Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (35 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-৩১-২০১৬

সিরাজগঞ্জে বিপাকে বোরো চাষিরা

সিরাজগঞ্জে বিপাকে বোরো চাষিরা

সিরাজগঞ্জ, ৩১ মার্চ- সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলাসহ চলনবিল এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নেমে যাচ্ছে। এতে সেচযন্ত্র দিয়ে আগের তুলনায় পানি উত্তোলন অর্ধেকে নেমে এসেছে। আর চলতি বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্রের মালিক ও কৃষকেরা জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

চলনবিলসহ শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেচের চাহিদা মেটাতে সেচযন্ত্রের মালিক ও কৃষকেরা ১০ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত গভীর করে মাটি খুঁড়ে সেচযন্ত্র বসিয়েছেন। অনেকেই ইঞ্জিনচালিত শ্যালোর মাধ্যমে পাইপ দিয়ে মাটির ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীরে পাম্প বসিয়ে সাবমারসিবাল পদ্ধতিতে পানি তুলছেন। 
সেচযন্ত্রের মালিক শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ গ্রামের নুরু মিয়া, উল্লাপাড়ার পংরুহা গ্রামের শাহজাহান আলী, তাড়াশের নওগাঁ গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, ১৫ দিন ধরে সেচেযন্ত্রে পানি না ওঠায় গর্ত করে সেচযন্ত্র বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে পাইপের মাধ্যমে ২৫ ফুট নিচে পাম্প স্থাপন করে পানি তোলা হচ্ছে। এরপরও যে পরিমাণ পানি উঠছে, তাতে চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। সামনে বৈশাখে পানির পরিমাণ আরও কমে যাবে। তাঁরা আরও বলেন, এক দশক আগেও ৪০ থেকে ৬০ ফুট গভীরতায় পানি মিললেও এখন ১০০ থেকে ১১০ ফুট পর্যন্ত গভীরে পাইপ বসিয়েও সেচযন্ত্র স্থাপন করতে হচ্ছে। সেচযন্ত্রের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং আগের চেয়ে বেশি পানি উত্তোলন হওয়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার শাহজাদপুর, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়াসহ চলনবিল (পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার আটটি উপজেলা নিয়ে গঠিত) এলাকায় প্রায় দুই লাখ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এ আবাদ একমাত্র ভূগর্ভস্থ পানি সেচের ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া গম, রসুন, সরিষা, তরমুজ, খিরা, শসাসহ নানা রবিশস্যের আবাদেও এ ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফেব্রুয়ারি থেকেই গভীর ও অগভীর নলকূপ দিয়ে এসব জমিতে সেচ দেওয়া শুরু হয়। প্রথম দিকে সেচযন্ত্রে স্বাভাবিক মাত্রার পানি উঠলেও এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। আবার অনেকের সেচযন্ত্রে পানিই উঠছে না।

এদিকে পানি উত্তোলন কমে যাওয়ায় জ্বালানি খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। সেচযন্ত্রের মালিক আব্দুল মান্নান বলেন, বিগত সময়ে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে ইঞ্জিনচালিত শ্যালোতে ১৬ থেকে ১৯ লিটার জ্বালানি তেল (ডিজেল) লাগত। এখন লাগে ৩০ থেকে ৪২ লিটার। সেই সঙ্গে সময়ও বেশি লাগছে।

তাড়াশ সদরে অবস্থিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা সহকারী আবহাওয়াবিদ সামাদুল হক বলেন, পানি বাষ্পায়নের সঙ্গে পানির স্তরের মিল রয়েছে। বাষ্পায়ন বাড়লে পানির স্তর নামতে থাকবে। এর সঙ্গে তাপমাত্রারও যোগসূত্র রয়েছে। এই কার্যালয়ের ধারণ করা তথ্যানুযায়ী এই এলাকায় পানি বাষ্পায়নের পরিমাণ ২৪ মার্চ ২ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার, ২৫ মার্চ ২ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার এবং ২৬ মার্চ ৩ দশমিক ২ সেন্টিমিটার। রেকর্ড অনুযায়ী বাষ্পায়নের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। তাতেই ধারণা করা যায় যে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে।

তাড়াশ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হক বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির স্তর সাধারণত প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট নিচে নেমে যায়। বর্ষায় এই স্তর আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তাই এখন সেচযন্ত্রে পানি কম উঠছে।

এস/১৪:৫০/৩১ মার্চ

সিরাজগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে