Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-০১-২০১৬

যুক্তরাষ্ট্রে যৌনদাসত্বের দিনগুলি

যুক্তরাষ্ট্রে যৌনদাসত্বের দিনগুলি

ওয়াশিংটন, ০১ এপ্রিল- ভাগ্য ফেরাতে স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় গিয়েছিলেন ইন্দোনেশিয়ার সান্দ্রা ওয়োরান্তু। কিন্তু তিনি আসলে ইঁদুর কপালে। পড়লেন গিয়ে দালালদের খপ্পরে। এরপর মানবপাচারকারীদের হাত ঘুরে বিভিন্ন যৌনপল্লীতে ঠাঁই হয়েছে তার। একপ্রকার যৌন দাসীর জীবন কেটেছে সান্দ্রার। অবশেষে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই’র সহায়তায় মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারছেন।

২০০১ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ইন্দোনেশিয়া ছাড়েন তিনি। যে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যান, তাদেরই একজন প্রতিনিধি নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে তাকে গ্রহণ করে। কিন্তু তাকে জানানো হয়, যে হোটেলে তার কাজ ঠিক করা হয়েছে, সেটা শিকাগোতে। নিউইয়র্ক থেকৈ ৮০০ মাইল দূরে। সান্দ্রার যুক্তরাষ্ট্রে এটাই প্রথম আসা। এখানে পরিচিত কেউ নেই, কিছুই চেনেন না। আর বয়স মাত্র ২৪ বছর। সুতরাং এসবের কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না।

ফ্রান্সে পড়াশোনা করার পর ইন্দোনেশিয়ার একটি ব্যাংকে অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করতেন সান্দ্রা ওয়োরান্তু। গত দশকে ইন্দোনেশিয়া অর্থনৈতিক মন্দায় পড়লে আরো অনেকের মতো তিনিও চাকরি হারান। তখন সংবাদপত্রে বিদেশি চাকরির একটি বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের হোটেলে চাকরির প্রস্তাব পান তিনি। আর নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তার খরচ হয় ২ হাজার ৭০০ ডলার।

রিক্রুটিং এজেন্সি পাঁচ হাজার ডলার মাসিক বেতনের কথা বলেন। লোভনীয় এমন চাকরি পেতে ছোট মেয়েটাকে মায়ের কাছে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন সান্দ্রা ওয়োরান্তু। পৌঁছার পরের ঘটনা বর্ণনায় সান্দ্রা বলেন, ‘বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে প্রথমে তারা আমাকে একটি গাড়িতে তোলে। এরপর আরেকজন ড্রাইভারের আরেকটি গাড়িতে আমাদের তোলা হয়। এভাবে আরো দুইবার গাড়ি বদলে শেষে এমন একজন ড্রাইভারের হাতে আমাদের তুলে দেয়, যে একটি পিস্তল দেখিয়ে আমাদের ব্রুকলিনের একটি বাসায় নিয়ে যায়। তখনি আমি বুঝতে পারি, আমি একটি চক্রের হাতে পড়েছি। কিন্তু তাদের হাতে অস্ত্র থাকায় আমাদের করার কিছু ছিল না।’ ‘সে বাসায় ঢুকেই আমি দেখতে পাই, একটি ছোট মেয়েকে কয়েকজন মিলে মারধর করছে। এটা হয়তো আমাদের জন্যই একটি সতর্কবার্তা ছিল।’


বিমানবন্দর থেকে এই লোকটিই তাকে গ্রহণ করে

কয়েক ঘণ্টা পর সান্দ্রাকে এক পুরুষের শয্যাসঙ্গী হতে বাধ্য করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমাকে ত্রিশ হাজার ডলার দিয়ে তারা কিনেছে বলে জানায়। এরপর তারা আমাকে নানা অঙ্গরাজ্যের নানা হোটেল, ব্রোথেল, বাসা আর ক্যাসিনোতে নিয়ে যায়। একেকটি জায়গায় আমাকে সর্বোচ্চ দুইদিন আটকে রাখে।’

সান্দ্রা বলেন, ‘খদ্দেরের অপেক্ষায় প্রায় চব্বিশ ঘণ্টায় আমাদের নগ্ন করে আটকে রাখা হতো। কোনো খদ্দের না এলে তখন আমরা কিছুটা ঘুমানোর সময় পেতাম।’ তাদের যখন বিভিন্ন হোটেল বা ক্যাসিনোতে নেয়া হতো তখন সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকতো একজন অস্ত্রধারী। ফলে পালানোর চেষ্টা করাটা ছিল বোকামি।

সান্দ্রা বলেন, ‘আমি যেন অনেকটা পুতুলের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। মারধরের ভয়ে তারা যা বলতো, তাই করতাম। শুধুমাত্র টিকে থাকার চেষ্টা করছিলাম।’ তবে একদিন সুযোগ আসে। পালিয়ে একটি পুলিশ স্টেশনে গিয়ে নিজের কাহিনী খুলে বলেন সান্দ্রা। কিন্তু পুলিশ তাকে বিশ্বাস করেনি। ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাসে গিয়েও কোনো সহায়তা পাননি। পরে রাস্তায় রাস্তায় অনেকদিন ঘুরে বেড়িয়েছেন।


ব্রুকলিনের সেই বাড়ি

ভাগ্য একদিন চোখ তুলে তাকায়। পার্কে ঘুরতে ঘুরতে দেখা হয় এক হৃদয়বান নাবিকের। তাকেই সব খুলে বলেন। সেই নাবিক পরে এফবিআইকে খবর দিলে তারা সান্দ্রার তথ্য যাচাই করে দেখে। তথ্যমতো গোয়েন্দারা ব্রুকলিনের সেই বাসায় অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে।

সান্দ্রা এখন মুক্ত। মানবপাচার বিরোধী সংগঠন ও মার্কিন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন তিনি। পাচার হয়ে যাওয়া অসংখ্য নারী ও শিশুর জন্য সারাজীবন কাজ করে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন সান্দ্রা ওয়োরান্তু।

তথ্যসূত্র : বিবিসি

এফ/১০:২৯/০১ এপ্রিল

উত্তর আমেরিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে