Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৩-২৬-২০১৬

বাঙালির অবিস্মরণীয় দিন ২৬ মার্চ

বাঙালির অবিস্মরণীয় দিন ২৬ মার্চ

ঢাকা, ২৬ মার্চ- শনিবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৫ বছর পূর্তি দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসে এই দিনটি অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল ও অবিস্মরণীয় একটি দিন।

ভারত বিভক্তির পর পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী বাঙালির ওপর অর্থনৈতিক ও সামাজিক শোষণ-নির্যাতন এবং ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন চালাতে থাকে। দীর্ঘদিনের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি উত্তাল হয়ে ওঠে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।  

১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে পাকিস্তান ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের যাতাকল ও পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে বিশ্বের বুকে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্থান করে নেয়। 

এ দিন আবারও ডাক আসে সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামের। চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য এই দিন থেকেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম-সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। অস্ত্র হাতে বাঙালি জাতি ঝাপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। এই দিনটি বাঙালির পরম আনন্দ ও আত্ম মর্যাদার দিন। 

এ দিনটি বাঙালি জাতির কাছে গৌরবের পাশাপাশি শোকাবহ বেদনার দিনও। ২৫ মার্চ রাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অতর্কিতে হামলা করে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। অত্যাধুনিক অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বোরোচিত হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞে মেতে ওঠে। 

ওই রাতেই বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে গভীর রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়। 
গ্রেফতার হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা সম্বলিত একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তার এই স্বাধীনতা ঘোষণার বার্তাটি তৎকালীন ইপিআর এর ওয়্যারলের্স থেকে প্রচার করা হয়েছিল। 

বঙ্গবন্ধু তার ঘোষণায় বলেছিলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অতর্কিতে পিলখানার ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমণ করেছে। শহরের লোকদের হত্যা করছে। ঢাকা, চট্টগ্রামের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে। বিশ্বের সকল জাতির কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। দেশ স্বাধীন করার জন্য তিনি শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো আপোস নেই, জয় আমাদের হবেই।

যদিও এর আগেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু তেজদিপ্ত কণ্ঠে উচ্চারিত হয়। ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। যার যা কিছু আছে তাই নিয়েই প্রস্তুত থাক। ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো।’ 

তার এই ভাষণের মধ্য দিয়েই তিনি বাঙালি জাতিকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে স্বাধীনতা ঘোষণা করে জনগণকে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর এই স্বাধীনতার ঘোষণা ইপিআর এর ওয়ালেসের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ায় ২৬ মার্চ থেকেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। সর্বস্তরের বাঙালি ঝাপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। সারাদেশে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ।

দীর্ঘ ৯ মাস চলে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। এই যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ জীবন দেন। সম্ভ্রম হারান ২ লাখ মা-বোন। বাঙালি বীরযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে বাঙালির মহান বিজয় অর্জিত হয়।  

এবারের স্বাধীনতা দিবস 
এবারের স্বাধীনতা দিবস যখন উদযাপিত হচ্ছে, তখন চলছে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ। মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এদেশীয় দোসর, যারা সরাসরি গণহত্যা, ধর্ষণসহ ধ্বংসযজ্ঞে লিপ্ত ছিলো, গত কয়েক বছর ধরে পর্যায়ক্রমে তাদের বিচার কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও পরে উচ্চ আদালতের রায়ে ইতোমধ্যে চারজনের ফাঁসি হয়েছে। আরও কয়েকজনের বিচারের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে।

এফ/১০:০৪/২৬মার্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে