Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-৩০-২০১৬

সরকারি পাহাড়ের সেই আবাসন প্রকল্প উচ্ছেদ

সরকারি পাহাড়ের সেই আবাসন প্রকল্প উচ্ছেদ

কক্সবাজার, ৩০ মার্চ- কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত-সংলগ্ন সৈকতপাড়ায় সরকারি পাহাড় কেটে তৈরি করা সেই আবাসন প্রকল্পটি গতকাল মঙ্গলবার উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে আবাসন প্রকল্প তৈরির সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

কয়েকজন প্রভাবশালী সৈকতপাড়ার সরকারি পাহাড় কেটে আবাসন প্রকল্পটি তৈরি করছিল। ২৮ মার্চ জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় অবৈধ আবাসন প্রকল্পটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ১০টার দিকে সরকারি কর্মকর্তারা সৈকতপাড়ার সরকারি পাহাড়ে গেলে অবৈধভাবে তৈরি করা ঘরবাড়ি ফেলে লোকজন পালাতে থাকে। বেলা দুইটা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পাহাড় কেটে তৈরি প্রায় ৮০টি টিনের ঘর গুঁড়িয়ে দেন। উচ্ছেদ অভিযানের খবর পেয়ে অনেকে আগের রাতে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম জানান, উচ্ছেদ করা ঘরগুলো সেখানেই পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে একাধিক বিদ্যুতের সংযোগ। পাশাপাশি অন্যান্য পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের সরে যেতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযান শুরুর আগে লোকজন আবাসন প্রকল্প এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ কারণে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে যারা সরকারি পাহাড় কেটে আবাসন প্রকল্প তৈরি করেছে, তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে মামলা করা হবে।

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাজহারুল ইসলাম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম, কক্সবাজার ৩৩ আনসার ব্যাটালিয়নের কমান্ডার মুফিজুর রহমান, কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব কান্তি নাথ।

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কেটে অন্তত পাঁচ হাজার অবৈধ স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। এসব স্থাপনাও উচ্ছেদ জরুরি।

ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) সভাপতি ইব্রাহীম খলিল বলেন, সম্প্রতি কক্সবাজারে পাহাড় নিধন উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হলেও মূল হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বলেন, শহরের একাধিক পাহাড় দখল করে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে। কিন্তু এসব স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ সম্ভব নয়। কারণ, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা পাহাড়ে বসবাসের সুবিধা দিচ্ছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পাহাড় কেটে চলাচলের রাস্তা করে দিচ্ছে। পাচ্ছে বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধা। তাই পাহাড়ে বসতি দিন দিন বাড়ছে।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, সরকারি পাহাড় কেটে কাউকে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে পাহাড়ের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

এস/১৩:১০/৩০ মার্চ

কক্সবাজার

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে