Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-০১-২০১৬

কলকাতায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছেই

কলকাতায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছেই

কলকাতা, ০১ এপ্রিল- ভারতের কলকাতার জোড়াসাঁকোতে নির্মাণাধীন বিবেকানন্দ ফ্লাইওভার ধসে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে স্থানীয় সময় ১২টার দিকে এ ঘটনার পর রাত পর্যন্ত কলকাতা পুলিশ ১৬টি লাশ উদ্ধারের খবর জানালেও অন্তত ২১ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে ভারতের গণমাধ্যমে। জনবহুল ওই স্থানে কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে রাত ৯টার দিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি উদ্ধার অভিযান সমাপ্তের ঘোষণা দিলে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক হয় বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

ভারতের বাংলাদেশ লাগোয়া এই রাজ্যে এই দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি কারও হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছে কলকতার বাংলাদেশ মিশন। সেখানে ফোন (৯১৩৩৪০১২৭৫০০) করে সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাবে।

দুর্ঘটনা তদন্তে রাজ্যের মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠিত হচ্ছে। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে একটি মামলা করেছে।

ফ্লাইওভারটি নির্মাণকারী কোম্পানি আইভিআরসিএল সরকারি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।  

গিরিশ পার্কের কাছে অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ বিবেকানন্দ ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৯ সালে। এরপর কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ালেও প্রকল্পের কাজ আর শেষ হয়নি।

আনন্দবাজার লিখেছে, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে গণেশ টকিজের কাছে ফ্লাইওভারের একাংশ ভেঙে নিচে যানবাহনের ওপর পড়ে। নিচে আটকা পড়ে একটি কয়েকটি যাত্রীবোঝাই বাস, কয়েকটি প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন।

কংক্রিটের নিচে চাপা পড়া কোনো একটি গাড়িতে আগুনও ধরে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ মানুষ খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে। পরে যোগ দেন ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।  

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

ফ্লাইওভারের যে অংশটি ভেঙে পড়েছে, সেই অংশের গার্ডার বুধবার রাতে ঢালাই করা হয়েছিল বলে আনন্দবাজার জানিয়েছে।

কংক্রিটের নিচে আটকেপড়াদের উদ্ধারে ড্রিল মেশিন দিয়ে পাথরের স্ল্যাব কেটে বের করা হয়। ক্রেইন দিয়ে সরানো হয় কংক্রিটের টুকরো।

আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে ঘটনাস্থলে বিশেষ ধরনের ক্যামেরা পাঠানো হয়। উদ্ধারকাজে অংশ নেয় চারশ’ সেনা সদস্য।

ধসের ভয়াবহতা দেখে ওই এলাকায় বিক্ষোভ ও হৈ চৈ শুরু হয়। দুর্ঘটনার পর ছুটে আসা উৎসুক মানুষের ভিড় ঠেকাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। বিবেকানন্দ ও চিৎপুর রোডসহ কলকাতার একাধিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আনন্দবাজার লিখেছে, উদ্ধারকাজে সারারাত লাগবে বলে ধারণা করা হলেও রাত সোয়া ৯টার দিকে মুখ্যমন্ত্রী শেষ ঘোষণা করে বলেন, ‘আর তিনটে দেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছে, এনডিআরএফ সময় নিয়ে সেগুলো উদ্ধার করবে’।

তখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের অর্ধেক সরানো বাকি এবং চাপা পড়া মিনিবাসটিও বের করা যায়নি।

মেদিনীপুরের পূর্ব নির্ধারিত একটি সভা বাতিল করে বিকালে ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা সাংবাদিকদের বলেছেন, এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কাউকে ছাড়া হবে না।

কারা দায়ী এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যারা এর টেন্ডার দিয়েছিল, যারা নির্মাণকাজ করছিল... আর দায়িত্বে অবহেলাও অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।’

গার্ডারগুলোর নকশায় গলদের জন্য এই ফ্লাইওভার ধস ঘটেছে বলে ধারণা করছেন প্রকৌশলীরা।

তবে আইভিআরসিএল কোম্পানির প্রধান কে পান্ডুরাঙ্গা রাও নির্মাণে কোনো ত্রুটি থাকার বিষয়টি নাকচ করে বলেছেন, ‘আমরা ২৭ বছর ধরে বড় বড় অনেক ব্রিজ বানিয়েছি। কোথাও এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি।’

বিদেশ সফরে থাকা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন; হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও শোক জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে।

আর/১১:৫৮/০১ এপ্রিল

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে