Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (25 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-৩০-২০১৬

বরগুনায় ডায়রিয়ার প্রকোপ

বরগুনায় ডায়রিয়ার প্রকোপ

বরগুনা, ৩০ মার্চ- বরগুনায় হঠাৎ করেই ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চলতি মাসে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩৯২ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২৫ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার পাথরঘাটা, বামনা, বেতাগী, আমতলী ও তালতলী এলাকার বিভিন্ন গ্রামেও ব্যাপক হারে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এ দুই মাসে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ৪৭৩ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। আর ২৮ মার্চ পর্যন্ত কেবল বরগুনা জেনারেল হাসপাতালেই ৩৯২ জন রোগী ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিয়েছেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা ইউনূস আলী বলেন, ঋতু পরিবর্তনের প্রভাবে ডায়রিয়ার প্রকোপ আকস্মিক বেড়েছে। গরম-ঠান্ডার মিশেল আবহাওয়ার কারণে এটা হচ্ছে। এ জন্য বাসি-পচা খাবার পরিহার করা, মাছির কবল থেকে খাবার নিরাপদ রাখা এবং বাইরের খাবার খাওয়া যাবে না। বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে স্যালাইন খাওয়ানো শুরু করা ও গুরুতর হলে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে ডায়রিয়ার প্রকোপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আক্রান্ত রোগীদের বেশির ভাগই বাড়িতে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নিয়েছে। কেবল গুরুতর রোগীরাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্র জানায়, মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে এখানে প্রতিদিন গড়ে ২৫ জন করে ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছেন। হাসপাতালের ২০ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় বারান্দা ও মেঝেতে রেখে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসকদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের চারদিকে মশা-মাছি ভনভন করছে। পাশের খোলা নর্দমা থেকে ওয়ার্ডে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। শৌচাগারগুলোর অবস্থাও নোংরা।

বারেক হাওলাদার (৪৫) নামের একজন রোগী বলেন, ‘চাইরপাশে যে দুর্গন্ধ, হ্যাতে এইখানে থাকলে আরও অসুস্থ অওন লাগে। কী হরমু মোরা গরিব, যামু কই?’ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর বাবা আবদুর রহমান বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর মেয়েকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করার পর হাসপাতাল থেকে মাত্র একটি স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। বাকি সব স্যালাইন ও ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।

জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসক-সংকট থাকায় রোগীদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে স্যালাইন ও ওষুধের সংকট নেই।

এস/১৩:৩৫/৩০ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে