Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (40 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-৩১-২০১৬

দেখার কেউ নেই

দেখার কেউ নেই

ফেনী, ৩১ মার্চ- ফেনীর পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসমর স্মৃতিস্তম্ভ দুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। কিন্তু গণপূর্ত বিভাগ ঠিকাদারের কাছ থেকে এখনো স্মৃতিস্তম্ভ দুটি বুঝে নেয়নি। এতে স্মৃতিস্তম্ভ দুটির দেখাশোনার দায়িত্বে এখন কেউ নেই।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, স্মৃতিস্তম্ভ দুটির নির্মাণকাজ শেষ। তবে স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় মাটি ভরাট ও রঙের কাজ কিছুটা বাকি।

গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালে যেসব স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখযুদ্ধ হয়, ২০০৫ সালে সেসব স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ওই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ফেনীর পরশুরামের বিলোনীয়া সীমান্তসংলগ্ন সলিয়া দিঘি এবং ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর পুলের পাশে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০১১ সালে সলিয়া দিঘির পাশে স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজের কার্যাদেশ পায় মেসার্স একরামুল হক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২৭ লাখ ২৯ হাজার টাকার ওই কাজের মেয়াদকাল ছিল এক বছর।

আর ছাগলনাইয়ায় ফেনী নদীর পাশে শুভপুর পুলের কাছাকাছি ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরোনো মহাসড়ক-সংলগ্ন স্থানে স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণের জন্য ২০০৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজের সময়সীমা ছিল ছয় মাস। শুভপুরে প্রথমবার আহ্বান করা দরপত্রে কাজের কিছু অংশ বাদ পড়ায় ২০১১ সালের ১৫ জুন আলাদা দরপত্রের মাধ্যমে ৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

দুটি স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স একরামুল হক। কাজের সামগ্রিক তদারকির দায়িত্ব ছিল গণপূর্ত বিভাগের।

সম্প্রতি সরেজমিনে পরশুরামের সলিয়া ও ছাগলনাইয়ার শুভপুর স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্মৃতিস্তম্ভ দুটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। স্মৃতিস্তম্ভ দুটি দেখাশোনার কেউ নেই। স্মৃতিস্তম্ভের একাংশ আগাছা আর লতাপাতায় ঢেকে গেছে।

বিলোনীয়া যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবুল কাসেম বলেন, স্মৃতিস্তম্ভের কথাটি এলাকার সব মানুষও ঠিকমতো জানে না।

শুভপুর গ্রামের বাসিন্দা করিম উল্যা ও হাইস্কুল পড়ুয়া আবুল হোসেন বলেন, স্মৃতিস্তম্ভে বসার মতো ভালো জায়গা থাকায় স্থানীয় কিছু যুবকের আড্ডা দেওয়ার সুবিধা হয়েছে।
স্মৃতিস্তম্ভ দুটি হস্তান্তরে দেরি হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফেনী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, দরপত্র ও কার্যাদেশ দেওয়ার পর ঢাকা থেকে স্মৃতিস্তম্ভের মূল নকশা পেতে দেরি হয়। তিনি জানান, কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। তবে রঙের কাজটা সামান্য বাকি।

নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, স্মৃতিস্তম্ভ দুটি বুঝে নেওয়ার পর কারা এর দায়িত্বে থাকবে, মন্ত্রণালয় থেকে সে সম্পর্কে নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স একরামুল হকের ব্যবস্থাপক শম্ভু বৈষ্ণব বলেন, দুই বছর আগে কাজ শেষ হয়েছে। কর্তৃপক্ষ যখন চাইবে, তখনই হস্তান্তর করা হবে।

এস/১৪:৫০/৩১ মার্চ

ফেনী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে