Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৩-২৬-২০১৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা পাঁচ মূহুর্ত

সামিউল ইসলাম শোভন


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা পাঁচ মূহুর্ত

মূল পর্বের একটিও ম্যাচে জেতা হয়নি বাংলাদেশের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড রানের হারের বোঝা কাঁধে নিয়েই মিশন শেষ হচ্ছে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। তারপরেও প্রাপ্তির খাতায় যোগ হয়েছে বেশকিছু সাফল্যও। বাছাইপর্ব থেকে শুরু করে শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই; সেরা কিছু মূহুর্ত খুঁজতে সহজ হয়নি একেবারে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে এমন পাঁচটি সেরা মূহুর্ত নিয়েই এবারের আয়োজন। জানাচ্ছেন- সামিউল ইসলাম শোভন

মুস্তাফিজের পাঁচ উইকেট ও রেকর্ড


ইনজুরির কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হয়েছে মাত্র তিন ম্যাচ। এর মধ্যেই বাজিমাত করতে ছাড়েননি ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান। শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তুলে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। বাংলাদেশের পক্ষে এই রেকর্ড আগে ছিলো মাত্র একজনের। তিনি স্পিনার ইলিয়াস সানি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩ রানে এই কীর্তি গড়েন তিনি। অন্যদিকে, মুস্তাফিজুর রহমান খরচ করেছেন ২২ রান। তবে বিশ্বকাপের আসরে এমন অর্জন এটাই প্রথম। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে দুইটি করে নিয়েছেন চার উইকেট। অর্থাৎ, তিন ম্যাচে ঝুলিতে ভরেছেন নয় উইকেট। ওয়ানডে ক্রিকেটে মুস্তাফিজ সবমিলিয়ে তিনবার এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিলেও, টি-টোয়েন্টিতে এবারই প্রথম। 

সাকিবের ফেরা


এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটা ভালো কাটেনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটার ও বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। সমালোচনার মুখে পড়তে তাই মূহুর্ত সময় লাগেনি। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়েই স্বরূপে ফিরেছেন তিনি। শুরুটা হয় প্রথম পর্বে ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। তিন ওভার বল করে মাত্র ১৫ রান খরচ করে এই উইকেটগুলো নেন সাকিব। ব্যাট হাতেও ফিরেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪০ বলে ৫০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। এই টুর্নামেন্টেই টি-টোয়েন্টিতে এক হাজার রানের মাইলফলক পার করেন এই অলরাউন্ডার। 

তামিমের সেঞ্চুরি


কোচ হাতুরুসিংহেকে নাকি আগেই বলেছিলেন, তিনিই সেঞ্চুরি করবেন। ওমানের বিপক্ষে সাকিবের চার উইকেট নেওয়ার দিনই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট এই ফরম্যাটে শতক তুলে নিয়ে কথা রাখলেন ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। আইসিসির সহযোগী দেশটির বিপক্ষে মাত্র ৬৩ বল মোকাবেলা করে এই কীর্তি গড়েন তামিম। ইনিংসে ছিলো পাঁচটি ছয় আর ১০টি চার। শুধু তাই নয়, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও চোখে লেগে থাকার মতো ইনিংস খেলেন তামিম। সেবার ৫৮ বলে ৮৩ রান করেছিলেন তিনি। 
জানিয়ে রাখা ভালো, বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই বাংলাদেশের পক্ষে ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট এই ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রানের মালিক হন তামিম। সর্বপ্রথম এক হাজার রানের মাইলফলও তারই পার করা।

সৌম্যের ক্যাচ


স্লিপে দাঁড়ানোর ব্যাপারে কি ভীতি আছে সৌম্য সরকারের? একাধিক ক্যাচ ছাড়া দেখে হয়তো তা যে কারো মনে হতে পারে। সমালোচনার ধারটাও ছিলো বেশ। কিন্তু ৩০ গজের বাইরে সৌম্য সরকার যে ফিল্ডার হিসেবে সেরাদের কাতারে, সেটা কিংবদন্তি প্রোটিয়া ফিল্ডার জন্টি রোডসের সৌম্যকে করা টুইট থেকেই টের পাওয়া যায়। পাকিস্তান আর ভারতের বিপক্ষে তার নেওয়া অসাধারণ দুটি ক্যাচ হয়তো স্থান পাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জুড়ে পাওয়া স্মরণীয় মূহুর্তের মধ্যেও। 

পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৬ তম ওভারের চতুর্থ বল। পাকিস্তানির মোহাম্মদ হাফিজের স্লগ সুইপটায় যথেষ্ট ধার ছিল। বোলার আরাফাত সানিও নিশ্চিত ছিলেন, ছক্কা হয়ে যাবে। তখনই দৃশ্যপটে হাজির সৌম্য সরকার। মিড উইকেটের সামনে বাউন্ডারিতে রীতিমত উড়ে গিয়ে কয়েক দফার চেষ্টায় তিনি ধরলেন দুর্দান্ত এক ক্যাচ। ব্যাস সাজঘরে ফিরে গেলেন মোহাম্মদ হাফিজ। এই ক্যাচের পর পুরো সময় জুড়েই আলোচনায় ছিলেন সৌম্য।

দ্বিতীয় দফায় আরো একটি অসাধারণ ক্যাচ নেন ভারতের বিপক্ষে। ব্যাঙ্গালুরুর চিন্নস্বামী স্টেডিয়ামে  তখন ১৫ তম ওভারে ব্যাট করছে ভারত। বোলার আল-আমিন হোসেন। হার্দিক পান্ডের পুলের ধারটা যথেষ্টই ছিল। স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে সীমানার পথে সেই শটটি। দৌড়ে এসে নিজেকে শূন্যে ভাসিয়ে দিয়ে তালুবন্দী করে নিলেন বলটি। 
তবে ফিল্ডার হিসেবে সুনাম কুড়ালেও, ব্যাটসম্যান হিসেবে একেবারেই নিজের নাম রাখতে সক্ষম হননি সৌম্য। সাত ম্যাচে তার ব্যাটে বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র ৭৫ রান। যার মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে ০,১ ৯ ও ৬ রানের ইনিংস। 

ছয়টি বোল্ডের রেকর্ড


নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৫ রানের হার। টি-টোয়েন্টিতে এটাই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রান। কিন্তু ব্ল্যাক ক্যাপসদের আট উইকেটে ১৪৫ রানে বেঁধে ফেলার দিন সবমিলিয়ে ছয়টি বোল্ড আউট করে বাংলাদেশ। যার মধ্যে আল-আমিন হোসেন ও মাশরাফি বিন মুর্তজা একটি করে এবং মুস্তাফিজুর রহমান চারটি। এর আগে এমন রেকর্ড ছিলো দুইটি। সবগুলোই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসরে। প্রথমটি ২০০৯ বিশ্বকাপে; ওভালে স্কটল্যান্ডের ৬ ব্যাটসম্যান বোল্ড হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। পরেরটি চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।   হংকংয়ের ৬ ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করেছিলেন নেপালের বোলাররা।  

এফ/২৩:৪৫/২৬মার্চ

ক্রিকেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে