Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.6/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-৩০-২০১৬

এক ক্যাম্পাসে তিন সরকারি বিদ্যালয়

এক ক্যাম্পাসে তিন সরকারি বিদ্যালয়

রাজশাহী, ৩০ মার্চ- রাজশাহী নগরের শেখপাড়া এলাকায় একই ক্যাম্পাসের মধ্যে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে। তিনটিতেই নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক রয়েছে। কিন্তু কোনোটিতেই শিক্ষার্থী নেই পর্যাপ্ত। অথচ নগরের তিনটি ওয়ার্ডের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করার মতো সরকারি কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ই নেই।

স্থানীয় শিক্ষা কার্যালয় থেকে বিষয়টি মহাপরিচালককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এর কোনো সুরাহা হয়নি।

শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, শেখপাড়া এলাকার যে মাঠে বর্তমানে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, সেই মাঠে ১৮৫৯ সালে ব্রাহ্মসমাজ একটি ধর্মশালা গড়ে তুলেছিল। ১৮৯৩ সালে ব্রাহ্মসমাজের পক্ষ থেকে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে এসেছিলেন। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার জন্য তাঁর ‘ঝুলন’ কবিতাটি আবৃত্তি করেছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন তারিণী বাবুর পাঠশালা নামে এটি পরিচিত ছিল। তারিণী বাবু জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। পাঠশালার প্রধান ছিলেন। ১৯৫১ সালে রাজশাহী পৌরসভার চেয়ারম্যান ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি মাদার বক্সের উদ্যোগে ও স্থানীয় জমিদার ও বিদ্যোৎসাহী খালেক চৌধুরী তারিণী বাবুর পাঠশালার পাশে একটি টিনশেডের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। নাম দেন হোসেনীগঞ্জ বালক বিদ্যালয়। মেয়েদের শিক্ষা বিস্তারের জন্য ১৯৫২ সালে একই জায়গায় এলাকার বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি আলী আজম হোসেনীগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। অপরদিকে নগরের হেতেম খাঁ সবজিপাড়ায় ১৯৫৭ সালে বিদ্যোৎসাহী নাসির উদ্দিনের বাড়িতে শ্রমজীবী শিশুদের জন্য চালু করা বিদ্যালয়টি ১৯৬২ সালে হোসেনীগঞ্জ বালক বিদ্যালয় ভবনে সকালের পালায় চালু করা হয়। ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করা হয়। এই বিষয়গুলো জানিয়ে ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষার তৎকালীন বিভাগীয় উপপরিচালক মনজুর কাদির মহাপরিচালক বরাবার একটি চিঠি দিয়েছেন। 

বর্তমানে তিনটি বিদ্যালয়ের একই সাইনবোর্ড। তাতে লেখা রয়েছে ‘হোসেনীগঞ্জ বালক বালিকা ও জনকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শেখপাড়া, বোয়ালিয়া, রাজশাহী’। বিদ্যালয়গুলো নগরের শেখপাড়ায় অবস্থিত হলেও বিদ্যোৎসাহী খালেক চৌধুরী হোসেনীগঞ্জ নিবাসী হওয়ায় বিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে হোসেনীগঞ্জ যুক্ত করা হয়েছে। এখন একই মাঠের উত্তর পাশে হোসেনীগঞ্জ বালক বিদ্যালয় ভবন। দক্ষিণ পাশের চার তলাবিশিষ্ট ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় হোসেনীগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয় এবং তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় সমাজকল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে। দুটি ভবনের সামনে দুটি পতাকা স্ট্যান্ড। তৃতীয় তলায় থাকার কারণে সমাজকল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো পতাকা নেই। বালক বিদ্যালয়ের পাঁচটি শ্রেণিতে মোট ৪৩ জন, বালিকা বিদ্যালয়ে ১০৫ ও জনকল্যাণে ৬৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই পরিমাণ শিক্ষার্থীর জন্য একটি বিদ্যালয়ই যথেষ্ট। অন্যান্য এলাকায় একটি বিদ্যালয়েই এর চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এই শিক্ষার্থীদের বিপরীতে বালক বিদ্যালয়ে পাঁচজন, বালিকা বিদ্যালয়ে সাত ও জনকল্যাণ বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক রয়েছেন।

এদিকে নগরের ৮ নম্বর, ১৫ নম্বর ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এসব ওয়ার্ডের শিক্ষার্থীরা পাশের ওয়ার্ডের বিদ্যালয়ে অথবা বেসরকারি বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করছে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালক আবুল খায়ের বলেন, সচিব পর্যন্ত বিষয়টি দেখে গেছেন। এটি নতুন নয়। এখন দেখা যাক কী করা যায়।

এস/১৩:৫৫/৩০ মার্চ

রাজশাহী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে