Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (22 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-২৯-২০১৬

জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাস এখন নিজস্ব ভবনে

কাজী ইনসানুল হক


জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাস এখন নিজস্ব ভবনে
নবনির্মিত বাংলাদেশ দূতাবাস ভবন

টোকিও, ২৯ মার্চ- অবশেষে ২৫ মার্চ শুক্রবার থেকে জাপানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের দূতাবাস নতুন ঠিকানা (চিওদা কু-র, কিওই-চো এলাকায়) নিজস্ব জমিতে নির্মিত ভবনে কার্যক্রম শুরু করেছে। টোকিওর মেগুরো কুর বর্তমান দূতাবাস ভবনের দুটো অংশই আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকারী থাকবে। অবশ্য অতি জরুরি কনস্যুলার বিভাগের কার্যক্রমের ডেটাবেজ সংরক্ষণ ও বিবিধ কারণে সমান্তরাল একটা নেটওয়ার্ক আরও কিছুদিন দুই জায়গায় যোগসূত্র রক্ষা করে চলবে।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন

জাপান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এলাকা পার্লামেন্ট ভবন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছাকাছি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থে জাপান সরকারের কাছ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি কিস্তিতে কেনা ৭১৪ বর্গ মিটার জমিতে প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটি এখন জাপানে বাংলাদেশের মর্যাদার প্রতীক। লাল সবুজ পতাকার বাংলাদেশ এখন বিশ্বের তৃতীয় পরাশক্তি জাপানের রাজধানী টোকিওর প্রাণকেন্দ্রে সদর্পে দাঁড়িয়ে।

বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনের নতুন ঠিকানা:
3-47 Kioi-Cho, Chiyoda-Ku,
Tokyo 102-0094, Japan
যোগাযোগ: Nagata-cho Station, Exit: 9 B
ইমেইল: bdembjp@yahoo.com

দূতাবাস ভবন সম্পর্কিত তথ্য


ছবিতে বাঁ থেকে রাষ্ট্রদূত আশরাফ-উদ দৌলা, এ কে এম মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, মাসুদ বিন মোমেন ও রাবাব ফাতিমা

জমির পরিমাণ: ৭১৪ বর্গ মিটার। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন ৭১৪ বর্গ মিটার সমতল ভূমি, ১১১ কোটি ইয়েন (প্রায় এক কোটি ডলার) মূল্যে পাঁচ বছর মেয়াদি সুদহীন কিস্তিতে বাংলাদেশ সরকার ক্রয় করতে সক্ষম হয়। ইমারত: ৪৪৫.৬৫ বর্গ মিটার। ফ্লোর স্পেস: ১৪২৭.৩০ বর্গ মিটার। নকশা ও স্থাপত্য উপদেষ্টা: KPA (জাপান) ও Vernacular Architects (বাংলাদেশ)। নির্মাণ প্রতিষ্ঠান: Muramoto Corporation। নির্মাণ ব্যয়: ৯০ কোটি টাকা। নির্মাণকাজ সমাপ্তির সময় ছিল ২০১২ সাল। প্রকৃত সমাপ্তি: মার্চ ২০১৬।

২০১০ সালের ২৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১২ সালে নির্মাণ সমাপ্তির সময়সীমা থাকলেও প্রায় চার বছর দেরিতে তা সম্পন্ন হয়। জাপানে বিধিবদ্ধ নিয়মকানুন, বাংলাদেশের সরকারি কার্যক্রমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এই বিলম্বের কারণ। একটি সূত্রে জানা গেছে গত কয়েক বছরে বেশ কটি দেশ জাপানে তাদের দূতাবাস নির্মাণ করেছে। কিন্তু এতটা সময়ক্ষেপণ অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে হয়নি।


প্রবাসীরা বক্তব্য শুনছেন (বাঁয়ে)। দূতাবাসের ছাদে হাস্যোজ্জ্বল প্রবাসীরা (ডানে)

রাষ্ট্রদূত আশরাফ-উদ-দৌলার উদ্যোগে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণের প্রচেষ্টা শুরু হয়। দুই সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ ও তা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার দুরূহ কাজে সে সময়ের দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবদান ছিল। ৱাষ্ট্রদূত দৌলার সময়ে একাধিক কিস্তির টাকাও পরিশোধ করা হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূত মুজিবুর রহমানের সময় প্রধানমন্ত্রী দূতাবাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তার সময়ে প্রাথমিক কাজও সম্পন্ন হয়।

নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শুরু না হওয়া, এত ছোট কাজে বড় বড় নির্মাতার অনীহা, নানান জটিলতায় একসময় নির্মাণকাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন তার কার্যকালে আবার উদ্যোগ নেন এবং তার সহকর্মী দূতাবাস কর্মকর্তাদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতায় ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহ ও নির্দেশে শেষ পর্যন্ত এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সদ্য নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার সময় দূতাবাস ভবনের কাজ সম্পন্ন ও স্থানান্তর হচ্ছে। সম্পৃক্ত চারজন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আমরা জাপান প্রবাসীরা কৃতজ্ঞতা জানাই।

দূতাবাস ভবনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বাঙালি স্থপতি, একদা জাপান প্রবাসী ড. মাসুম ইকবাল। জাপানপ্রবাসীরা বিশেষ একটি কারণে তাকে মনে রাখবেন, প্রবাসীদের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি সর্ব প্রথম জাপানে শহীদ মিনার নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বৈশাখী মেলা কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশের পরম হিতৈষী জাপানি বন্ধুদের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারের অর্থে টোকিওতে শহীদ মিনার নির্মিত হয়। টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনের ডিজাইন প্রণয়নের সঙ্গে স্থপতি মাসুম ইকবাল ও তার প্রতিষ্ঠান জড়িত হওয়ার এই ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যময়।

এফ/১৫:৪৪/২৯মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে