Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-৩০-২০১৬

বৌ পাচ্ছে না তেহরিমারিয়া গ্রামের পুরুষরা!

বৌ পাচ্ছে না তেহরিমারিয়া গ্রামের পুরুষরা!
বৌ না পেয়ে হতাশ তেহরিমারিয়া গ্রামের যুবকরা

ভোপাল, ৩০ মার্চ- ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ছত্রিশপুর জেলার গ্রাম তেহরিমারিয়া। এ গ্রামের যুবকরা পড়েছেন মহা সমস্যায়। তারা বিয়ের যুগ্যি পাত্রী পাচ্ছেন না। আসলে কোনো মেয়ে এই গাঁয়ের ছেলেদের বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না।  ফলে ৩২ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও অবিবাহিত রয়েছেন মোহান যাদব। তিনি একা নন।

গত পাঁচ বছর ধরে তার জন্য মেয়ে খুঁজে খুঁজে হয়রান তার পরিবার। কিন্তু কোনো নারী তার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে রাজি নয়। না, তার কোনো সমস্যা নয়। সমস্যা গ্রামের। তাই বুঝি পাত্রীপক্ষের এক কথা,‘ওই গাঁয়ে মেয়ে বিয়ে  দিব না। সেখানে বিয়ে হলে আমার মেয়ে পানি টানতে টানতে মরে যাবে।’ তেহরিমারিয়া গ্রামে পানি নেই। এখানকার  গ্রামের বৌ ঝিদের পানি সংগ্রহের জন্য কয়েক মাইল দূরে যেতে হয়। এই সমস্যার কারণেই যাদবের মত ৬০ জনের মত যুবকরা বিয়ে করতে পারছেন না।

এ সম্পর্ক মোহন যাদব এনডিটিভি’কে বলেন,‘আমার কাছে কেউ মেয়ে বিয়ে দিতে চায় না। কারণ আমাদের গ্রামে পানি নেই। বিয়ের পর বৌকে কয়েক মাইল হেঁটে পানি আনতে হবে। অত কষ্টের কথা ভেবেই কোনো মেয়ে তাকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না।’

কিন্তু যাদব বিয়ে করার জন্য পাগল। এজন্য সে সরকারের সহযোগিতা চাইছেন। তিনি মনে করেন, এই এলাকায় সরকার যদি একটা ড্যাম বা বাঁধ তৈরি করে দেয় তবে আর এখানে পানির কষ্ট থাকবে না। তখন তাদের এই বিয়ে সমস্যাটিরও সমাধান হবে।

ছত্রিশগড় জেলাটি বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের অংশ। এখানকার মোট ১৩টি জেলা এবং মধ্যপ্রদেশের উত্তর অংশ জুড়ে চলছে পানির হাহাকার। গত এক দশক ধরে এই অঞ্চলটিতে খরা চলছে।  তেহরিমারিয়া এলাকায় কমপক্ষে এক ডজন কূপ শুকিয়ে গেছে। ৪শ ফুট গর্ত খনন করেও আর সেগুলোতে পানি আসছে না। তাইতো গ্রামের মেয়েদের পানি আনার জন্য কমপক্ষে এক মাইল দূরে যেতে হয়।

চন্দ্র আওয়াস্থি নামের এক নারী এনডিটিভি বলেছেন,‘আমার বাড়ির কাছের কূপটি শুকিয়ে গেছে। এখন আমাকে এক মাইল দূর থেকে পানি আনতে হয়। দিনের মধ্যে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচবার আমাকে পানি আনতে যেতে হয়। এই সমস্যাটির কারণেই এ গ্রামের পুরুষদের কাছে কেউ মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি হচ্ছে না। আমার দেবরও মেয়ে পাচ্ছে না’

পানি সঙ্কট এলাকার চাষাবাদ ও সামাজিক জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। জেলা প্রশাসক এ সমস্যার কথা স্বীকার করলেও এটির সমাধান করতে অনেক সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন। তবে তারা তেহরিমারিয়া গ্রামে একটি ড্যাম নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এজন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে খুব শিগগিরি। তবে পুরো কাজ সম্পন্ন হতে দেড় থেকে দু বছর সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন এক সরকারি কর্মকর্তা। ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই যাদবদের।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে