Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (34 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-৩১-২০১৬

সিংড়ায় আত্রাইয়ের খননযন্ত্রের গর্তে পড়ে ফের শিশুর মৃত্যু

সিংড়ায় আত্রাইয়ের খননযন্ত্রের গর্তে পড়ে ফের শিশুর মৃত্যু

নাটোর, ৩১ মার্চ- নাটোরের সিংড়া শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রাই নদ থেকে বালু তোলার জন্য বসানো খননযন্ত্রের গর্তে ডুবে গতকাল বুধবার দুপুরে তোহা হোসেন (৭) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত তোহা পৌর শহরের সরকারপাড়া মহল্লার ট্রাকচালক উজ্জ্বল হোসেনের ছেলে এবং ব্রাইটস্টার কিন্ডারগার্টেনের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। এ নিয়ে গত তিন বছরে এ রকম বালু তোলার জন্য স্থাপন করা খননযন্ত্রের গর্তে পড়ে অন্তত পাঁচ শিশুর প্রাণহানি হলো। 

সরকারপাড়া মহল্লার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির পাশের আত্রাই নদে মায়ের সঙ্গে গোসল করতে যায় শিশু তোহা। এ সময় নদে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার জন্য বসানো খননযন্ত্রের গর্তে পড়ে যায় তোহা। পরে স্থানীয় লোকজন গর্তের ভেতর থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় এলাকার বালু ব্যবসায়ী বিজয় কুমার কুণ্ডু, তপন সরকার ও রোজ ইসলাম কয়েক বছর ধরেই আত্রাই নদীতে অবৈধভাবে খননযন্ত্র বসিয়ে বালু তুলে আসছেন। নদী থেকে বালু তুলতে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমতির প্রয়োজন থাকলেও তাঁরা তা নেননি। ইজারা না নিয়েই ক্ষমতার জোরে বালু তুলছেন তাঁরা। এতে নদীর বিভিন্ন স্থানে ১০ থেকে ১৫ ফুট করে গর্ত তৈরি হচ্ছে। শুকনো মৌসুমে পানি-সংকটের কারণে নদী-তীরবর্তী লোকজন এসব গর্তে জমা পানিতে গোসল করতে আসে। তখন এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

নদীর পাড়ের বাসিন্দা মোহসিন আলী সদাগর ও আলাউদ্দিন আলী বলেন, অবৈধভাবে বালু তোলার জন্য স্থাপন করা যন্ত্রের গর্তের পানিতে গত তিন বছরে ডুবে গিয়ে সুরাইয়া (৬), সম্পা (৮), সাকিরাসহ (৫) অন্তত পাঁচ শিশু মারা গেছে। এ ব্যাপারে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেও অজ্ঞাত কারণে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। অবৈধভাবে বালু তোলার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।

খননযন্ত্রের মালিক বিজয় কুমার মুঠোফোনে বলেন, পৌরসভার রাস্তার কাজের জন্য বালু তোলা হচ্ছে। যে কাজের জন্যই হোক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বালু তোলা যায় কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে পৌর মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস জানেন।’
 
ইউএনও হেমন্ত হেনরী কুবি বলেন, শিশু তোহা হত্যার ব্যাপারে কেউ তাঁকে জানাননি। আর আগের শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাটি তাঁর জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন।

এস/১৪:৫০/৩১ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে