Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-৩০-২০১৬

রিজার্ভের অর্থ ফিলিপাইনে ভাগবাটোয়ারা হয় যেভাবে

রিজার্ভের অর্থ ফিলিপাইনে ভাগবাটোয়ারা হয় যেভাবে

ম্যানিলা, ৩০ মার্চ- হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি করে নেয়ার ঘটনায় দুই চীনা ব্যবসায়ীর নাম প্রকাশ করে অর্থ ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘ বক্তৃব্য রেখেছেন ঘটনার প্রধান হোতা হিসাবে পরিচিত সেই বিতর্কিত ব্যবসায়ী কিম অং। মঙ্গলবার সিনেটের ব্লু রিবন কমিটির শুনানিতে তিনি বলেন, ৮ কোটি ১০ লাখ  ডলার এদেশে এনেছে দুই বিদেশি। এদের একজন বেইজিংয়ের শুহুয়া গাও এবং ম্যাকাওয়ের ডিং জিজে।

শুনানিতে অং বলেছেন, গাও প্রায়ই ফিলিপিনে যাওয়া-আসা করেন এবং গত আট বছর ধরে জুয়ার মক্কেল (জাঙ্কেট এজেন্ট) এনে দেন। এই মহলে পরিচিতি রয়েছে তার। ম্যাকাওয়ের ব্যবসায়ী ডিংকেও তিনিই তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

অং বলেন, গাও একবার সোলায়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোতে এক সপ্তাহের মধ্যে ৪৫০ মিলিয়ন ফিলিপিনো পেসো (প্রায় এক কোটি  ডলার) হেরে ওই অর্থ তার কাছ থেকে ধার করেছিলেন। জাঙ্কেট অপারেটর হিসেবে জুয়াড়িদের গ্যারান্টার ও তাদের থাকা, ভ্রমণসহ নানা ধরনের সেবা প্রদান করেন কিম অং।

বাংলাদেশ থেকে চুরি হওয়া টাকার মধ্যে ১ বিলিয়ন পেসো তার কোম্পানি ইস্টার হাওয়াই লেইজার কোম্পানি লিমিটেডে গিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে ৪৫০ মিলিয়ন পেসো ধার পরিশোধ হিসেবে দিয়েছিলেন গাও। বাকি ৫৫০ মিলিয়ন চিপস-এ রূপান্তর করে তার ক্যাসিনোয় খেলা হয়েছিল এবং পুরো টাকাটা হেরে গিয়েছিল। ধারের অর্থ হিসেবে যে ৪৫০ মিলিয়ন পেসো পেয়েছিলেন সেটা এখন অং ফেরত দিতে রাজি বলে শুনানিতে তিনি বলেছেন।

কিম অং বলেন, গাও তার কাছ থেকে যখন অর্থ ধার করেছিলেন সে সময় রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) মাকাতি সিটির জুপিটার স্ট্রিট শাখার ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস-দেগুইত তাকে ওই শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট খোলার অনুরোধ করেন। তখন গাওকে তার কাছে পাঠান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে সঞ্চিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ থেকে হাতিয়ে নেওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার আরসিবিসির এই শাখা দিয়েই ফিলিপাইনে ঢোকে। অং বলেন, ২০১৫ সালের মে মাসের কোনো এক সময় মিডাস হোটেলে তার অফিসে গাও ও তার সঙ্গে দেগুইতের সাক্ষাৎ হয়।

সে সময় গাও একটি ডলার অ্যাকাউন্ট খুলতে চাইছিলেন। তবে দেগুইতো তখন  বলেন কোনো একটি কোম্পানির অ্যাকাউন্টের জন্য তাদের পাঁচজনের অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে । এর দুই থেকে তিনদিনের মাথায় পাঁচটি ডলার অ্যাকাউন্টের জন্য দেগুইতো তাকে ফোন করে আড়াই হাজার ডলার চান।

এরপর গত ৪ ফেব্রুয়ারি গাও তাকে বলেন যে, তিনি ও ডিং ম্যাকাওয়ে তাদের ক্যাসিনো বন্ধ করে ম্যানিলায় বিনিয়োগ করতে চাইছেন। পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি সোলায়ার হোটেলে গাও ও ডিং এর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয় এবং তারা দুজন তাকে বলেন দেগুইতো ফোন করে ওই পাঁচ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘চেক’ করতে বলেন।

অং বলেন, কয়েক দফা ফোন করার পর দেগুইতো বেলা ১টার দিকে ফোন করে তাদের জানান মোট ৮১ মিলিয়ন ডলার তাদের অ্যাকাউন্টে আসতে শুরু করেছে। এ সময় দেগুইতো ওই হোটেলে টাকা নিয়ে আসতে অনুরোধ করেন তিনি। দেগুইতোর অনুরোধে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফিলরেম সার্ভিস করপোরেশনের  মিকাইল বাউতিস্তা  ৮০ মিলিয়ন পেসো নিয়ে  আসেন। পরে দেগুইতো আরও ২০ মিলিয়ন পেসো নিয়ে আসেন।

এরপরেও বাউতিস্তার বাড়ি থেকে তিনি ৩০০ মিলিয়ন পেসো এবং ৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেন বলে অং জানান। এরমধ্যে ৯ ফেব্রুয়ারি ১০০ মিলিয়ন পেসো ও তিন মিলিয়ন ডলার, ১০ ফেব্রুয়ারি ১০০ মিলিয়ন পেসো ও দুই মিলিয়ন ডলার এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি বাকি ১০০ মিলিয়ন পেসো সংগ্রহ করেন বলে জানান তিনি। এই অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত পাঁচটি অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে কাগজপত্র জালিয়াতির জন্য দেগুইতোকেই দায়ী করেন অং।

হাতিয়ে নেওয়া মোট ৮ কোটি ১০ লাখডলারের মধ্যে ৬৩ মিলিয়ন ডলারের মতো মিডাস ও সোলাইরি ক্যাসিনোয় গেছে বলে জানান তিনি। দেগুইতোর দেওয়া বক্তব্যের সূত্র ধরেই এ জালিয়াতিতে কিম অংয়ের নাম আসে। সিনেট কমিটির সামনে আসার আগে স্থানীয় গণমাধ্যমের সামনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন তিনি।

ব্লু রিবন কমিটির সদস্য সিনেটর সের্গিও ওসমেনাকে উদ্ধৃত করে ইনকোয়ারার এর আগে জানিয়েছিল, কিম অংই ওই ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো দেগিতোকে খুলতে বলেছিলেন। ফিলরেমেও ডলার ভাঙানোর নির্দেশও তিনিই দিয়েছিলেন।

অবৈধ মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সে সময় ৩৯ বছর বয়সী অংকে ডাকা হয়েছিল। এক সিনেটরের সঙ্গে মাদক চোরাচালানিদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে ।

এফ/০৮:৩৩/৩০মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে