Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৪-০১-২০১৬

লাইনের মুখ বদলায় না, চার ঘণ্টায় ৮০% ভোট

মোস্তফা ইউসুফ


লাইনের মুখ বদলায় না, চার ঘণ্টায় ৮০% ভোট

চট্টগ্রাম, ০১ এপ্রিল- কোনো সংঘাত নেই, সব ‘শান্তিপূর্ণ’; তবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার চার ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেল কেন্দ্র দখল আর জাল ভোটের চিত্র। সারা দেশের ৬৩৯টি ইউপিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার এই ভোট চলছে। সীতাকুণ্ডে যে নয়টি ইউনিয়নে এ দফায় নির্বাচন হচ্ছে, তার দুটিতে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

সকাল ১০টার দিকে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা যখন সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঘোড়ামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান, তখন ভোটের লাইনে কেউ ছিলেন না। তবে সংবাদকর্মীদের দেখে হঠাৎ করেই লাইন ধরে দাঁড়িয়ে যান একদল লোক। ছবি তোলার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করতে থাকেন তারা।

দুই ঘণ্টা পর আবারও ওই কেন্দ্রে গেলে ভোটের লাইনে সেই মুখগুলোই দেখা যায়। তাদের গলায় ঝুলছিল নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর ছবি সম্বলিত কার্ড। কয়েকজন আবার সেই কার্ড উল্টে রেখেছেন। ঘোড়ামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ইস্কান্দার হোসেন বললেন, তার কেন্দ্রের ৩ হাজার ২০০ ভোটের মধ্যে বেলা ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

এই কেন্দ্রে নারীদের জন্য চারটি এবং পুরুষদের জন্য তিনটি বুথ ভোটগ্রহণ চললেও ধানের শীষ প্রতীকের কোনো এজেন্টকে দেখা যায়নি। নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা সোনাইছড়ির বিভিন্ন কেন্দ্র ‘দখল করে’ জাল ভোট দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী নুরুদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর চৌধুরী।

অবশ্য আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “এখানে কোনো সমস্যা নেই, সুষ্ঠুভাবে ভোট চলছে।” কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন।

বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বাড়বকুণ্ড উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি বুথে গিয়ে দেখা যায়, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা বসে আছেন; ব্যালট বাক্স প্রায় ভর্তি। সংবাদকর্মীদের প্রবেশ করতে দেখে ব্যালটে সিল মারতে থাকা কয়েকজন দ্রুত ওই কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এ ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ এরইমধ্যে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “সাতটি কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। আমার কর্মী রহিম মিয়াকে মারধর করে আহত করেছে।” ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন কুমিরা ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী হেলাল উদ্দিনও।

তিনি বলেন, “ইউনিয়নের ১০টি ওয়ার্ডের মধ্যে সাতটিতেই আমাদের এজেন্টকে ঢুকতে দেয়নি। বোমা ফাটিয়ে কেন্দ্র দখল করা হয়েছে। প্রশাসনকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাধ্য হয়ে আমি নির্বাচন বর্জন করছি।”

সকাল সাড়ে ৯টা ২১১টার দিকে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তারা জানালেন, অনেক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও তাদের ভেতরে ডাকা হচ্ছে না। ওই কেন্দ্রের কয়েকটি ভোটকক্ষ বাইরে থেকে তালাবন্ধ দেখা গেল। বাইরে দেখা গেল নারী ভোটাররা দাঁড়িয়ে আছেন।

জাকিয়া বেগম নামে একজন নারী বললেন, সকাল ৮টা থেকে দাঁড়িয়েও বুথে ঢুকতে পারেননি তিনি। নৌকা প্রতীকের লোকজন বাড়ি যেতেও ‘নিষেধ করেছে।’ এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ওমর ফারককেও সে সময় কেন্দ্রে পাওয়া যায়নি। 

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পরান্টু চাকমা বলেন, “টুকটাক ঝামেলা থাকলে তা কেন্দ্রের বাইরে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীই সেসব সামাল দিয়েছে। কেন্দ্রে কোথাও ঝামেলা হয়নি। সব ঠিকঠাক চলছে।” সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী নুরুদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর চৌধুরীও কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

এফ/০৯:২৫/০১ এপ্রিল

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে