি করেন, রফিকুলকে মারধর করা হয়নি। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে তিনি আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

এস/১৮:২৫/০২ এপ্রিল

জামালপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে