Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-০২-২০১৬

আসাম নির্বাচনে ভাগ্য নির্ধারণ করবে মুসলিমদের ভোট

আসাম নির্বাচনে ভাগ্য নির্ধারণ করবে মুসলিমদের ভোট

আসাম, ০২ এপ্রিল- চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে ভারতের চারটি রাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রাদেশিক নির্বাচন। রাজ্যগুলো হচ্ছে: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আসাম, পূর্বঞ্চলীয় প্রদেশ পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণের রাজ্য তামিল নাড়ু এবং কেরালা। এর মধ্যে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় লাভের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি আসামে। তবে আছে অনেক অসুবিধাও।

পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিল নাড়ুতে এগিয়ে আছে রাজ্যগুলোর দুটি আঞ্চলিক দল। আর কেরালার নির্বাচনী যুদ্ধ জমবে কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর মধ্যে। আসামে দুই ধাপে সম্পন্ন হবে নির্বাচন। প্রথম ধাপের নির্বাচনটি হবে ৪ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় ধাপেরটি হবে ১১ এপ্রিল। এখানে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি বিজেপি।

২০০১ সাল থেকে আসাম শাসন করে আসছে কংগ্রেস। ২০০১, ২০০৬ এবং ২০১১ সাল- পরপর তিনবারের নির্বাচনে জয়লাভ বহু জাতিতে বিভক্ত ও সংঘাতপ্রবণ আসামের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈকে রীতিমতো ‘কিংবদন্তী’ বানিয়ে দিয়েছে। তবে সময় পাল্টেছে। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তরুণ গগৈকে।

 
তরুণ গগৈ

দিল্লি এবং বিহারের নির্বাচনে পরাজয়ের পর আসামে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে উঠেপড়ে লেগেছে বিজেপি। দলটির পক্ষ থেকে আসামের নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা এবং বিজেপির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কবীন্দ্র পুরকায়স্থ বলেন, ‘আমরা আমাদের আগের দুর্ভাগ্যগুলো কাটিয়ে উঠতে চাই। আর আমরা আসামেই এটা করতে পারবো।’

আসামের নির্বাচনে বিজেপির সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কারণ, মাওলানা বদরুদ্দিন আজমলের নেতৃত্বাধীন এখানকার প্রভাবশালী মুসলিম রাজনৈতিক দল ‘অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টে’র (এআইইউডিএফ) সাথে কংগ্রেসের জোট না করতে পারার ব্যর্থতা। আসামের প্রায় তিন কোটি ১২ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৩১ শতাংশেরও বেশি মুসলিম। ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ননি গোপাল মহন্ত মনে করেন, মুসলিমদের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়া কংগ্রেসকে বাজে পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে। আর এটা বিজেপিকে সাহায্য করবে।

এদিকে আসামের আরেক প্রধান আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল বড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্টের সাথে জোট করেছে বিজেপি। দলটি আসামের বড়ো উপজাতির প্রতিনিধিত্ব করে। এখানে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী পদে লড়ছেন সর্বানন্দ সনোয়াল। তিনি আসামের সাবেক ছাত্রনেতা এবং রাজ্য সরকারের মন্ত্রী। আসাম গণপরিষদের (এজিপি) সাথে সমঝোতাই তার নির্বাচনের ট্রাম্প কার্ড। ১৯৮৫, ১৯৯০ এবং ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল এজিপি।


সর্বানন্দ সনোয়াল

আসামে সর্বানন্দ সনোয়লকে দেখা হয় একজন ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে। অবৈধ অভিবাসন বিষয়ক বিতর্কিত একটি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ওই উপাধি পেয়েছেন তিনি। আইনটিতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসীদের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছিল। তবে এতোকিছু সত্ত্বেও জয়টা বিজেপির জন্যও খুব সহজ হবে না।

নিজের দলের মধ্য থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে আছেন সনোয়াল। কর্মীরা দুইভাগে বিভক্ত। অনেকের ধারণা মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে এখানে।  

এদিকে এআইইউডিএফ’র মধ্যে আভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা থাকায় কিছুটা আশাবাদি কংগ্রেস। মনোনয়ন বিক্রির অভিযোগে বর্তমান সাংসদদের মধ্যে পাঁচজনকে মনোনয়ন দেয়নি দলটি। এআইইউডিএফ’র নেতা স্মিতা মিশ্র বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য কঠিন আঘাতের কারণ হতে পারে। আমাদের দলের মূলভিত্তি মুসলিমরা। বিশৃঙ্খলার কারণে তারা কংগ্রেসের দিকে ফিরে যেতে পারে।’


মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল

২০০৬ সালে এআইইউডিএফ গঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আসামের মুসলিমরা ঐতিহ্যগতভাবেই কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে এসেছে। তবে ২০০৬ এর নির্বাচনে মুসলিমদের ভোট অনেকটা চলে যায় এআইইউডিএফ’র বাক্সে। এবারের চিত্র ভিন্ন। দলটির আভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার কারণে ভোটাররা ভোট প্রদানে বেছে নিতে পারেন কংগ্রেসকে।  

আসামের নির্বাচনে সব সময়ই মুসলিমদের ভোট জয় পরাজয় নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। নীতি নির্ধারকদের ধারণা, মুসলিমসহ অন্য সংখ্যালঘুরা কংগ্রেসকে ভোট দিলে পরাজয়ের মুখে থাকা তরুণ গগৈ আবারো হয়ে যেতে পারেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী।

আর/১৮:১০/০২ এপ্রিল

আসাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে