Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.1/5 (7 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-০২-২০১৬

প্রিয়ার মান ভাঙাতে একগুচ্ছ ফুল

রাজু আনোয়ার


প্রিয়ার মান ভাঙাতে একগুচ্ছ ফুল

বসন্তে কি শুধু কেবল ফোঁটা ফুলের মেলা রে।

দেখিস নে কি শুকনো পাতা ঝরা ফুলের খেলা রে।

যে ঢেউ ওঠে তারি সুরে বাজে কি গান সাগর জুড়ে।

যে ঢেউ পড়ে তাহারো সুর জাগছে সারা বেলা রে।

বসন্তে আজ দেখ রে তোরা ঝরা ফুলের খেলা রে।।

কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বাণীকে হৃদয়ে ধারণ  করেই যেন এই ভরা বসন্তে ফোঁটা –নাফোঁটা রজনীগন্ধা, গোলাপ, গ্ল্যাডিওলাস, গাঁদা, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, অর্কিড, কামিনী, পাতালহর, বকুল, দোলনচাঁপা, কাঞ্চন,জিপসিসহ নানা জাতের হাজারো ফুলের মেলা বসেছে রাজধানীর খামার বাড়িতে।

ভালোবাসা, পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক এ ফুল নিয়ে পৃথিবীর সব প্রান্তের সব ভাষাভাষীর কবি যে কত শত কবিতা লিখেছেন তার হিসেব নেই। ফুল ভালোবাসে না পৃথিবীতে এমন মানুষ পাওয়া কষ্টকর। প্রিয়ার মান ভাঙাতে একগুচ্ছ ফুল, ভালোবাসতেও ফুলের প্রয়াজন। অনুষ্ঠান, উৎসব-পার্বণ, ফুল ছাড়া কল্পনা করা যায় না। পার্কে কিংবা উদ্যানে ফুলের নৈসর্গিক শোভা আমাদের নজর কাড়ে। হৃদয়ের গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপনেও ফুলেল পবিত্রতা শেষ আশ্রয়। আর তাইতো ফুল নিয়ে আমাদের উচ্ছ্বাসের শেষ নেই।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা দিবস কেন্দ্রীক উদযাপনে ফুলের চাহিদা ও বিক্রি বেড়েছে বহুগুন। আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিদের বরণ করা হতো রঙিন কাগজের তৈরি ফুল দিয়ে। এখন তাজা ফুল দিয়েই বরণ করা হচ্ছে সেইসব মেহমানদের। কি শহর কি গ্রাম ধনী কিংবা দরিদ্র আজকাল সব বাড়িতে তাজা ফুল ছাড়া বিয়ের চিন্তাই করা যায় না।

২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে শহীদ মিনার ও জাতীয় স্তৃতিসৌধে ফুল দিয়ে আমরা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করি। সরকারি, বেসরকারিভাবে জাতীয় অনুষ্ঠানসহ বিয়ে, জন্মদিন ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ফুলের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ফুল মানুষের মনে প্রশান্তি আনে। তবে এখন আর সেই ফুল মনের প্রশান্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে বাংলাদেশে ফুল অর্থকারী ফসল হিসাবে বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে। ১৯৮৩ সাল থেকে ৩০ শতক জমিতে রজনীগন্ধা ফুল চাষের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে বানিজ্যিকভাবে ফুল উৎপাদন শুরু হয়। দেশে এখন ২৩ টি জেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ১৬ হাজার কৃষক সরাসরি বিভিন্ন জাতের ফুল উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক ফুল চাষ ও ফুল ব্যবসা করে তাদের বেকারত্ব দূর করছে। বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ফুল আমাদের দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। দেশে চাহিদা মিটিয়ে কিছু ফুল বিদেশেও যাচ্ছে। এই মুহুর্তে মোট ২৮ টি জেলায় ফুলের বাণিজ্যিক চাষ হলেও যশোরেই উৎপাদন হয় চাহিদার সিংহভাগ ‍ফুল।


বছর জুড়েই চলে ফুলের চাষ। তবে মৌসুম ভেদে ভিন্ন ভিন্ন ফুলের চাষ হয়ে থাকে। দেশে হরেক রকমের উৎসব থাকলও দেখা যায়নি ফুলের উৎসব। গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেশে বানিজ্যিকভাবে উৎপাদিত এসব ফুল নিয়ে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির আয়োজনে ২৯ মার্চ রাজধানীর খামারবাড়িতে আয়োজন করা হয়েছে ‘দেশি ফুলের দেশি বাজার’ শিরোনামে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার ফেস্ট।

দেশি ফুলের বৈচিত্র্যের সঙ্গে মানুষের পরিচয় আরও বাড়ানো, ফুলের সামগ্রিক ব্যবহার আরও বৃদ্ধি এবং দেশীয় ও আন্তজার্তিক বাজার সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সবারই মানসম্মত বাছাইকৃত প্যাকেজিং ফুল ব্যবহারের প্রতি অভ্যাস গড়ে তোলাই ছিল বিএসএফের এই মেলার উদ্দেশ্য।  দুইদিনব্যাপী এই মেলায় ছিল ফুল উৎপাদক, ফুল ব্যবসায়ী, ফুল সেক্টরের সংশ্লিষ্ট সংগঠন, সাজসজ্জা বাস্তবায়সকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের ২০টি স্টল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ফুল চাষী ও বাজারজাতকারীরা স্টলগুলো সাজিয়েছেন নানা ফুল দিয়ে। ফুলের প্রদর্শনী ছাড়াও ছিল ফুল নিয়ে ব্যাতিক্রমী ফ্যাশন শো। ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

যশোর থেকে আসা ফুল চাষী নুরুল আমিন জানান, বিগত আট বছর ধরে তিনি ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এখন এই চাষী প্রায় ৬০ বিঘা ফুলের চাষ করছেন।  স্নাতক পাশ দিয়ে অনেক দিন বেকার থাকার পর ফুল চাষ করে সংসারে স্বাচ্ছন্দ ফিরে এনছেন তিনি।

শুধু নিজের নয় আরও প্রায় ৮ জনের কর্মসৃষ্টিকারী এই চাষী বলেন, সঠিক বাজার ব্যবস্থা না থাকায় ফুল বিক্রি করতে গিয়ে মাঝে মাঝেই বিপদে পড়তে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, আমাদের দেশে ফুলের বাজার সম্প্রসারণের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকায় স্থায়ী পাইকারী ফুলের বাজার, ফুল নিয়ে গবেষণাগারসহ বিভিন্ন সহযোগিতা পেলে আমরা অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবো। সরকার আমাদের নিয়ে যে প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।

আর/১৭:১৪/০২ এপ্রিল

সম্পর্ক

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে