Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.2/5 (13 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২৯-২০১৬

প্রেমিকের হৃৎপিণ্ড বের করে আনা সেই তরুণীর ফাঁসির আদেশ

প্রেমিকের হৃৎপিণ্ড বের করে আনা সেই তরুণীর ফাঁসির আদেশ

খুলনা, ২৯ মার্চ- বাংলাদেশে প্রেমিককে হত্যার পর তার বুক কেটে হৃৎপিণ্ড বের করে আনার অপরাধে এক তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। দুই বছর আগে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল খুলনায়। সরকারি আইনজীবী বলেছেন, ওই তরুণীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিয়েছে। রায় ঘোষণার সময় ওই তরুণী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই তরুণীটিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খুলনায় সরকারি আইনজীবী সাব্বির আহমেদ বলেছেন, তরুণীর জবানবন্দিতে প্রেমিককে হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা ছিল। তদন্তে এবং বিচারে তা প্রমাণ হয়েছে।

তিনি বলেন, মেয়েটি ঘুমের বড়ি কিনেছিল। কিনেছিল কোমল পানীয় আরসি কোলা। ওই পানীয়ের মধ্যে সে ঘুমের ওষুধ মিশিয়েছে। তারপর সাথে করে একটা ছুরিও নিয়ে গেছে। ছেলেটাকে সে ওই পানীয় খেতে বলে। ছেলেটা সেটা পান করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে অচেতন হয়ে যায়। প্রথমে ওর গলা কাটে। মৃত্যু হওয়ার পর ও বলে যে ছেলেটা কত বড়ো দুশ্চরিত্র আর কলিজার অধিকারী সেটা দেখার জন্য সে বুক চিরে কলিজা বের করে সেটা সে খাটের ওপর রাখে।

সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর বলেছেন, এসব বর্ণনা তরুণীর স্বীকারোক্তির মধ্যেই আছে। ২১ বছর বয়সী এই তরুণী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিলেন। নিজের বাবা মা না থাকায় তিনি আরেকজন মহিলার সাথে থাকতেন। সাব্বির আহমেদ বলেছেন, আদালত প্রমাণ পেয়েছে যে তরুণীটি প্রেমে প্রতারিত হওয়ায় প্রেমিককে হত্যা করেছেন। তিনি বলেন, মেয়েটি তার জবানবন্দিতে বলেছেন, ছেলেটি ছিলো দুশ্চরিত্রের। ওর মা যখন খুলনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তখন মাকে দেখতে গেলে ছেলেটির সাথে মেয়েটির দেখা হয়। সেখান থেকেই প্রেমের শুরু।

তিনি বলেন, ছেলেটি ওই হাসপাতালের খণ্ডকালীন লিফ্টম্যান হিসেবে কাজ করতো। মেয়েটি যখন লিফটে উঠতো ছেলেটি লিফট বন্ধ করে দিয়ে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক পর্যন্ত হয়। একপর্যায়ে ছেলেটি এই সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে। আহমেদ বলেন, তারপরই মেয়েটি তার প্রেমিককে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় বলে মেয়েটি তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন।

মামলায় আরেকজন অভিযুক্ত খালাস পেয়েছেন। দরিদ্র পরিবারের এই তরুণীর পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল। এখন জজ আদালতে মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় আইন অনুযায়ী তা অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে যাবে। সেখানে আসামিপক্ষের আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

এস/১৩:৫০/২৯ মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে